advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ৫০০ একর কৃষিজমি ৩২ বছর অনাবাদি

মাহফুজ মল্লিক মতলব দক্ষিণ
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

ধানচাষি খলিল ঢালীর (৪৫) ৩০ শতাংশ জমিতে বছরজুড়েই লেগে থাকে জলাবদ্ধতা। সেখানে কোনো ফসলের আবাদ করতে পারেন না। প্রায় ৩২ বছর ধরে চলছে এ অবস্থা। খলিলের অভিযোগ, বিষয়টি চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানিয়েও কাজ হয়নি।

এটি মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরের এক কৃষকের করুণ চিত্র। খলিল ঢালীর বাড়ি ওই উপজেলার ঠেটালিয়া গ্রামে। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে খলিলের মতো তার পাশের ফতেপুর গ্রামের হারুনুর রশিদ ও বাবুল মিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক চাষি তাদের কৃষিজমিতে কোনো আবাদ করতে পারছেন না। ফলে প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় ৫শ একর কৃষিজমি ৩২ বছর ধরে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধটির ভেতরে পানি নিষ্কাশন খাল পরিষ্কার ও সংস্কার করার জন্য একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পটি পাস হলে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নিষ্কাশন খাল কার্যকর করে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে। বেদখল খাল দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান চালানো হবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

চাঁদপুর পাউবো ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রকল্পের বেড়িবাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার এবং এতে নিষ্কাশন খাল রয়েছে ১২৬ কিলোমিটার। বেড়িবাঁধের ভেতরে মোট জমির পরিমাণ ১৫ হাজার ৪শ ৬৪ হেক্টর। এর মধ্যে সেচযোগ্য জমি প্রায় সাত হাজার হেক্টর।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ওই সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে দেখা যায়, ঠেটালিয়া, সিপাইকান্দি, আমুয়াকান্দা, ইসলামাবাজ, ষাটনল, লুধুয়া, গজরা, ছৈয়ালকান্দি, ওটারচর, বিনন্দপুর, নন্দলালপুর, টরকি, আমিরাবাদ ও দুর্গাপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকার নিচু জমি ও ফসলি বিলগুলোয় বৃষ্টির পানি আটকে আছে। সেখানে তিন-চার ফুট জলাবদ্ধতা লেগে আছে। ওই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় কৃষকরা সেখানে কোনো আবাদ করতে পারছেন না। জলাশয় বা হাওরের মতো দেখতে বিলগুলো ভরে আছে শ্যাওলা ও বিভিন্ন আগাছায়।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সিপাইকান্দি-ফতেপুর-ঠেটালিয়া পানি ব্যবহারকারী দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী খোকন দাবি করেন, ওই সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় ৫০-৬০টি বিল রয়েছে। এসব বিলের জমিসহ আরও বেশকিছু এলাকার নিচু জমি মিলে অন্তত পাঁচশ একর কৃষিজমি বছরজুড়েই জলাবদ্ধ থাকে। জলাবদ্ধতা না দূর না হওয়ায় প্রায় ৩২ বছর ধরে কৃষকরা এসব জমিতে ধান বা অন্য কোনো ফসলের আবাদ করতে পারছেন না। এতে প্রতিবছর প্রত্যাশিত পরিমাণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে না সেচ প্রকল্পটির জমিতে। তারা অভিযোগ করেন, এসব কৃষিজমির জলাবদ্ধতা দূর করতে চাঁদপুর পাউবো কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

advertisement