advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সবার চোখের সামনেই সন্ধ্যায় বিলীন হলো বিদ্যালয়টি

রহিম সরদার উজিরপুর
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

অবশেষে এলাকাবাসীর চোখের সামনেই সন্ধ্যা নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেল উজিরপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে গুঠিয়ার আশোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি বিলীন হয়ে যায়। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনটি রক্ষার জন্য এলকার মানুষ নানা রকমের চেষ্টা করে কোনো লাভ হয়নি।

তিন মাস আগে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম নদীভাঙন পরিদর্শনকালে ওই ভবনটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২ মাস আগে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙনরোধে অস্থায়ী প্রকল্পের মাধ্যমে ঠিকাদার ৪৩ শত বস্তা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে।

জানা যায় সিডরের পরে ঐ ভাঙনকবলিত আশোয়ার গ্রামের মানুষের আশ্রয়ার্থে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবনটি নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ গ্রাসে হানুয়া ও আশোয়ার গ্রামের প্রায় ২ শত পরিবার নদীতে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। গত ২ বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি। কয়েক দিন ধরে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যায়লটি রক্ষার জন্য মানবন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছিল।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোসলেম আলি হাওলাদার জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে তাদের চোখের সামনে প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ভেতরের মালামাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকার মানুষ আংশিক উদ্ধার করলেও ভবনটি এখন নদীর মধ্যে।

গৃহবধূ রাবেয়া বেগম বলেন, কয়েক বছর ধরে নদীভাঙন আমাদের বাড়িঘর গ্রাস করে নিলেও আমরা প্রায়ই সাইক্লোন শেল্টারটিতে আশ্রয় নিয়েছি। সর্বশেষ আশ্রয়কেন্দ্রটিও নদীভাঙনে বিলীন হওয়ায় আমরা এখন নিঃস্ব। ভবিষ্যতে ঝড় বন্যায় কোথায় আশ্রয় নেব তা ভেবে পাচ্ছি না। মনে হয় আজ থেকে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছি।

স্থানীয় নাজিম খলিফা, আবুল হোসেন ফকির, জহির হাওলাদার ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য সরকারি সর্বশেষ প্রচেষ্টা জিও ব্যাগগুলো ভাঙনকবলিত স্থানে না ফেলে কোনোমতে দায়সারাভাবে মাটির ওপরে ফেলার কারণে দ্রুত বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যায়।

উপেজেলা শিক্ষা অফিসার তাসলিমা বেগম জানান, বিষয়টি শুনেছি। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম স্থানান্তর করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement