advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আবরার হত্যায় আরও তিন শিক্ষার্থী ৫ দিনের রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক
৯ অক্টোবর ২০১৯ ১৮:০৬ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ১৮:০৬
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যা মামলায় একই প্রতিষ্ঠানের আরও তিন শিক্ষার্থীর ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন এ রিমান্ডে আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১), আকাশ হোসেন (২১) ও সাসছুল আরেফিন রাফাত (২১)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরির্দশক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেক আসামির দশ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ ঘটিকায় বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে বুয়েট শের-ই বাংলা হলের রুম নং ১০১১ হতে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে গত ৭ অক্টোবর রাত অনুমান ২টা ৩০ ঘটিকা পর্যন্ত উক্ত হলের রুম নং- ২০১১ এবং রুম নং-২০০৫ এর ভেতরে নিয়ে উল্লেখিত আসামিরা এজাহার নামীয় পলাতক অন্যান্য আসামিসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্টাম্প এবং লাঠিসোঠা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড মারধর করে। যার ফলে ঘটনাস্থলেই আবরার মারা যায়।

আসামিরা আবরারের মৃত্যু নিশ্চিত করে উক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে মৃতদেহ ফেলে যায়। পরে কতিপয় ছাত্র আবরারকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। প্রকাশ্যে উল্লেখত আসামিরাসহ পলাতক এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞতনামা আসামিরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, উল্লেখিত আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামির নাম ঠিকানা জানা সম্ভব হবে।

রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে আসামি রাফাতের পক্ষে অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসানসহ কয়েজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিনের আবেদনে বলেন, আসামি মেহেদী হাসানকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সে মারধরের সঙ্গে জড়িত নয়। ডেকে নেওয়ায় তাকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। সে ছাত্রলীগও করে না।

অন্য দুই আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাদের কিছু বলা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে আসামি আকাশ জানায়, সে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায় নাই। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় দশ শিক্ষার্থীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেল (২২), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একই বিভাগ ও বর্ষের ছাত্র মুহতামিম ফুয়াদ (২২), কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (২৩), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. অনিক সরকার (২৩), অর্কিটেকচার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন (২৩), বায়োমেডিকেল তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল (২৩), ম্যাকিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুনতাসির আল জেমি (২১), ইলেকট্রেক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র  ও ছাত্র লীগ সদস্য মো. মুজাহিদুর রহমান (২২), ম্যাকিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্র লীগ কর্মী খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির (২১)  এবং ম্যাকিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইসাতিয়াক আহম্মেদ মুন্না (২১)। আসামিরা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগ থেকে বর্তমানে বহিস্কৃত।

উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে গত সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

advertisement