advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সম্রাটকে আদালতে না আনায় রিমান্ড শুনানি পেছাল

৯ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:২৬
আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ২১:০৬
advertisement

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।

এদিন এ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কারাকর্তৃপক্ষ তাকে অসুস্থতার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেছেন মর্মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠান। আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেন।

এদিকে মাদক আইনের মামলায় সম্রাটের সঙ্গে ঢাকা মহানগর যুবলীগের নেতা এনামুল হক আরমানকেও গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তাকে আদালতে হাজির করা হয়। একই আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন একইদিন ধার্য করেন।

এদিকে সম্রাটের বিরুদ্ধে কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলে কিংবা কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার ক্যাডার বাহিনী ইলেকট্রিক শক ও লাঠি দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো বলে রিমান্ড আবেদনের উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর সম্রাটকে অস্ত্র মামলায় এবং তিনিসহ সহযোগী আরমানকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ প্রত্যেক মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। যার শুনানির ওইদিন ৯ অক্টোবর ধার্য করেন সিএমএম আদালত।

অস্ত্র আইনের মামলায় রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্র আইনের মামলায় একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা রিমান্ডের আবেদন করেছেন।

অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করা হয়। আটকের সময় আরমান মাদকাসক্ত থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কাকরাইল অফিসে আরো মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার সহযোগীরা অবস্থান করছে। সেই সংবাদ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বেলা একটার দিকে কাকরাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। তার দেখানো মতে তার বেড রুমের জাজিমের ওপরে তোষকের নীচ হতে ৫ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়। রুম থেকে ২টি ইলেকট্রিক শক মেশিন ও ২ টি লাঠি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলে কিংবা কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার ক্যাডার বাহিনী ইলেকট্রিক শক ও লাঠি দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো বলে আবেদনে বলা হয়।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাকরাইলে সম্রাটকে নিয়ে অভিযানে তার দেখানো মতে সেখান থেকে ১৯ বোতল বিদেশী মদ, ৪ প্যাকেট তাস ও ১১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত মাদক দ্রব্যের কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। প্রাথমিক তদন্তে আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আরমান ক্যাসিনো সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অবৈধ মাদকের যোগানদাতা। তারা পরস্পর যোগসাজসে ঘটনাস্থলে মাদক সংরক্ষণ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরো মাদকদ্রব্য উদ্ধার দ্রব্যের মুল রহস্য উদঘাটন সম্রাট এবং আরমানের এবং অস্ত্র গুলির মুল রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।

গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে সম্রাটকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার রাজধানীর কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া পাওয়া যায়। এ চামড়া রাখার দায়ে সম্রাটকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়।

advertisement