advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বুয়েট অধ্যাদেশে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্ররাজনীতি

সানাউল হক সানী
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০১:৫৯
advertisement

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান আমলের ১৯৬২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী। যদিও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুসারে এখনো পরিচালিত হচ্ছে তৎকালীন চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। অবশ্য তখন বুয়েট ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ওই অধ্যাদেশের আওতায় নেওয়া হয়নি। এর পর সময়ের বিবর্তনে দেশে আরও অর্ধশতাধিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলোর জন্য রয়েছে আলাদা আইন; কিন্তু দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো রয়ে গেছে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশের ভেতরেই। ১৯৬২ সালের ওই অধ্যাদেশ অনুসারে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ

হলেও এখন যেন বিষয়টি ভুলেই গেছে বুয়েট প্রশাসন। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের দখলদারিত্ব সেখানে চলে আসছে বছরের পর বছর।

জানা যায়, বর্তমান বুয়েট উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ছিল ‘ঢাকা সার্ভে স্কুল’ নামের একটি জরিপ শিক্ষালয়। এর পর কালের বিবর্তনে প্রযুক্তিগত শিক্ষার তাগিদে ১৯০৮ সালে এর নামকরণ হয় ‘আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল’। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এটিকে কলেজ হিসেবে উন্নীত করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি রূপ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ’ হিসেবে। ১৯৬২ সালের ১ জুন এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে নাম দেওয়া হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়’। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)’।

১৯৬২ সালের যে অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখনো বুয়েট চলছে, তার ১৬ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছেÑ ছাত্রসংসদ, হলসংসদ ছাড়া ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের লিখিত অনুমোদন না নিয়ে কোনো ধরনের ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। এমনকি ক্যাম্পাসে সভা বা এ ধরনের কর্মকা- না করার কথাও বলা আছে তাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাক্তন ছাত্রনেতারা বলেছেন, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি প্রায় সব সংগঠনই অবগত। তবে স্বাধীনতার আগ থেকেই সেখানে মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে। তবে ওই সময় স্বাধীকার আন্দোলন জোড়ালো থাকায় নিষেধাজ্ঞাটি অবহেলিত হতে থাকে; কিন্তু স্বাধীনতার পর এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আর তেমনভাবে আলোচনা হয়নি। বিষয়টি বাস্তবায়নে কোনো ভূমিকাও ছিল না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি। কারণ গত ২০ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের হাতে বুয়েটে নিহত হয়েছেন তিন শিক্ষার্থী। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে ঘটছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের রোমহর্ষক ঘটনাও। ফলে নতুন করে আবার শিক্ষার্থীরা দাবি তুলছেন বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের। এ দাবিতে তারা আলটিমেটামও দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

২০০২ সালে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার সনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাবেক সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলের অধ্যাদেশ দিয়ে বুয়েট পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা সমাধান নয়। সবার রাজনীতির সুযোগ দিলে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য তৈরি হতো না। ২০১০ সালে ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর পরই হলে হলে ছাত্রলীগের টর্চার সেল তৈরি হয়েছে। আবরার ফাহাদ কেবল একটি ঘটনা মাত্র। বিভিন্ন হলে এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসনও এসব বিষয় জানে। ছাত্রলীগের শাস্তির পাশাপাশি হল প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও শাস্তি হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবির প্রতি আমার সমর্থন রয়েছে। বুয়েট থেকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি তুলেছে তারা, এ দাবির সঙ্গে আমি একমত। এ বিষয়ে আমি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে রাজি আছি। যেহেতু বিষয়টি আমার হাতে নেই, তাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

advertisement