advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নেতৃত্বে ছিল অনিক-সকাল

শাহজাহান আকন্দ শুভ ও মেহেদী হাসান
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:২৪
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নির্যাতনের নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা ইফতি মোশররফ সকাল ও মো. অনিক সরকার। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে এ দুজনই আবরার ফাহাদকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেন। নির্যাতনের সময় আবরার ফাহাদ প্রাণ বাঁচাতে তাদের পা জড়িয়ে ধরেন। প্রাণভিক্ষা চান। আবরার ফাহাদ এও বলেন, সে জামায়াত-শিবির রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। কিন্তু মারমুখী ছাত্রলীগ নেতাদের চ-রূপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ে রিমান্ডে থাকা ১০ আসামি এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
পুলিশের কাছে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি বলছে, আবরার ফাহাদকে ঘটনার রাতে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে দফায় দফায় পেটানো হয়। টানা প্রায় ৫ ঘণ্টা চলে এ নির্যাতন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ঘাতকরা তার কাছে জানতে চায়, বুয়েটে কারা কারা শিবির করে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে আবরার ফাহাদ কয়েকজনের নাম বলেন। ছাত্রলীগ নেতারা তার দেওয়া নামগুলোর তথ্য যাচাই করে। এতে দেখা যায়, তাদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এরপর আবরার ফাহাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকার ও ইফতি মোশররফ সকাল পেটাতে পেটাতে ভেঙে ফেলে ক্রিকেট স্টাম্প। রবিবার রাত ৮টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ এবং ২০০৫ নম্বর রুমে দফায় দফায় আবরারের ওপর এভাবে নিষ্ঠুর নির্যাতন চলে। এরপর রাত সোয়া ২টা পর্যন্ত তার নিস্তেজ দেহ নিয়ে ছোটাছুটি করেন হত্যাকা-ে জড়িতরা। আবরারকে পেটানোর সময় ছাত্রলীগের অন্তত তিন নেতা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও জানা গেছে।
আবরার শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ কক্ষের আবাসিক ছাত্র। তার কয়েকজন সহপাঠী জানান, রবিবার রাত ৮টার মধ্যে ১৭ ব্যাচের
এমই বিভাগের ছাত্র মুনতাসির আল জেমি ও একই ব্যাচের সিই বিভাগের এহতেশামুল রাব্বি তানিম তার কক্ষে যান। ওই সময়ে তারা আবরার ফাহাদকে বলে, বড় ভাই রাসেল, ফুয়াদ ও রবিন তাকে দোতলায় ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকেছেন। একপর্যায়ে ওই দুজন আবরারকে সঙ্গে করে নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন আবরারের কক্ষের পাশের কয়েকজন আবাসিক ছাত্র। আবরারকে রাত পৌনে ৮টার দিকে সকাল ও অমিত সাহার কক্ষে ধরে আনা হয়। এরপর তার মোবাইল, ল্যাপটপ সবকিছু পরীক্ষা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবরারকে শিবিরকর্মী এটা স্বীকার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ ছাড়া হলে আর কে কে শিবির করে এটা জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তাকে বেদম পেটানো হচ্ছিল। আবরার জানান, আমি শিবির করি না। এমনকি কোনো শিবিরকর্মী তার চেনাজানা নেই বলেও জানান। আবরারের কথায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে আরও বেশি মারপিট করতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রাণে বাঁচতে কয়েকজনের নাম বলেন। লাগাতার নির্যাতনে আবরার অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘাতকরা তাকে রুমে আটকে রেখে বাইরে খেতে যান এবং আবরারের জন্য খাবার আনেন। খাবার খাইয়ে আবরারের শরীরে ব্যথার মলমও দেন। আবারও শুরু হয় নির্যাতন।
প্রথমে মারধর শুরু করেন বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন। পুরো নির্যাতনে সক্রিয় অংশ নেন ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশররফ সকাল, উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুনতাসির আল জেমি, ছাত্রলীগ কর্মী ১৭তম ব্যাচের এমই বিভাগের সাদাত, একই ব্যাচ ও বিভাগের হোসেন মোহাম্মদ তোহা, ১৬তম ব্যাচের তানভীর আহম্মেদসহ আরও বেশ কয়েকজন।
দ্বিতীয় দফার মারপিট শুরু হয় মুন্নার ২০০৫ নম্বর কক্ষে। দ্বিতীয় দফায় মারপিট শুরু করেন অনিক, ছিলেন সবচেয়ে মারমুখী। আবরারের শরীরের ওপর ভাঙেন ক্রিকেট স্টাম্প। আবরার যখন মুমূর্ষু অবস্থায় তখন তাকে প্রথমে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চান ছাত্রলীগের এসব নেতা। এ জন্য ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল চকবাজার থানার ডিউটি অফিসারের নম্বরে খবর দিয়ে বলেন, এক শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়েছে, তাকে নিয়ে যান। খবর পেয়ে চকবাজার থানা থেকে টহল পুলিশের একটি দলকে শেরেবাংলা হলে পাঠানো হয়। এ হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, পুলিশের একটি গাড়ি আসে। তারা শিবিরকর্মী কোথায় জানতে চান। তবে ছাত্রলীগ তাদের পরে আর হলে ঢুকতে দেয়নি। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ চলে যায়।
জানা গেছে, নির্যাতনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আবরার ফাহাদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ঘেঁটে যখন দেখতে পান শিবিরের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই; তখন তার ১০১১ রুমে ইয়াবা রেখে তাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আবরার ফাহাদের কয়েকজন সহপাঠী ১০১১ রুমের সামনে পাহারা বসানোর কারণে সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। পরে আবরার ফাহাদ প্রাণই হারান।
গতকাল বুধবার দিনভর রিমান্ডে আনা ১০ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। পুলিশের জেরার মুখে ঘটনার বিস্তারিত তথ্যই প্রকাশ করেছে রিমান্ডে থাকা অধিকাংশ আসামিরা। আবরার হত্যাকা-ে ছত্রলীগ নেতাকর্মীদের কার কী ভূমিকা ছিল ইতোমধ্যে তার একটি চিত্র পেয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা বলেছে, আবরার ফাহাদকে জানে মেরে ফেলার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের প্রত্যেকের জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করে দেখছে। একজনের বক্তব্যের সঙ্গে আরেকজনের বক্তব্য মিলিয়ে দেখছে। গতকাল পর্যন্ত আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। ১৩ জনই এখন পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম আমাদের সময়কে বলেন, তারা রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকা-ের পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। আর যারা পলাতক আছে তাদের ধরতে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, হত্যাকা-ে জড়িত কেউই পার পাবে না।
এদিকে আবরার ফাহাদকে হত্যাকা-ের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের হাতে যে ফুটেজ রয়েছে তাতে দেখা যায়, আবরারের নিথর দেহ কক্ষ থেকে বের করছে তিনজন। তাদের পেছনে হাঁটছে আরও অন্তত পাঁচজন। ডিবি পুলিশ ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রায় সবাইকে শনাক্ত করেছে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থীরাও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করেছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, আবরারকে চ্যাংদোলা করে বের করার সময় কালো গেঞ্জি পরা অবস্থায় ছিল মো. মোয়াজ। তিনি ১৭তম ব্যাচের সিএসই বিভাগের ছাত্র। সংগঠনে তার পদ না থাকলেও তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের সক্রিয় কর্মী। পাশে ছিলেন সদস্য মুনতাসির আল জেমি, আবরারের ঠিক পেছনে ছিলেন অপর সদস্য তানিম এবং এরপরই ঠিক পেছনে ছিলেন উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল। এর কিছুক্ষণ পরই পেছন পেছন বেরিয়ে আসেন ছাত্রলীগের সদস্য মুজাহিদুর রহমান, কর্মী ও ১৭তম ব্যাচের এমএমই বিভাগের মাজেদুল ইসলাম, ১৬ ব্যাচের এমই বিভাগের তানভীর আহম্মেদ, ১৭তম ব্যাচের এমই বিভাগের মো. মোর্শেদ এবং একই বিভাগ ও ব্যাচের হোসেন মোহাম্মদ তোহা।
আবরারের লাশের পাশে রাতে যাদের দেখা গেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্ট্রেচারে থাকা আবরারের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, মোয়াজ, মেকানিক্যাল ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গেটে পাহারা বসায়, যাতে হলের কেউ বের হয়ে প্রতিবাদ করতে না পারে। অপরদিকে, হল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বুয়েটের ডাক্তার মাসুক এলাহী, প্রভোস্ট ড. জাফর ইকবাল, সহকারী প্রভোস্ট শাহিনুর রহমান, সহকারী প্রভোস্ট ড. ইফতেখার ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মিজানুর রহমান স্ট্রেচারের পাশে ছিলেন।
সেখানে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী ওই সময়ে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের কর্মকা-ের বিষয়ে বর্ণনা দেন। স্ট্রেচারে আবরারের নিথর দেহ পড়ে থাকা অবস্থায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ডাক্তার মাসুক এলাহীকে বলেন, ওকে (আবরার) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। ডাক্তার তার জবাবে বলেন, ও ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে মারা গেছে। ওকে হাসপাতালে পাঠিয়ে কী হবে?
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, আবরারকে হত্যা করে যখন তার লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন প্রভোস্ট ড. জাফর ইকবাল, সহকারী প্রভোস্ট শাহিনুর রহমান, চিকিৎসক ডাক্তার মাসুক এলাহী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমান। তাদের ঘিরে রেখেছিল খুনের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শিক্ষকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিল এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। তখন সেখানে উপস্থিত একজন শিক্ষক বলেন, কোনটা স্বাভাবিক ও কোনটা অস্বাভাবিক মৃত্যু সেটা আমরা বুঝি। তবে ছাত্রলীগের এসব নেতার অতীত কর্মকা- সম্পর্কে অবহিত থাকায় আর কোনো বিষয়ে কাউকে কোনো জেরা করেননি শিক্ষকরা। বরং তারাও আতঙ্কিত ছিলেন। ঘটনার কারণ কারও কাছ থেকে জানতে চাননি শিক্ষকরা।
আরও তিন শিক্ষার্থী ৫ দিনের রিমান্ডে
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বি হত্যা মামলায় আরও তিন শিক্ষার্থীর ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন এ রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেনÑ মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন ও সামছুল আরেফিন রাফাত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেক আসামির দশ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ ঘটিকায় বুয়েটের ইলেকট্র্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে বুয়েট শেরেবাংলা হলের রুম নং ১০১১ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে গত ৭ অক্টোবর রাত অনুমান ২টা ৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ওই হলের রুম নং ২০১১ এবং রুম নং ২০০৫-এর ভেতরে নিয়ে উল্লিখিত আসামিরা অন্য আসামিসহ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্টাম্প এবং লাঠিসোটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করে। ফলে ঘটনাস্থলেই আবরার মারা যায়। আসামিরা আবরারের মৃত্যু নিশ্চিত করে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে মৃতদেহ ফেলে যায়। পরে কিছু ছাত্র আবরারকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। উল্লিখিত আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামির নাম-ঠিকানা জানা সম্ভব হবে।
রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও এসআই মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
অন্যদিকে আসামি রাফাতের পক্ষে অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসানসহ কয়েক আইনজীবী রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিনের আবেদনে বলেন, আসামি মেহেদী হাসানকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সে মারধরের সঙ্গে জড়িত নয়। ডেকে নেওয়ায় তাকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। সে ছাত্রলীগও করে না।
অন্য দুই আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাদের কিছু বলার আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে আসামি আকাশ জানায়, সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় দশ শিক্ষার্থীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরা হলেনÑ বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেল (২২), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একই বিভাগ ও বর্ষের ছাত্র মুহতামিম ফুয়াদ (২২), কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (২৩), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. অনিক সরকার (২৩), আর্কিটেকচার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন (২৩), বায়োমেডিক্যাল তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল (২৩), মেকিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুনতাসির আল জেমি (২১), ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ সদস্য মো. মুজাহিদুর রহমান (২২), মেকিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির (২১) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না (২১)। আসামিরা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগ থেকে বর্তমানে বহিষ্কৃত।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ ঘটিকা থেকে ৭ অক্টোবর রাত অনুমান ২টা ৩০ ঘটিকার মধ্যে আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২)কে বুয়েট শেরেবাংলা হলের রুম নং ১০১১ হতে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে গত ৭ অক্টোবর রাত অনুমান ২টা ৩০ ঘটিকা মধ্যে অবরার হত্যাকা-ের পর তার বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে গত সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

 

advertisement