advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফাহাদের ভাই-ভাবিকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়া
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

ছাত্রলীগের অমানুষিক নির্যাতনে নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করলেও কুষ্টিয়াবাসীর বিক্ষোভের মুখে তার (ফাহাদ) বাড়িতে যেতে পারেননি ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এ সময় লাঠিপেটা করে পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছে। এতে ফাহাদের ভাই আবরার ফায়াজ-ভাবিসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। জানা যায়, বুয়েটের ভিসি গতকাল বুধবার বিকালে আবরার ফাহাদের দাদা আবদুল গফুর, বাবা বরকত উল্লাহ ও ভাই আবরার ফায়াজসহ নিহত ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন এবং স্বজনদের সান্ত¡না দেন। কিন্তু ফাহাদের ঢাকার জানাজায় উপস্থিত না হওয়ায় কুষ্টিয়াবাসীর মনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চয় হয়। কবর জিয়ারতের পর

পরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ভিসির বিরুদ্ধে নানা সেøাগান দিয়ে মারমুখো হয়ে ওঠেন। এ সময় আবরারের ভাই ও বাবার প্রশ্নবানে জর্জরিত হন উপাচার্য। তাদের জিজ্ঞাসা ছিলÑ আপনি (ভিসি) কেন বর্বর এই হত্যাকা-ের পর পর সেখানে উপস্থিত হননি? বুয়েটের অভিভাবক হয়েও কেন ঢাকার জানাজায় অংশ দেননি? এখন কেন এসেছেন?

কবর জিয়ারত শেষে ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনকে সমবেদনা জানাতে বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের কবরস্থানের অদূরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। কুমারখালী থেকে যেতে প্রথমে কবরস্থান। পরে আধা কিলোমিটারের মাথায় ফাহাদদের বাড়ি। কিন্তু ভিসির যাওয়ার কথা শুনে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ ফাহাদদের গ্রামের বাড়ির সামনের সড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। বাড়ির সামনে গিয়ে জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন ভিসি। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং ভিসির নিরাপত্তার জন্য কুমারখালীর ওসি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় লাঠিপেটা করে পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছে। এতে ফাহাদের ভাই ফায়াজসহ তিনজন আহত হন।

এর পর ভিসি সাইফুল পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে দ্রুত কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে চলে আসেন।

এ সময় ভিসির সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

ফাহাদের ছোট ভাই ফায়াজ বলেন, ‘আমার ভাই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে খুন হয়েছেন। আজ আমাদের এখানে ভিসি সাহেব এসেছিলেন। আমি যখন তার (ভিসি) সঙ্গে কথা বলতে যাই, তখন এখানকার দায়িত্বে থাকা অ্যাডিশনাল এসপি (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মোস্তাফিজুর রহমান আমার বুকে কনুই দিয়ে আঘাত করেন। এখানে আমার ফুপাত ভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন, তাকেও বেধড়কভাবে পুলিশ দিয়ে মারা হয়েছে। তার কাপড়চোপড় টানাহেঁচড়া করা হয়েছে। আরও এক নারী আহত হয়েছেন।’

তবে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞতিতে বলা হয়, বুয়েটের ভিসি আবরার ফাহাদের দাদা, বাবা, চাচা ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে নিয়ে কবর জিয়ারত করেছেন। পরে ভিসি ঢাকায় ফিরে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর কোন রকম সংঘর্ষ হয়নি।

গত রবিবার সন্ধ্যায় বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় হলের কিছু ছাত্রলীগ নেতা। তাদের নির্মম, বর্বর নির্যাতনের একপর্যায়ে গভীর রাতে হলেই তার মৃত্যু হয়।

advertisement