advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর পথপ্রদর্শক তারা

জাহাঙ্গীর সুর
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

হাজার হাজার বছর ধরে মরে যাওয়া আদি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী এবং উদ্ভিদের পচনে তৈরি জ্বালানির (তেল) ওপর নির্ভর করে চলছে যে পৃথিবী, তা সীমিত, একদিন ফুরিয়ে যাবেই। সে কারণে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবী গড়তে পুনর্ব্যবহার যোগ্য ব্যাটারি উদ্ভাবনে নিজেদের জীবন সঁপে দিয়েছেনে যারা, তাদের মধ্যে পথিকৃৎ হলেন জন গুডএনাফ, স্ট্যানলি হুইটিংগাম এবং আকিরা ইয়োশিনো। পৃথিবী বদলে দেওয়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উদ্ভাবনের কৃতিত্ব স্বরূপ এ বছর রসায়নে নোবেল পেলেন এই ত্রয়ী। গতকাল রয়াল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস নোবলজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে।

গুডএনাফ ৯৭ বছর বয়সে এ পুরস্কার পেয়ে নোবেলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রবীণ বিজয়ী হিসেবে রেকর্ড গড়লেন।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সম্পর্কে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের রসায়নের প্রভাষক হাসনেয়াতুন নেসা সামাজিকমাধ্যমে গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পরিবেশের দূষণ ব্যতিরেকে রসায়নের উন্নয়নকে আমরা বলি

সবুজ রসায়ন (গ্রিন কেমিস্ট্রি)। এ নীতি অবলম্বনে তৈরি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, যা টেকসই সমাজ বিনির্মাণে এক অভূতপূর্ব শক্তি-সংরক্ষক। সহজে বহনযোগ্য, দীর্ঘ চক্রজীবন, বিস্তৃত তাপমাত্রা পরিসর ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যাবলির জন্য বর্তমানে এ ব্যাটারি বহুল প্রচলিত এবং সেই সঙ্গে জনপ্রিয়ও বটে।’নোবেল কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি বাজারে প্রথম এসেছে ১৯৯১ সালে। এর পর থেকেই এরা আমাদের জীবনে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। তারবিহীন ও জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত সমাজের ভিত গড়ে দিয়েছে তারা। এবং এসব মানবজাতির মহাকল্যাণ বয়ে এনেছে।’ আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজে এসে এমন গবেষণাই নোবেলযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

আপনার কাছে যদি মুঠোফোন থাকে কিংবা ল্যাপটপ, তা হলে ওর ভেতর রয়েছে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। শক্তির সেই ধারকযন্ত্রের ব্যবহার বহনযোগ্য প্রায় সব ইলেকট্রনিক্স পণ্যে রয়েছে। পেসমেকার ও বৈদ্যুতিক গাড়িতেও।

১৯৭০-এর দশকে মধ্যপ্রাচ্যÑ সৌদি আরব ও ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিশেষ আইন পাস করে জরুরি অবস্থার জন্য তেল মজুদের ব্যবস্থার প্রণয়ন করেছিল। ওই জাতীয় বিপর্যয়ের সময় জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী স্ট্যানলি হুইটিংগাম নিজের মতো একটা ব্যবস্থা বের করতে উদ্যত হলেন। জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত শক্তির প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করেছিলেন তিনি। তিনি লিথিয়াম ও টাইটানিয়াম ডাইসালফাইড নিয়ে ব্যাটারি তৈরি করলেন যার বিদ্যুৎবিভব ছিল দুই ভোল্ট।

আরেক মার্কিন বিজ্ঞানী গুডএনাফ (জন্ম যুক্তরাজ্যে) চিন্তা করে দেখলেন ধাতব সালফাইডের পরিবর্তে ধাতব অক্সাইড নিয়ে ব্যাটারিটা বানালে মিলবে আরও বেশি শক্তি। ১৯৮০ সালে তিনি লিথিয়ামের সঙ্গে জুড়ে দিলেন কোবাল্ট অক্সাইড। এতে বিদ্যুৎবিভব মিলল চার ভোল্ট।

আর হালকা ভরের, পুনর্ব্যবহারযোগ্য লিথিয়াম ব্যাটারি, আজ আমরা যা ব্যবহার করছি মুঠোফোন-ল্যাপটপে, তা ১৯৮৫ সালে নিয়ে এসেছিলেন জাপানের বিজ্ঞানী আকিরা ইয়োশিনো।

নোবেল কমিটি লিখেছে, ‘এই ব্যাটারি সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। যা জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত একটি সমাজ বিনির্মাণের কথা বলে।’

advertisement