advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কোনো অপরাধেই আমার ছেলে জড়িত থাকতে পারে না

আদালত প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১০
advertisement

ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনের শুনানি চলছে আদালতে। অন্যদিকে আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন মধ্যবয়সী একজন। তার নাম আতিকুল ইসলাম। পেশায় ভ্যানচালক। এসেছেন সুদূর জয়পুরহাট থেকে। মুখজুড়ে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। মানুষটি এসেছেন ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার ছেলে মো. আকাশ হোসেনের (২১) জন্য।

‘ছেলের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করা আমার মতো দরিদ্র মানুষের জন্য খুবই কঠিন। কিন্তু এর পরও মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করি ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য। ফাহাদ হত্যা মামলায় আমার সন্তানকে গ্রেপ্তার করার সংবাদে আমি হতবাক হয়ে গেছি।’Ñএ প্রতিবেদকের সঙ্গে বলেন আতিকুল ইসলাম। বুক থেকে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি আরও বলেন, আকাশ

কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। এলাকার কেউই আমার ছেলেকে খারাপ বলবে না। হত্যা তো অনেক পরের কথা, কোনো রকম অপরাধেই আমার ছেলে জড়িত থাকতে পারে না। ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে হাড়ভাঙা যে পরিশ্রম এতদিন করেছি, আজ তাকে কাঠগড়ায় দেখে সেই স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

গতকাল ঢাকা সিএমএম আদালতে ছেলের রিমান্ড আবেদনের শুনানির আগে এসব কথা বলেন ভ্যানচালক আতিকুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে আকাশসহ দুই আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাদের কিছু বলার আছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় আকাশ জানান, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি।

আকাশ বুয়েটের ষোড়শ ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে ছাত্র। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজীপুর বাইপাস সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত ফাহাদের বাবা মো. বরকতউল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে গত ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় এজাহারের ১৩ নম্বর আসামি আকাশ।

advertisement