advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাংলাদেশের বড় স্বপ্ন

মামুন হোসেন
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১৫
advertisement

ফুটবলের পুরনো জৌলুস ও গৌরব না থাকলেও বাংলাদেশ-কাতার ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই দশর্কমনে। বিশ^কাপ বাছাইপর্ব বলে কথা। মাইকিং করে টিকিট বিক্রি চলছে স্টেডিয়ামপাড়ায়; বেচা-বিক্রিও হচ্ছে। ফুটবলে সম্প্রতি যা অচেনা দৃশ্যই! চার বছর আগে বিশ^কাপ বাছাইপর্বে খেলতে আসা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে এমনটি দেখা গিয়েছিল। কাতার ২০২২ বিশ^কাপ সামনে রেখে ঘরের মাঠে হতে যাচ্ছে প্রথম ম্যাচ। সেখানে লাল-সবুজদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল, বিশ^কাপের আয়োজক কাতার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি চ্যানেল বাংলা টিভি ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর বাংলাদেশে খেলতে এসেছে কাতার। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপে খেলেছিল দুদল। সেদিন ৪-১ গোলে হেরেছিলেন লাল-সবুজরা। একই বছর সেপ্টেম্বরে এশিয়ান কাপেই ফিরতি ম্যাচে কাতারে গিয়ে হেরেছিলেন ৩-০ গোলের ব্যবধানে। ১৩ বছর পর সেই সেপ্টেম্বরে আবারও জাতীয় দল খেলতে যাচ্ছে এশিয়ার পরাশক্তি, এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে। বাংলাদেশ-কাতারের লড়াইয়ের শুরুর গল্পটা অবশ্য ৪০ বছরের পুরনো। ১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপে প্রথমবার মুখোমুখি হয় তারা। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। দুদলের তিন ম্যাচের পরিসংখ্যানে ব্যাংককের ম্যাচটিই এখন পর্যন্ত লাল-সবুজদের সর্বোচ্চ সাফল্য। ৪০ বছর আগের সেই সাফল্যকে এবার ছুঁতে যায় জেমি ডের বাংলাদেশ। ছাড়িয়ে যাওয়ার সুপ্ত বাসনাও গোপন রাখেননি বর্তমান জাতীয় দলের প্রধান প্রশিক্ষক। কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ জয়ের কথা বলেছেন জেমি। প্রতিপক্ষ শক্ত ও ম্যাচটি যে কঠিন সেটি মানছেন তিনি। তবু ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের কোচ, ‘আমরা জানি এটি কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। গত ১০ দিন ছেলেরা বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে আমাদের আত্মবিশ^াস এখন বেড়েছে। ভালো ফলের জন্য আগামীকাল (আজ) আমরা চেষ্টা করব। কাতার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন, ভালো দল এবং তাদের দলে ভালো কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’

জেমির সাহসের তারিফ করতে হয়! দুদলের পার্থক্য যেখানে আকাশ-পাতালের; সেখানে কিনা ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন! কাতার এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। এ বছরই জাপানকে হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে দলটি। সেখানে বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাইপর্বই উতরাতে ব্যর্থ। দুদলের পার্থক্য আসলে লিখে শেষ করার নয়। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে কাতার যেখানে ৬২ নম্বরে অবস্থান করছে, সেখানে ১৮৭-তে জেমির দল। বিশ^কাপে খেলা এশিয়ার ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া কিংবা চীনদের পেছনে ফেলে এশিয়াতে এখন নতুন পরাশক্তি কাতার এবং আগামী বিশ^কাপের আয়োজক। এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে পারাই তো সৌভাগ্যের! সেখানে জেতার আকাশ-কুসুম কল্পনাপ্রসূত।

বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্নটা দেখাচ্ছে মূলত প্রতিবেশী ভারত। বিশ^কাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে এবার ‘ই’ গ্রুপ থেকে খেলছে বাংলাদেশ। সেখানে কাতারের মতো আরেক প্রতিপক্ষ ভারত। আফগানিস্তান, ওমানও রয়েছে একই গ্রুপে। গত ১০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার দিয়ে বিশ^কাপ মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। ৫ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে শুভসূচনা করেছে কাতার। তবে পরের ম্যাচে ১০ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠেই ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছেন এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা। আর সেই ড্রই অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে, জয়ের স্বপ্নজাল বুনতে সহায়তা করছে জেমির বাংলাদেশকে। এমনকি কাতারবধের পরিকল্পনাও ইতোমধ্যে আটা হয়ে গেছে। এখন শুধু মাঠে নেমে জয়টা ছিনিয়ে আনা, ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা!

কোচের মতো জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। কাতার ম্যাচ সামনে রেখে তিনি জানান, কাতার এশিয়ার এক নম্বর দল। আগামীকাল (আজ) আমরা কঠিন এক ম্যাচই খেলতে যাচ্ছি। আমরা নিজেদের সেরা চেষ্টাই করব। গোলের সুযোগ পেলে অবশ্যই আমরা সেটি করব। তবে বাস্তবতা হলো কাতার কঠিন দল। কাতারের বিপক্ষে খুব বেশি সুযোগ আমরা পাব না; যতটুকু পাব কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকবে। আমাদের ভালো খেলতে হবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গোলের সুযোগ পেয়েও নষ্ট করেছি। যদি কাতারের বিপক্ষে গোলের সুযোগ পাই, সেই গোলটি হবে স্বপ্নপূরণের মতো। জামাল এর আগেও কাতারের বিপক্ষে গোল করেছেন। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে নয়। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে গত বছর এশিয়ান গেমসে। সেই গোলেই প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের নকআউটপর্বে খেলার ইতিহাস রচনা করেছিলেন লাল-সবুজরা।

বাংলাদেশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নবীশ। জাতীয় দলের জার্সিতে খুব বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই তাদের। নবীশ সতীর্থদের জন্য জামালের উপদেশÑ নবীশ খেলোয়াড়দের আমি এতটুকু বলতে চাই তোমরা মাঠে যাও, খেলাটা উপভোগ কর এবং সুযোগ তৈরি কর। ভয় পেও না। সেটপিস থেকে গত কিছু দিন কাজ করেছেন জেমি। কাতারের বিপক্ষে সেটপিস পেলে সেখান থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের কথাও বলেছেন জামাল।

কাতারকে এশিয়ার সেরা দলের তকমা এনে দিয়েছেন দলটির স্প্যানিশ কোচ ফেলিক্স সানচেস বাচ। নিজ দলের প্রতি যেমন আস্থা বিশ^াস রাখছেন, তেমনি প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকেও সমীহের চোখে দেখছেন কাতার কোচ। ভারতের বিপক্ষে ড্র করলেও ওই ম্যাচ এবং বাংলাদেশ যে ভিন্ন আরেকটি ম্যাচ সেটি মনে করিয়ে দেন তিনি। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও র‌্যাংকিং দিয়ে কোনো দলের শক্তির বিচারে বিশ^াসী নন ফেলিক্স। মাঠে নেমে সেরাটা দেওয়া এবং জয় তুলে নেওয়াই লক্ষ্য কাতার কোচের।

advertisement