advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টর্চার সেল ও ভোগবিলাস
রাজনীতি থেকে এই সংস্কৃতির উ”েচ্ছদ চাই

১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১৬
advertisement

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষটি টর্চার সেল। এখানেই রবিবার রাতে ঠা-া মাথায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে। জানা যাচ্ছে, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে এমন টর্চার সেলের অস্তিত্ব আছে। অভিজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের হাতে। এখানে এনে ভিন্ন মতাবলম্বী শিক্ষার্থীদের শাস্তি তথা ‘শিক্ষা’ দেওয়া হতো। সাধারণত এ শিক্ষা খুন পর্যন্ত গড়ায় না। কিন্তু বেপরোয়া মারধরে দুর্ঘটনা তো ঘটতেই পারে। শিবিরের কাছ থেকে এই শিক্ষা ছাত্রলীগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় তারা সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বটেই, এমনকি সব বড় কলেজ এবং বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক টর্চার সেল চালু করেছে। ক্যাম্পাস ও এলাকায় আধিপত্য এবং সেখান থেকে উপার্জন ঠিক রাখার জন্য তারা এগুলো ব্যবহার করে। ত্বকী হত্যার সূত্রে নারায়ণগঞ্জে এমন টর্চার সেলের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। আবার যুবলীগ নেতা ও ক্যাসিনোকা-ের মূল হোতা সম্রাটের ছিল এমন টর্চার সেলÑ যেখানে ব্যবহার হতো আমদানিকৃত নির্যাতনযন্ত্র।

রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টর্চার সেল ও বিলাসবহুল বাড়ির তথ্য ক্রমেই উদ্ঘাটিত হচ্ছে। এককালে রাজনীতি ছিল জনসেবার কাজ। এখন হয়েছে নিজের বিত্তবৈভব ও ভোগবিলাসের ব্যবস্থা করার মাধ্যম। একেকজনের ৭-৮টি বাড়ি, বাগানবাড়ি এবং ব্যাংকের বিপুল অর্থ দেখভাল করা ও রাখার জন্য অনুগত চেলার দরকার হয়। সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তার কাকরাইল অফিসে ১০০ তরুণ ক্যাডার তাকে পাহারা দিয়ে রাখত। তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও তো তার। ফলে এসব মানুষের বিস্তর টাকার প্রয়োজন হয়। ওই টাকা সৎপথে উপার্জন করা মুশকিল। এ জন্য আর্থিক মূলধন জোগাড় করা সোজাপথে সম্ভব নয়। আর একবার অসাধুপথে যাত্রা শুরু করলে তা পিচ্ছিল বলে আর ফেরা যায় না।

সম্রাট ও অনুগামী কেউ কেউ পিচ্ছিল পথে আছাড় খেয়েছেন। যুবলীগ চেয়ারম্যানসহ কারও কারও পতন সময়ের ব্যাপার। বুয়েটের খুনি ছাত্ররা দল থেকে বহিষ্কার হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়ে এখন রিমান্ডে। তাদেরও পতন শুরু হয়েছে। তবে গত ১০-১২ বছরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং মূল দল আওয়ামী লীগ ও এর অন্যান্য সহযোগী সংগঠনে বিত্ত এবং ভোগের ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে যে শুদ্ধি অভিযান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু করেছেন, তা হুট করে থামানো যাবে না। শোনা যাচ্ছে, এ অভিযান ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে টর্চার ও ভোগের আরও দুর্গের পতন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

আমরা মনে করি, টর্চার সেল যে কোনো সভ্য জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। আর রাজনীতির মাধ্যমে ভোগবিলাসের সম্পদ অর্জন নৈতিক স্খলন হিসেবে গণ্য হয়। ফলে মূল দলগুলোর রাজনীতিতে শুদ্ধি অভিযানের আরও বিস্তার ও গভীরতার প্রয়োজন বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তা হলে তাকে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হলে টর্চার সেল ও ভোগবিলাসের বালাখানাগুলো ভেঙে দিতে হবে।

advertisement
Evall
advertisement