advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি
নির্বাচন নাকি কাদা ছোড়াছুড়ি

ফয়সাল আহমেদ
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২২
advertisement

সবকিছু ঠিক থাকলে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। প্রধান কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের অধীনে হবে এই দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। তবে তার আগেই সমিতির অর্থ অত্মসাৎ, সদস্যপদ যোজন-বিয়োজন নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে শিল্পীদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, সদ্য বিদায়ী কমিটি বেশ কজন সদস্যকে অন্যায়ভাবে বাদ দিয়েছে। আবার অনেক সদস্যকে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ উঠেছে কমিটির সর্বশেষ সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে। নিজের সদস্যপদ বহাল রাখার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য ফাইট ডিরেক্টর মো. শেখ শামীম। অন্যায়ভাবে তার সদস্যপদ বাতিল করার অভিযোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বরাবর উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্বাচনে প্যানেল গোছাতে না পেরে স্বতন্ত্র সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন অভিনেত্রী মৌসুমী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘অদৃশ্য ওপর মহলের প্রভাবের কারণেই তার প্যানেলের প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ান। মৌসুমীর অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান। মিশা বলেন, ‘এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। মৌসুমী আমার সহকর্মী, নির্বাচনে আসার জন্য তাকে অভিনন্দন জানাই। তবে তার অভিযোগের সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। অভিযোগ করলেই হয় না, প্রমাণ দিতে হয়।’

এদিকে সমিতির হিসাব নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন বিগত কমিটির তিনজন সদস্য। গত নির্বাচনে এক প্যানেলে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তাদের প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হন চিত্রনায়ক রিয়াজ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা পপি। এবারের নির্বাচনে মিশা-জায়েদের সঙ্গে নেই এই তিনজন। কিন্তু এবার তাদের বিরুদ্ধেই শিল্পীদের ফান্ড গঠনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মিশা-জায়েদ। সম্প্রতি সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শিল্পীদের জন্য ফান্ড গঠন করতে একটি চ্যারিটি অনুষ্ঠান থেকেও ৫০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন রিয়াজ, ফেরদৌস ও পপি। শিল্পী সমিতি ও শিল্পীদের প্রতি কোনো দায় নেই তাদের। এ জন্যই ফান্ড গঠনের চ্যারিটি অনুষ্ঠান থেকেও পারিশ্রমিক নেন তারা। তারা ছাড়া অন্য কেউ টাকা নেননি। একই কথা জায়েদ খানেরও। এর প্রতিক্রিয়ায় মিশা ও জায়েদ খানের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়লেন নায়িকা পপি। তিনি বলেন, ‘কে টাকা দিয়েছে? কার নামে? রসিদটা কোথায়? শুধু এই একটা শোয়ের কথা কেন বলা হচ্ছে? আমি তো সমিতির জন্য অনেক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছি। রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা, সাইমন, অপুসহ আরও অনেকেই এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। কখনো পুলিশের অনুষ্ঠান, কখনো র‌্যাবের, অনেক রকম অনুষ্ঠান। এক টাকাও পারিশ্রমিক নিইনি আমি। একটা পারফর্ম করলে তো অনেক সহশিল্পী রাখতে হয়। তাদের টাকা দিতে হয়। সেই টাকাটাও দেওয়া হতো না। ভাবতাম সমিতির জন্যই কাজ করছি। সমস্যা নেই। জায়েদ বলত অমুকের অনুষ্ঠান, তমুকের অনুষ্ঠান টাকা নেওয়া যাবে না। সমিতির ফান্ডের জন্য কিছু ডোনেশন আসবে। তো কত টাকা ডোনেশন এলো? সেই টাকা কোথায় কীভাবে খরচ করা হয়েছে জানতে চাই। এখানে শিল্পীদের পরিশ্রম, ঘাম মিশে আছে। দুই বছরে লাখ লাখ টাকা এসেছে সমিতিতে, হিসাবটা পাইনি। উল্টো অভিযোগ তোলা হচ্ছে। দুই বছরে অনেক কিছু দেখেছি। যখন কোথাও থেকে টাকা আনার দরকার হয়, তখন শিল্পীদের ডাক পড়ে। আসুন, শো আছে। এর পর আর কোনো খবর নেই।’ জায়েদ খান বলেন, “ওনারা সমিতির তহবিল নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। দুই বছরে তারা একটি পয়সাও তহবিলে দেননি। কোথাও থেকে আনেনওনি। তাদের কী অবদান আছে সমিতিতে? কেউ মারা গেলেও তারা আসেননি, কোনো মিলাদেও অংশ নেননি। উল্টো শিল্পী সমিতির ফান্ড গঠনের অনুষ্ঠান থেকে ৫০ হাজার করে পারিশ্রমিক নিয়েছেন রিয়াজ ও ফেরদৌস। নায়িকা পপিও তাদের সঙ্গে টাকা নিয়েছেন।’ চ্যারিটি অনুষ্ঠানে টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে মিশা-জায়েদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে রিয়াজ বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হচ্ছি এ রকম মিথ্যাচার দেখে। ভদ্রতা-ধৈর্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর সময় চলে এসেছে। আমি বা ফেরদৌস বা পপিÑ কেউ কী ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের শিল্পী? এমন স্বস্তা হলে তো দিনে চারটি করে শো করতে পারতাম। সবাইকে নিজেদের মাপের মনে করে ওরা? আছে কোনো রসিদ সেই টাকা নেওয়ার? ঘটনা হলো নারায়ণগঞ্জের সেই শোটি ছিল ৮ লাখ টাকা বাজেটের। তার মধ্যে ৪ লাখ টাকা শিল্পী সমিতির ফান্ডে জমা হয়েছে। আর বাকি ৪ লাখ টাকা যারা পারফর্ম করেছে তাদের দেওয়া হয়েছে। সেটা কিন্তু পারিশ্রমিক হিসেবে নয়। ড্রেস ও অন্যান্য বাবদ। আর তা নির্ধারণ করা হয়েছে সবাই মিলেই। তো আমি, ফেরদৌস ও পপি যদি ৫০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে থাকি, বাকি আড়াই লাখ টাকা কোথায়? সেগুলো কে নিয়েছে? সেদিন অনুষ্ঠানে আমি, ফেরদৌস, পপি, অপু বিশ্বাস ও জায়েদ খান পারফর্ম করেন। মিশা সওদাগর অনুষ্ঠানেই যাননি। তা হলে মিশা কেমন করে বলেন যে, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি।’ সে তো ওখানে যায়নি। টাকা নেওয়ার প্রশ্ন আসবে কোথা থেকে? মিথ্যাচারের তো একটা লিমিট থাকা উচিত। দুজনেই এত চমৎকার করে মিথ্যে কথা বলতে পারে, শুনলে মনে হবে এর চেয়ে সত্যি কিছু নেই। যেসব সিনিয়র এই দুজনকে সমর্থন দিচ্ছেন তারা কবে সচেতন হবেন? শিল্পী সমিতি ও শিল্পীদের ইজ্জত সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পর?”

এদিকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদি নির্বাচনে তিন পদে বিনা বাধায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুব্রত, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ও কোষাধ্যক্ষ পদে ফরহাদ। সোমবার বিকালে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ওই তিন পদে তিনজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তিনজনই মিশা-জায়েদ প্যানেলের। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীরের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সাইফুলের মনোনয়নপত্রটি সমিতির গঠনতন্ত্রের ৯(৩) ধারায় বাতিল হয়ে গেছে। প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে বাকি ১৮ পদের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আছেন সভাপতি পদে মিশা সওদাগর ও মৌসুমী। সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস কোবরা ও জায়েদ খান। দুটি সহসভাপতি পদে ডিপজল, রুবেল ও নানা শাহ। সহসাধারণ সম্পাদক পদে আরমান ও সাংকোপাঞ্জা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও মামুনুন ইমন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জাকির হোসেন ও ডন। ১১টি কার্যকরী সদস্য পদের জন্য লড়বেন ১৪ জন। তারা হলেন অঞ্জনা সুলতানা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, বাপ্পারাজ, মারুফ আকিব, রোজিনা, রোঞ্জিতা ও শামীম খান (চিকন আলী)।

advertisement
Evall
advertisement