advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যে প্রেম ভোলা যায় না...

১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২২
advertisement

দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে শৈশব পেরিয়ে যখন কৈশোরে, তখনো নিয়তির সুপ্রসন্নতার দেখা পাননি। সংসার আর মায়ের ঋণ মেটানোর প্রয়োজনে ১৪ বছর বয়সেই রঙিন চলচ্চিত্র জগতের অন্ধকার সিঁড়ি বাইতে শুরু করেন। চেন্নাই থেকে জীবনের সন্ধানে তখনকার বোম্বেতে ছুটে আসা এক কৃশকায় কিশোরী পুরুষশাসিত বলিউডে রাজত্ব করেছেন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। বলছি বলিউডের চিরসবুজ অভিনেত্রী রেখার কথা। আজ তার জন্মদিন। সেলুলয়েডে রেখার ছড়িয়ে দেওয়া প্রেম এখনো ভোলার নয়। এমনকি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তার প্রেম এখনো উত্তাপ ছড়ায়। সেই রেখাকে নিয়েই এ প্রতিবেদন। লিখেছেনÑ জাহিদ ভূঁইয়া

১৯৬৯ সালে কানাড়া ছবি ‘গোয়াদাল্লি সিআইডি ৯৯৯’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে রেখার। সে বছরই তিনি তার প্রথম হিন্দি ছবি ‘দো শিকারি’তে অভিনয় করেন। তবে ১৯৭৬ সালে অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে ‘দো আনজানে’ ছবিতে অভিনয়ের পরই প্রথম আলোচনায় আসেন রেখা। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি হিন্দি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় জুটির নাম বললে বোধ হয় মনে সবার আগে আসবে অমিতাভ বচ্চন-রেখার নাম। পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে অভিভূত হয়েছেন অগণিত চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শক। পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনেও এ জুটির প্রেম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তাদের প্রেমের বিষয়টি কম-বেশি সবার জানা থাকলেও, আজও রহস্যের চাদরে জড়ানো এই প্রেম। ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেন অমিতাভ-রেখা। প্রচলিত আছে, একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে রেখার প্রেমে পড়ে যান বিবাহিত অমিতাভ এবং দিন দিন তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। অমিতাভের সঙ্গে রেখার প্রেমের খবর চাউর হওয়ার তিন বছর আগে বলিউডের আরেক অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়িকে বিয়ে করেছিলেন অমিতাভ। জনসমক্ষে নিজেদের প্রেমের সম্পর্কটি কখনো স্বীকার না করলেও, একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন অমিতাভ-রেখা। এ জুটির ছবি মুক্তি পেলেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকরা হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। বাস্তব জীবনে তাদের রহস্যময় প্রেমের কারণেও সম্ভবত দর্শকের ভেতর এ জুটিকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্মাতারাও এই জুটির প্রেমনির্ভর ছবি বানিয়েছেন এবং সফলতার মুখ দেখেছেন।

অমিতাভ-রেখা জুটির সর্বশেষ ছবি ‘সিলসিলা’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮১ সালে। অমিতাভ, রেখা ও জয়ার ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়বস্তু নিয়ে ছবিটি তৈরি করেছিলেন নির্মাতা যশ চোপড়া। অত্যন্ত সচেতনভাবে ছবির চরিত্র বা পাত্র-পাত্রীর ক্ষেত্রে যশ চোপড়া নির্বাচন করেছিলেন অমিতাভ, রেখা ও জয়াকে। আজও হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে মাইলফলক হয়ে আছে ‘সিলসিলা’। ছবিটি মুক্তির পর আর কখনই একসঙ্গে অভিনয় করেননি অমিতাভ-রেখা। ‘দো আনজানে’ (১৯৭৬), ‘আলাপ’ (১৯৭৭), ‘ঈমান ধরম (১৯৭৭), ‘খুন পাসিনা’ (১৯৭৭), ‘গঙ্গা কি সুগন্ধ’ (১৯৭৮), ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’ (১৯৭৮), ‘মিস্টার নটবরলাল’ (১৯৭৯), ‘সোহাগ’ (১৯৭৯), ‘রাম বলরাম’ (১৯৮০) ও ‘সিলসিলা’ (১৯৮১) ছবিগুলোতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অমিতাভ ও রেখা। দু-একটি বাদে তাদের অভিনীত প্রায় সব ছবিই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।

‘খুবসুরত’ ও ‘খুন ভরি মাঙ্গ’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ১৯৮১ ও ১৯৮৯ সালে সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন রেখা। ১৯৮২ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ‘উমরাও জান’ চলচ্চিত্রের জন্য। রেখার নামকরণ করা হয়েছিল ভানুরেখা। যার অর্থ সূর্যের আলো। সফল অভিনেত্রী, তারকাশিল্পী, আবেদনময়ী নৃত্যশিল্পী এমন নানা পরিচয়ে বলিউড ইতিহাসের পাতায় রেখা জলজলে হয়ে থাকবেন নিঃসন্দেহে।

হ উইকিপিডিয়া ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

advertisement