advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বুয়েটে ১০ বছর ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখুন, দাবি আবুল হায়াতের (ভিডিও)

বিনোদন প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৫১ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৫১
অভিনেতা আবুল হায়াত
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার হল রুমের সামনে বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মানববন্ধনের বক্তব্য রাখেন আবুল হায়াত।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বুয়েটে পড়েছি তখন এখানকার পরিবেশ এমন ছিল না। আমরা যখন আন্দোলন করতাম তখন ভিসি এসে আমাদের সামনে বসে থাকতেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসতেন। কারণ তিনি আমাদেরকে নিজের সন্তানের মতো মনে করতেন।’

আবরার হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা বিশ্বাস করুন, আমার স্ত্রী হাইপারটেনশনের রোগী। কালকে থেকে প্রায় বিছানায় পড়ে আছেন। তিনি বলছেন, “এই ছেলেটা তো আমাদেরও ছেলে হতে পারতো।” আমি তাকে বোঝাতে পারছি না, এটা একটা ঘটনা মাত্র। তিনি বলছেন, ‘না এটা কীভাবে সম্ভব। এই ছেলেদের সাথে তো তুমি সেদিন অনুষ্ঠান করে আসলে।’

আবুল হায়াত আরও বলেন, ‘হ্যাঁ! আমি দুঃখিত! এই গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা শেরে বাংলা হলে ৫০ বছর পূর্তি পুনর্মিলন অনুষ্ঠান করেছি। এবং আরও দুর্ভাগ্য আমার এই ছেলেগুলোকে আমি চিনি। তাদের সঙ্গে আমার বহুবার কথা হয়েছে। গত বছর যখন হলফেস্ট হলো তখন এরা আমাকে ফোন করেছিল। যে হায়াত ভাই আপনি অবশ্যই আসবেন। আমরা পুরোনো ছাত্রদেরকে চাই। আমি এসেছিলাম। আরও অনেকে এসেছিল।’

বর্তমানের ভিসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আর আজকের ভিসি। আমি তো চিন্তাই করতে পারি না। আমার সন্তান মারা যাওয়ার খবর শুনে আমি যাবো না সেখানে! ভিসির সন্তান নয় ছাত্ররা? এর চেয়ে অবাক করার ঘটনাতো আর কিছু হতে পারে না।’

বরেণ্য এই অভিনেতা বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী নির্যাতিত হলো আপনি আসলেন না। এই যে ছেলেগুলো যাদেরকে আমার মনে হয়েছিল মানব, তারা দানবে পরিণত হয়েছে। এটা কোনো মানবের পক্ষে সম্ভব না, এরকম কাজ করা। আমার মনে হয়, আজকে ছাত্ররা যে আন্দোলন শুরু করেছে, এটা তাদের একদিনের কোনো কারণে না। এটা তাদের যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ তারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা রুখে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি দাবি জানিয়েছে।’

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘আজ তাদের একটি দাবি, এই অঙ্গনে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আমি মনে করি, ছাত্র রাজনীতি বুয়েটে ছিল না। তাই বলে কি আমরা জাতীয় স্বার্থে যুক্ত ছিলাম না। ১৯৬৬ সালে, আমার মনে আছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় মিছিলটি হয়েছিলে বুয়েট থেকেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি খারাপ জিনিস নয়। ছাত্র রাজনীতির জন্য আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছি। ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই ভালো জিনিস। কিন্তু যারা এটাকে পেছন থেকে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে হলে বুয়েটে ১০ বছরের জন্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখেন।’

advertisement