advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলেই মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যায় : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর ২০১৯ ১৬:০৬ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ১৬:০৬
পুরোনো ছবি
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলেই দেশের মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীতে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা এবং ভারতের সঙ্গে অবৈধ চুক্তি বাতিলের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে বিএনপি সকাল ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুণরায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। 

মিছিল শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সব প্রধানমন্ত্রীই বিদেশ সফরে কিছু না কিছু আনতে যায়। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলেই দেশের মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যায়। এবারও আপনি দেশের অনেক কিছু দিয়ে দিলেন। আর ফিরে আসলেন খালি হাতে।’ 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে-এটা হতে পারে না”। তাহলে ভারত থেকে কি কি নিয়ে আসলেন?’  

রিজভী বলেন, ‘ভারতকে ট্রানজিট, বাণিজ্য, কানেকটিভিটি, ৭ রাজ্যের নিরাপত্তা, নদী, সমুদ্র বন্দর, সুন্দরবন, প্রতিরক্ষা, বৃহত্তম রেমিটেন্স, অবাধ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে আপনি প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো খালি হাতে ফিরবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনি বললেন দেশের স্বার্থ আপনি বিকিয়ে দেন না, তাহলে ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কেন দিয়ে আসলেন? গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারলেন না। বরং আমাদের বন্দরগুলো ব্যবহারে ভারতের অধিকারও আছে বলে যে জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী বক্তব্য রাখলেন, তাতে গোটা জাতি হতভম্ব হয়ে পড়েছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনার সফরের বলেছিলেন, এবারও তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি হবে না। আপনি তিস্তার পানি চাইতেই পারলেন না, বরং ফেনী নদীর পানি দিয়ে আসলেন ভারতকে! আপনি এখন দাতা হাতেমতাই হয়ে বলছেন, “কেউ পানি চাইলে, তা যদি না দেই, সেটা কেমন দেখায়?” অথচ আপনি ভুলেই গেছেন, আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার সাংবিধানিক দায়িত্ব নিজ দেশের মানুষের ন্যায্য পানির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। নিজেদের পানি চাহিবামাত্র বিনাস্বার্থে অন্যকে উজাড় করে দিয়ে আসা নয়! এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে আপনি ভারতকে চাপ দিতে পারেননি। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের বদলে দিয়ে এসেছে ফেনী নদীর পানি এবং গ্যাস। জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) বিষয়ে টু-শব্দটি করেননি। যৌথ বিবৃতির কোথাও এটির উল্লেখ নেই। অথচ বাংলাদেশের মানুষ সেটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা, বানিজ্য ঘাটতির মতো ইস্যুগুলো এজেন্ডার কোথাও স্থান পায়নি, যা বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।’

রিজভী বলেন, ‘ভারতকে আমাদের উপকূলে নজরদারির জন্য ২০টি রাডার স্থাপনে অনুমতি দেওয়া হলো। তাতে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের আঞ্চলিক সংঘাতের বলি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি স্বাধীন দেশের সমুদ্র বন্দর, ফেনী নদীর পানি, উপকুলে ভারতের নজরদারীর জন্য ২০টি রাডার স্থাপন এবং জ্বালানি সংকটের এই দেশে গ্যাস অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া হলো, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি এবং সুষ্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন।’

রিজভী বলেন, ‘আমি আবারও অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

এই বিক্ষোভ মিছিলে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে আরও অংশ নেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাইফুর রহমান মিহির, কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান ফাহিম, দপ্তর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক, বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন ভূঁইয়া, এল রহমান, শাহ আলম, মো. সাজ্জাদ, আব্দুল আউয়াল, আক্তার হোসেন জিল্লু, আমান উল্লাহ মেম্বার, সোহরাফ হোসেন স্বপন, হারুন অর রশীদ খোকন, জহিরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাচ্চু, আকরাম বাবু, বুলবুল মল্লিক, মোহাম্মদ আলী, মাহাবুব আলম ভুইয়া শাহীন, আবদুল কাদের বাবু, এনায়েতুল হাফিজ, সি এম আনোয়ার, রকিব হোসেন রাকিব, মাসুম বাবুল, ইমাম হোসেন নুর প্রমুখ।

advertisement