advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরকারি পুরনো চাল বিক্রি হবে ৩০ টাকা কেজিতে

মো. মাহফুজুর রহমান
১১ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৯ ০০:৪৮
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গত বছর থেকেই সরকার যখন বিব্রত, তখন সরকারি গুদামেই নষ্ট হতে চলেছে ৮ হাজার কোটি টাকার পুরনেি আমন। প্রায় এক বছর ধরে এসব চাল বিভিন্ন সিএসডি-এলএসডিতে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমাদের সময়ে ‘গুদামে ৮ হাজার কোটি টাকার পুরনো চাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর ঠিক দুদিনের মাথায় অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর হাজার হাজার কোটি টাকার ওই চালের একটা হিল্লে হয়েছে। খাদ্য বিভাগের বণ্টন শাখার উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মাঠ পর্যায়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩০ টাকা কেজি দরে ওই চাল হতদরিদ্রদের মধ্যে বিক্রি করার। পুরনো ওই চাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন বোরো চাল আটকা থাকবে গুদামে। চিঠিতে পুরনো চালকে ‘মজুদকৃত’ উল্লেখ করে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বিজিডি, ভিজিএফ, ইপি-ওপিসহ নানা খাতে ওই চাল বিতরণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকার পুরনো এ চাল নিয়ে বেকায়দায় থাকা খাদ্য অধিদপ্তর এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেসব খোলাবাজারে হতদরিদ্রদের কাছে দ্রুত বিক্রি করতে তৎপর হয়েছে।

অথচ খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়মেই আছে, বোরো ১০ এবং আমন চালের বয়স ১২ মাস পার হলে এর গুণগতমান হ্রাস পেতে থাকে। ফলে পুরনো এসব চাল এ বছরের মধ্যে শেষ করতে না পারলে তা গুণগতমান হারাবে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় দেশে উৎপাদিত চাল কতদিন গুদামে মজুদ রাখা যায়Ñ এমন প্রশ্নে খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দানাদার খাদ্য বিশেষ করে চালের মান রক্ষার কতগুলো উপায় আছে। এগুলো প্রতিপালন করলে দেশে যে প্রক্রিয়ায় আমরা চাল সংরক্ষণ করে থাকি, তাতে এক-আধ বছর এগুলো খাওয়ার যোগ্য থাকে।

সরকারি নীতিমালায় বলা হয়েছে, খাদ্যশস্য (চাল-গম) কেনার ৩ মাসের মধ্যেই তা বিতরণ করতে হবে। নইলে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে তা পরবর্তী তিন মাসের মধ্যেই গুণগতমান হারাবে। অথচ নয় মাস ধরে গুদামে পড়ে থাকা দুই লক্ষাধিক টন চাল কেনও এতদিন রেখে দেওয়া হয়েছেÑ এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কেউ সদুত্তর দিতে পারছেন না।

নীতিমালা অনুযায়ী, নতুন চাল গুদামে ঢোকার সময় তা ‘ডিসডি-৩’ অর্থাৎ খুব ভালো মানের বলে সার্টিফিকেট পেতে পারে। চাল গুদামে মজুদ করার সময়ই বলা হয়ে থাকে যেন পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে ওই চাল ভোগ করার ব্যবস্থা করা হয়। তিন মাস পার হলে একই চাল ‘ডিসডি-২’ গ্রেডে নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে বলা হয়, পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে তা বিতরণ করতে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, সরকারি চাল যত পুরনো ও দুর্গন্ধযুক্তই হোক না কেনÑ বরাবরই নিজেদের পরীক্ষাগার থেকে তা ‘খুব ভালো’ বলে সনদ পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তর সারাদেশ থেকে আসা চালের মজুদসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানতে পারে। প্রতিবেদনে ২ লাখ ৬ হাজার ২৭৪ টন পুরনো চাল এখনো গুদামে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিকেজি ৪০ টাকা হিসেবে গুদামের পুরনো ওই চালের বাজার মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

মেয়াদোত্তীর্ণ চালের ক্ষতিকর দিক প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের একাধিক সূত্র জানায়, সব খাদ্যপণ্যেরই একটা জীবনকাল থাকে। চালের বয়স বেড়ে গেলে তাতে এক ধরনের ছত্রাক ও পোকা জন্মায়। ফলে চালে আলফাটক্সিন ও মাইক্রোটক্সিনের সৃষ্টি হয়। এটা মানবদেহের জন্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

advertisement