advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অকেজো নলকূপে কৃষকের সেচব্যয় তিন গুণ বৃদ্ধি

গোলাম রাব্বানী
১১ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৯ ০৮:৪৮
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় বাাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বিতরণ করা ৫৬৪টি গভীর নলকূপ পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন আরও প্রায় ৩৩০টি গভীর নলকূপও পুরোপুরি কাজ করছে না।

ফলে এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এর কারণে ঠিক সময়ে জমিতে সেচ দিতে না পারা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় শ্যালো নলকূপ কাজ না করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটে সেচ কাজে প্রায় ৩ গুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে তাদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি গভীর নলকূপ থেকে প্রায় ৭০-৯০ একর জমিতে পানি সেচ দেওয়া সম্ভব। নলকূপ অকেজো থাকায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার আবাদি জমি বর্তমানে সেচ ব্যবস্থার আওতায় নেই। ফলে প্রতিবছরই এই পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।

বিএডিসি সূত্র জানায়, সরকারি খরচে স্থাপিত এসব গভীর নলকূপ মূলত যথাযথ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কৃষক গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্রের খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি সংযোগ না থাকা, সেচযন্ত্র কৃষকের বদলে প্রভাবশালীদের কাছে থাকার কারণেও এসব নলকূপ সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বিকল্প উপায়ে অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও তা কৃষকের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। গভীর নলকূপের মাধ্যমে একরপ্রতি জমিতে সেচ দিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এসব নলকূপ অকেজো থাকায় বিকল্প উপায়ে সেচ দিতে এখন কৃষককে ব্যয় করতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক শাহীন আহমেদ বলেন, গত বছরে আমাদের এলাকায় শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হয়েছে। এ বছরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শ্যালো মেশিন দিয়েও সঠিক পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প উপায়ে সেচ বাবদ খরচ তিনগুণ হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিবছর ভূগর্ভের পানির স্তর দুই থেকে পাঁচ মিটার করে নিচে নামছে। বিএডিসির হিসাবে গত বোরো মৌসুমে সারাদেশের ৪ লাখেরও বেশি অগভীর নলকূপে পানি ওঠেনি। এ বছরও ৫৩ জেলার ২১৬ উপজেলায় সেচ মৌসুমে দেখা দিয়েছে ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট। বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ নলকূপে পানি উঠছে না। বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, নওগা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, ময়মনসিংহ অঞ্চলেও সেচের পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বিএডিসির ২০১৬ সালের গ্রাউন্ড ওয়াটার জোনিং ম্যাপে দেখা যায়, দেশের মধ্যভাগ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত ৪৮ জেলার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিএডিসি চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলামও। তিনি বলেন, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় সেচে সমস্যা হচ্ছে। তাই সেচের জন্য সুচিন্তিত, সমন্বিত ও পরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ, পানির সুষ্ঠু ব্যবহার, অপচয় রোধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক নলকূপ এখন সংস্কারের অনুপযোগী। মেরামতযোগ্য গভীর নলকূপগুলোকে প্রকল্পের মাধ্যমে মেরামত করে আবার স্থাপন করা হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব নলকূপ একেবারেই মেরামত করা সম্ভব নয়, সেগুলো কারিগরি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

advertisement