advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুদকের সুপারিশগুলো আমলে নিন

১১ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:৪৬
advertisement

গণপূর্ত অধিদপ্তরে টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। এসব দুর্নীতির সঙ্গে ঠিকাদার আর কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গণপূর্তে দুর্নীতির ১৫টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে দুদক। একই সঙ্গে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০টি সুপারিশ তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

সরকারি ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ-অপচয়ের দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক দল গঠন করে দুদক। দলগুলোকে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণ চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনের নির্দেশনার আলোকে দুদকের দলগুলো প্রতিবেদন দাখিল করছে। ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিমান, রাজউক, ওয়াসা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গণপূর্ত নিয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলো। দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে এটা স্পষ্টÑ দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোয় দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে মূলত লুটপাটের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এটি রাষ্ট্রের মূল ভিত নড়বড়ে করে দিচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। কাজেই দুর্নীতি রোধে সরকারের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতি রোধে দুদক যে সুপারিশগুলো করেছে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রকল্প নির্বাচন করার সময় প্রকল্পের যথার্থতা বা উপযোগিতা আছে কিনা, তা গণপূর্ত অধিদপ্তর ও চাহিদা প্রদানকারী সংস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে অহেতুক অযৌক্তিক সময় বাড়ানো না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানা করা যেতে পারে। অর্থাৎ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

advertisement