advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে বাড়ি হলেই বদলি

হামিদ উল্লাহ,চট্টগ্রাম
১৩ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৪৩
advertisement

বাড়ি চট্টগ্রাম অথচ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) চাকরি করেন এমন সদস্যদের চট্টগ্রামের বাইরে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ইতোমধ্যে ৭ জন নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক এবং ৬ জন ট্রাফিক পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দিলে ২১ অক্টোবর তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য হবে। এর বাইরে প্রত্যেক বিভাগে বাবা-দাদার বাড়ি চট্টগ্রামে এমন পুলিশ সদস্যদের খুঁজে বের করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে সিএমপি সদর দপ্তর থেকে। এদিকে হঠাৎ করে এ ধরনের আদেশে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গত ৭ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত তিনটি আদেশ জারি করা হয়। ৭ অক্টোবর জারি করা আদেশে সিএমপির ৬ ট্রাফিক পরিদর্শককে মহানগর থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। ১০ অক্টোবর থানা পুলিশের ৭ পরিদর্শককে (নিরস্ত্র) বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে বন্দর থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী ও চান্দগাঁও থানার ওসি মো. আবুল কালামও রয়েছেন। এ দুজন সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্ব পাওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ে বদলি হলেন। সুকান্তের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান এবং আবুল কালামের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়।

একই দিনে অর্থাৎ ১০ অক্টোবর অপর এক চিঠি সিএমপির হেডকোয়ার্টার থেকে সব বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকার মৌখিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, আপনাদের স্ব স্ব বিভাগে কর্মরত এসআই থেকে তদনিম্ন পদমর্যাদার যেসব পুলিশ সদস্যের নিজ জেলা চট্টগ্রাম তাদের তথ্যাদি বিশেষ বাহক মারফত জরুরি ভিত্তিতে সিএমপির কেন্দ্রীয় রিজার্ভ অফিসে পাঠাতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সংখ্যা সাত হাজারের মতো। এর মধ্যে প্রায় দুহাজার পুলিশ সদস্যের বাড়ি চট্টগ্রামে। তাদের বেশিরভাগই এসআই থেকে নিম্নে কনস্টেবল। আর কর্মকর্তা পর্যায়ে আছেন মাত্র ৬ জন।

হঠাৎ করে এ ধরনের আদেশে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে নিম্নস্তরে যারা চাকরি করেন, তারা এ বদলিকে মেনে নিতে পারছেন না। ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে তুলনাও করছেন। চাকরি করা ৩০ হাজার পুলিশের বেশিরভাগেরই ঢাকায় বাড়ি আছে। তারা সেখানে চাকরি করতে পারলে চট্টগ্রামের পুলিশ সদস্যরা এখানে চাকরি করতে সমস্যা কোথায়?

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কনস্টেবল, এএসআই ও এসআইয়ের মতো পদে চাকরি করার কারণে তাদের সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কাটাতে হয়। দিনশেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করাটাই তাদের জন্য স্বস্তির। এ ছাড়া তাদের বেতন-ভাতা কম হওয়ায় চাকরি এবং পরিবার আলাদা হলে অনেকের জন্য তা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সিএমপিতে চাকরি করা চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ কম দাবি করে একাধিক পুলিশ সদস্য দাবি করেন, দুয়েকজন যদি দোষ করে থাকেন তবে তাদের খুঁজে বের করে বদলি করা উচিত। এভাবে ঢালাওভাবে বদলি করলে মানুষ ভিন্ন বার্তা পেতে পারে।

এর আগে ২০০৩ সালের ২৩ জুলাই ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি জামালউদ্দিন চৌধুরী অপহরণ ও খুনের পর চট্টগ্রাম জেলায় বাড়ি অথচ চট্টগ্রাম মহানগরে চাকরি করেন এমন সব পুলিশ সদস্যকে চট্টগ্রাম রেঞ্জেরই বাইরে বদলি করা হয়েছিল। তবে পুলিশ নয়, র‌্যাব-৭ শেষ পর্যন্ত জামালউদ্দিন অপহরণের রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (হেডকোয়ার্টার) শ্যামল কুমার নাথ আমাদের সময়কে বলেন, চিঠি একটা দিয়েছি। কিন্তু ওই চিঠির নির্দেশাবলি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

advertisement