advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চলার পথই খুঁজে পাচ্ছে না শান্তিনগর ফ্লাইওভার

তাওহীদুল ইসলাম
১৪ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৫৭
advertisement

রাজধানীর শান্তিনগর থেকে মাওয়া রোডের ঝিলমিল পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণে বেশ কয়েক বছর আগে সিদ্ধান্ত নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। নীতিগত অনুমোদনও মেলে। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় সাত বছর হয়ে গেলেও চলার পথই খুঁজে পাচ্ছে না ফ্লাইওভারটি; এ পর্যন্ত অ্যালাইনমেন্টই চূড়ান্ত করা যায়নি। শুরুর পয়েন্ট সরিয়ে দেওয়ার পরও পথ হয়নি উড়ালসড়কটির বিভিন্ন প্রকল্প ও সংস্থার কারণে।

এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হলে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি এর নীতিগত অনুমোদন মেলে। কিন্তু এ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যায়নি। কারণ ফ্লাইওভারটির রুট নির্ধারণ করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের।

শান্তিনগর থেকে শুরু হয়ে ঝিলমিল পর্যন্ত পৌঁছতে গিয়ে এই ফ্লাইওভারটির রুট নিয়ে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় মেট্রোরেল প্রকল্প (এমআরটি ২), মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, কমলাপুর রেলস্টেশন, বাবুবাজার ব্রিজ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের একাংশের সঙ্গে। এত সব প্রকল্প ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের পর রুট চূড়ান্ত করতে হবে ফ্লাইওভারটির, যা এ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

এমনকি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। প্রকল্পটির শিরোনামে শান্তিনগর থাকলেও ফ্লাইওভারটি ওই স্থান থেকে সরে ফকিরাপুল থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু এর পরও পথে পথে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রকল্পের সঙ্গে ফ্লাইওভারটির রুট সাংঘর্ষিক হওয়ায় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে আগামী ১৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট সব প্রকল্প ও সংস্থার মুখপাত্রদের সঙ্গে বৈঠক হবে এ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের।

সেখানে সম্ভাব্য একটি রুট নির্ধারণ করার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেটি পাঠানো হবে। এর পর সম্মতি সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে রুট এবং মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমস্যাটি তুলে ধরা হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বরও বৈঠক হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হচ্ছেÑ যেসব প্রকল্পের কারণে জটিলতা হচ্ছে সেসব প্রকল্পের কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধান ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বৈঠক করে একটি রুট নির্ধারণ করতে হবে। আর এ বৈঠকের আয়োজন করবে পিপিপি কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১৭ অক্টোবর পিপিপি কার্যালয়ে এ নিয়ে বৈঠক হবে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে আমাদের সময়কে বলেন, অ্যালাইনমেন্ট জটিলতা কাটাতে অনেকবারই বৈঠক হয়েছে। আশা করছি ১৭ অক্টোবর একটা সুরাহা হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি শান্তিনগরের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে শুরু হয়ে বাবুবাজারে অবস্থিত সওজের ব্রিজের ওপর দিয়ে ধরে রাজউকের এক্সট্রা ডোজড ক্যাবল স্টেইড ব্রিজ হয়ে কদমতলী রাউন্ড অ্যাবাউট দিয়ে ঝিলমিল/তেঘরিয়া সংযোগস্থলের কাছে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সমস্যা হচ্ছে-বিদ্যমান বাবুবাজার সেতুর ওপর দিয়ে অতিক্রম করার ফলে কারিগরি কারণে ফ্লাইওভারটির শেষ প্রান্ত কদমতলী ইন্টারসেকশন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া তেঘরিয়া মোড় থেকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্মাণাধীন ইকুরিয়া-মাওয়া (এন-৮) সড়কের ওপর নির্মিতব্য ফ্লাইওভারের সঙ্গে সমন্বয় করে শেষ প্রান্ত কদমতলী মোড় থেকে ৬৬৪ মিটার দূরে চুনকুটিয়া পর্যন্ত করার ব্যাপারে মতামত আসে। যদিও সমীক্ষা অনুযায়ী প্রকল্পটির অ্যালাইনমেন্ট ফকিরাপুল-বিজয়নগর

ইন্টারসেকশন-নয়াবাজার ইন্টারসেকশন-৪র্থ বুড়িগঙ্গা সেতু-কদমতলী ইন্টারসেকশন-চুনকুটিয়া-ঝিলমিল পর্যন্ত। এটি অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বোর্ডসভায়। অনুমোদিত এ লেআউট তুলে ধরা হয় পরবর্তী ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে। এতে প্রধানমন্ত্রী ৩টি নির্দেশনা দেন। প্রথমেই বলা হয় ফ্লাইওভারটি ফকিরাপুল থেকে চুনকুটিয়া পর্যন্ত করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে টোলের দাবি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও এসেছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

এর পর ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর প্রকল্পের রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) আহ্বান করা হলে ৬টি প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে শর্টলিস্টে আসে ৩টি প্রতিষ্ঠান। এ পর্যন্তই ছিল প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি। এদিকে অ্যালাইনমেন্টই চূড়ান্ত না হওয়ায় সঙ্গত কারণেই প্রকল্প আর এগোয়নি।

২০১৮ সালের ৩০ মে পিপিপি কর্তৃপক্ষের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্পের লেআউট প্ল্যান দেখানো হয়। সে সময় প্রকল্প এলাকার অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানদের নিয়ে বৈঠকের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র মতে, প্রকল্পটির অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণের ক্ষেত্রেই একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আপত্তি আসে। এ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানায়, ফ্লাইওভারটির আপ র‌্যাম্প ও ডাউন র‌্যাম্প কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি স্থানে থাকবে। এটি এমআরটি লাইন-২ ও কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় সংযুক্ত হবে। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশ দিয়ে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণেরও পরিকল্পনা আছে। তাই রুট নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা করা জরুরি।

এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইকুরিয়া-মাওয়া সড়কটি দেশের প্রথম অ্যাকসেস কনট্রোলড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সমন্বিত। ইকুরিয়া মহাসড়কের কাজও চলছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। শান্তিনগর ফ্লাইওভারের ব্যাপারে ডিটিসিএ মনে করে, শুধু ছোট যানই নয়, গণপরিবহন চলাচলের সুযোগ থাকতে হবে। মেট্রোরেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমলাপুর রেলস্টেশন এমআরটি লাইন-২ এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণের জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এসব বিবেচনায় প্রকল্পটির অ্যালাইনমেন্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারণের পরামর্শ আসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে। এ রকম বিভিন্ন সংস্থার আপত্তির কারণে সংস্থাপ্রধানদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। আর সে বৈঠকের পর সম্ভাব্য রুটের খসড়া উপস্থাপন করা হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং কোনো পরামর্শ থাকলে তা সমন্বয়ের মাধ্যমে অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত হবে এবং এর পরই কার্যত প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

advertisement