advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফাহাদের কোনো কথা না শুনে পেটাতে থাকে অনিক-সকাল

আদালত প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:৪৩
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যামামলায় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য মো. মুজাহিদুর রহমান ৫ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় অন্যদের সঙ্গে তিনি নিজেও পেটানোর কথা স্বীকার করে জানান, ফাহাদ বারবার প্রাণ বাঁচানোর জন্য অনিক ও সকালের পা জড়িয়ে ধরলেও তারা তা কানে তোলেননি।

এদিকে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ হত্যামামলায় গ্রেপ্তার বুয়েট শিক্ষার্থী শামীম বিল্লাহ ও মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রার ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া সদ্য বহিষ্কৃত বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ৫ আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড শেষে গতকাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মুজাহিদুর রহমান বলেন, অনিক সরকার, সকাল, জিয়নসহ অন্যদের সঙ্গে আমিও আবরার ফাহাদকে

নির্যাতনে অংশ নিয়েছিলাম। নির্যাতনের সময় আবরার ফাহাদ প্রাণ বাঁচাতে বারবার পা জড়িয়ে ধরেন অনিক সরকার ও সকালের। কিন্তু তারা আবরারের কোনো কথা না শুনে পেটাতে থাকেন। আমাকেও তারা পেটাতে বলেন। তাই আমিও কয়েকটি আঘাত করেছিলাম। তার এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসী। এর পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলাটিতে এর আগে সদ্য বহিষ্কৃত বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল এবং ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়নও দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহিদুজ্জামান গতকাল রবিবার আদালতে আসামিদের হাজির করেন। তিনি শামীম ও মুয়াজের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম মামনুর রশিদ শুনানির পর দুজনের ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও এসআই মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফকির আবদুল মজিদ ও কামরুল হোসেন রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটিতে শামীম ও মুয়াজ যথাক্রমে ১৪ ও ১৮ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

এদিন গত ৮ অক্টোবর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে আদালতে হাজির করা হয়। অপর চার আসামি হলেনÑ ছাত্রলীগ থেকে এ কা-ের জেরে বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ (২২), ছাত্রলীগ কর্মী মুনতাসির আল জেমি (২১) ও খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির এবং গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না। শুনানিকালে কোনো আসামির পক্ষেই আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ছাড়া রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে মিজানুর রহমানকেও। বর্তমানে রিমান্ডে আছেনÑ সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (২৩), মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, শামসুল আরেফিন রাফাত, অমিত সাহা ও হোসেন মোহাম্মাদ তোহা।

advertisement