advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সৌদি প্রবাসীদের ভোটার করতে অনলাইনে কার্যক্রম শুরু

কামাল পারভেজ অভি,সৌদি আরব
১৪ অক্টোবর ২০১৯ ১৬:৩৯ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ১৬:৩৯
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভোটার করতে অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে।

প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য আলাদা সার্ভারও তৈরি করা হচ্ছে। ভোটারের কাছ থেকে আবেদন ফরমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে তা যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরকে এনআইডি দেওয়া হবে। এজন্য একটি আলাদা বিধিমালা তৈরি করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই অনলাইনে আবেদনের জন্য একটি পৃথক সার্ভার তৈরি করে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রথমেই সৌদি আবর, এরপর যুক্তরাজ্য, দুবাই, সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা পর্যায়ক্রমে এ সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে সুযোগ পাবেন কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।

তবে প্রবাসীদের ভোটার হতে হলে ইসি প্রণীত ভোটার বিধিমালায় অন্তত আটটি তথ্যের বেশি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এজন্য বিধিমালায় সংযোজন করা হয়েছে ফরম-২(ক)।

দেশে বসবাসরত নাগরিকদের ফরম-২ এবং বিদেশি নাগরিকরা যাতে দ্বৈত ভোটার হতে না পারে,সেজন্য ৩২টি বিশেষ এলাকার জন্য ফরম-২ এর সঙ্গে বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হয়।

সম্প্রতি ইসি সচিব আলমগীর স্বাক্ষরিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন বিধিমালা সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বসবাসরত দেশে ইসির স্থাপিত রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে গিয়ে কিংবা অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তিনি সর্বশেষ যে এলাকায় বসবাস করেছেন বা নিজের অথবা বাবার বাড়ির ঠিকানায় ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। পরবর্তীতে তার আবেদন সেই এলাকার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের পর ১০ আঙ্গুলের ছাপ,চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি ও ভোটারের ছবি তুলে এনআইডি সরবরাহ করা হবে। এর আগের রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে ও ইসির ওয়েবসাইটে দাবি-আপত্তির জন্য তালিকা দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে।

প্রবাসীদের ফরম পূরণের ক্ষেত্রে পিতার নাম ও মাতার নাম ইংরেজি ও বাংলায়,বসবাসরত দেশের নাম,জিপ কোড,বাসা ও হোল্ডিং নম্বর,স্টেট বা প্রদেশ,ফোন নম্বর,শনাক্তকারী ব্যক্তির নাম প্রভৃতি আটটি তথ্য বেশি দিতে হবে। এছাড়া পাসপোর্ট নম্বর,কর শনাক্তকরণ নম্বরও (টিআইএন)উল্লেখ করতে হবে ফরমে।

দেশে বসবাসরতদের জন্য পিতার নাম বা মাতার নাম বাংলা কিংবা ইংরেজি যেকোনো একটায় লিখলেই হয়। ফরম-২-এ সেভাবে ঘর করা আছে।পাসপোর্ট নম্বর ও টিআইএন না দিলেও চলবে, কেননা সেখানে ‘যদি থাকে’ লেখা রয়েছে।

দেশের বসবাসরতদের জন্য ফরমে স্বাক্ষর করতে হয় শনাক্তকারী ব্যক্তির তথ্যের আগেই। আর নামও উল্লেখ করতে হয় না। কিন্তু প্রবাসীদের বেলায় স্বাক্ষর করতে হবে শনাক্তকারী ব্যক্তির তথ্য দেওয়ার পর। অর্থাৎ প্রবাসীদের ফরমে শনাক্তকারীর নাম, এনআইডি নম্বর ও স্বাক্ষর দিতে হবে। এই স্বাক্ষরও অনলাইনের মাধ্যমে দেশের কোনো আত্মীয় বা পরিজন দিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রায় ১৮ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রবাসীরা ভোটার না হওয়ার কারণে দেশে কিংবা বিদেশে জরুরি কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।

advertisement