advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ‘গণধর্ষণ’, বিচার চাওয়ায় বাড়ির পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

গাজীপুর সদর প্রতিনিধি
১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২১:৩০ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
প্রতীকী ছবি
advertisement

বাড়ির পাশে একটি পানির পাম্প চালু করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থানায় মামলা করেন তিনি। মামলার পর ওই গৃহবধূর বাড়িতে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন আসামিরা।

গত শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ওই গৃহবধূর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নায়, গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিরা তাকে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছেন।

ওই গৃহবধূর অভিযোগ, মামলার পর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো উদ্যোগ নেই।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, শ্রীপুর পৌর এলাকার বহেরার চালা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন, একই গ্রামের নাজমুল মাঝি, কায়েশ মাঝি ও মামুন।

ওই গৃহবধূর অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর বাড়ির পাশে একটি পানির পাম্প চালু করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে গণধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় পর ওইদিনই থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। দ্বিতীয় দফায় গত ১০ অক্টোবর তিনি থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগটি ১২ অক্টোবর থানায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

থানায় অভিযোগ দেওয়ার কারণে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার দুপুরে তার বাড়ির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে জানান ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ।

জানা যায়, ওই গৃহবধূর সঙ্গে আসামিদের শত্রুতার জের মূলত ২০১০ সাল থেকে। তখন ওই গৃহবধূ প্রতিবেশী তোফাজ্জলের বাসা সংলগ্ন মার্কেটে দোকান ঘর ভাড়া নেন এবং সেখানে টেইলারিং হাউজ গড়ে তোলেন। ওই দোকান চালিয়ে তার আয় দিয়ে এলাকায় একটি জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেন। এক বছর আগে তার দোকানের এক কারখানা শ্রমিককে বিয়ে করেন ওই গৃহবধূ। সম্প্রতি তার বাড়ির জায়গা নিয়ে আসামিরা বিরোধ সৃষ্টি করেন। 

শ্রীপুর পৌর সভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন জানান, একজন গৃহবধূর বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন খুবই অমানবিক। তিনি এ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক আকতার হোসেন জানান, মামলার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। বাদীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে মামলার পর নির্যাতিতার বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা কেউ পুলিশকে অবহিত করেনি। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে মানবিক কারণে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

advertisement