advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যু, সংঘর্ঘে পুলিশসহ আহত ২৫

পীরগঞ্জ প্রতিনিধি
১৬ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:০২ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:০২
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে শামছুল হক (৫৫) নামের এক আসামির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে না পারায় ওই আসামিকে পিটিয়ে হত্যা করে তারপর আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে ওই আসামির মৃত্যুর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন।

খবর পেয়ে রংপুরের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে। পরে নিহত শামচ্ছুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে, নিহত ছামছুলের গ্রেপ্তারের সঙ্গে জড়িত সব পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত শামছুল হককে মাদক কেনা বেচার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে ভেন্ডাবাড়ি তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে আটক রাখা হয়।

তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমীনুল ইসলাম জানান, আজ সকাল ৯টায় ফাঁড়ির হাজত খানায় গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শামছুল গ্রিলের সঙ্গে তার পরনের ফতুয়া দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমার স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর আমাদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। তার এই দাবির টাকা পূরণ করতে না পারায় তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। আমি এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই।’

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, নিহত শামছুলকে গ্রেপ্তারে সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের সবাইকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না এটি হত্যা না আত্মহত্যা।’

advertisement