advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধার নাম লেখাতে গিয়ে ‘তুলকালাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী
১৬ অক্টোবর ২০১৯ ২০:৩৪ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:৫৫
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে লেখা ‍নামফলকে। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের ফলকে নাম লেখার ইস্যু নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর ছেলে স্কুলশিক্ষক মাজেদুর রহমানকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ। একই সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকেও মারধর করা হয়েছে।

অপরদিকে শিক্ষক মাজেদুরের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ আনা হয়েছে পুঠিয়া থানায়। আজ বুধবার দুপুরে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাজেদুরকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এনিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, পুঠিয়ার রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা স্কুলে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করার উদ্যোগ নেন। এটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। শহীদ মিনারটি নির্মাণে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও স্থানীয় লোকজন আর্থিকভাবে সহায়তা দেন। ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী ছিলেন এই শহীদ মিনারে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারীদের অন্যতম। স্থানীয় সম্মানিত মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ফলকে স্কুল কর্তৃপক্ষ রহমত আলীর নাম ব্যবহার করেন।

স্থানীয় লোকজন ও স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আরও জানা যায়, এই নাম ফলক নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হন। পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু সরাসরি এটি নিয়ে আপত্তি জানায়। এটি দ্রুত সমাধান করে নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দুটি পক্ষ হয়ে যায়। গত সোমবার উপজেলা চেয়ার‌্যান জিএম হিরা বাচ্চু প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে ওই স্কুলের শিক্ষক এবং মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর ছেলে মাজেদুর রহমান গত সোমবার বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। শহীদ মিনারের ফলক থেকে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর নাম যেন ভেঙে ফেলা না হয় সেজন্য তিনি জোর প্রচেষ্টা চালান। তিনি স্থানীয় শিক্ষা অফিসারের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেন।

তবে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক মাজেদুরের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ তোলেন স্থানীয় একটি অংশ। এ নিয়ে রাত ১০টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন মিলে তাকে মারধর করে। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সময় তারা রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবুল কালাম আজাদের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়। প্রধান শিক্ষককে পেয়ে তাকেও মারধর করা হয়।

প্রধান শিক্ষক অবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর নামফলক নিয়ে একটা আপত্তি উঠেছিল। আমাকে এই নাম ফলক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানও আপত্তি জানান। এটি সরকারি কোনো অর্থে হয়নি এবং মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর নাম কেন ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও আমি তাকে জানাই। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথেও যোগাযোগ করেছি।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘ছাত্রী স্ত্রীলতাহানীর বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী দাবি করেছেন, ‘শহীদ মিনারে আমার নাম থাকার ইস্যু নিয়েই ওরা মাজেদুরকে মারপিট করেছে। ও যাতে এ নিয়ে না এগোয় এ জন্যই ওর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। প্রভাবশালীরা এটা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একসঙ্গে সাথে অনেকজন প্রাইভেট পড়ে সেখানে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করছে। এটা মিথ্যা।’

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘শিক্ষক মাজেদুর রহমানকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় গ্রামবাসী। পরে থানায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মীর মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘শহীদ মিনারে নামফলক নিয়ে বিরোধের বিষটি সম্পর্কে আমার জানা আছে।’ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএও) মো. অলিউজ্জামান বলেন, ‘দুটি ঘটনা আমি শুনেছি। একটি হলো শহীদ মিনারের উদ্বোধনী ফলকে মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার নিয়ে বিরোধ। আরেকটি এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলেছি।’

ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর বিষয়ে কথা বলতে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান জিএমহিরা বাচ্চুর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে, ফলকে মুক্তিযোদ্ধার নাম নিয়ে তার আপত্তির বিষয়ে গত সোমবার তিনি জানান, তিনি প্রধান শিক্ষককে নামফলক ভাঙার বিষয়ে কিছু বলেননি বা আপত্তি করেননি।

advertisement