advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভারত পাকিস্তানের চেয়ে ক্ষুধার্ত কম বাংলাদেশে

আমাদের সময় ডেস্ক
১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:৫৫
advertisement

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) আগের অবস্থান থেকে এ বছর দুই ধাপ পিছিয়ে পড়েও বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে। তবে এখনো ক্ষুধা নিরসনে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য প্রতিবেশী দেশ নেপাল, শ্রীলংকা, মিয়ানমারের তুলনায়। এ বছর বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮। গত বছর এই সূচকে বাংলাদেশ ৮৬তম অবস্থানে ছিল। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে

গত মঙ্গলবার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আয়ারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও জার্মানিভিত্তিক ওয়েলথ হাঙ্গার লাইফ যৌথভাবে ১১৭টি দেশের ওপর এই সূচক প্রকাশ করেছে। ক্ষুধার সংজ্ঞা নির্ধারণে সূচকে অপুষ্টি, খর্বাকৃতি শিশুর সংখ্যা, শীর্ণকায় শিশু ও শিশুমৃত্যুর হারকে বিশেষভাবে আমলে নেওয়া হয়েছে।

এই সূচকে ০ থেকে ১০০ পয়েন্টের মাপকাঠিতে দেশগুলোকে ফেলে যাচাই করা হয় কোন দেশ কতটা ক্ষুধাপীড়িত। এই মাপকাঠিতে কোনো দেশ ০ পেলে তা সবচেয়ে ভালো ফল। অর্থাৎ ওই দেশে কোনো ক্ষুধাপীড়িত মানুষ নেই। একই মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ স্কোর ১০০। কোনো দেশ এই স্কোর করার মানে সেখানে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। ১০-এর কম স্কোর পাওয়ার অর্থ হলো সেই দেশে ক্ষুধা সমস্যা কম। ২০ থেকে ৩৪.৯ স্কোরের অর্থ তীব্র ক্ষুধা, ৩৫ থেকে ৪৯.৯ অর্থ ভীতিকর ক্ষুধা আর ৫০ বা তার বেশি স্কোর বোঝায় চরমভাবে ভীতিকর ক্ষুধায় পীড়িত দেশকে। এই মাপকাঠিতে চলতি বছরের সূচকে মোট ১১৭টি দেশের মধ্যে ২৫.৮ স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ‘তীব্র ক্ষুধাপীড়িত’ দেশের তালিকায়। যদিও চার বছর ধরে ক্ষুধা দূরীকরণে বাংলাদেশ ধারাবাহিক উন্নতি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক এই সূচকে ক্ষুধা নিরসনের তালিকায় প্রথম পাঁচে আছে যথাক্রমে বেলারুস, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, চিলি ও কোস্টারিকা। সব শেষ অবস্থানে আছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ১০২, পাকিস্তান ৯৪, নেপাল ৭৩, আফগানিস্তান ১০৮ ও মিয়ানমার ৬৯তম অবস্থানে আছে।

ক্ষুধা নিরসনে চলতি বছরসহ গত পাঁচ বছরে অবস্থানে খুব সামান্য তারতম্য না হলেও দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতির চিত্র। ২০০০ সালে জিএইচআইতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০-র মধ্যে ৩৬.১ অর্থাৎ ‘ভীতিকর’। কিন্তু পাঁচ বছর পর ২০০৫ সালের সূচকে সেই স্কোর কমে দাঁড়ায় ৩০.৭ অর্থাৎ বাংলাদেশ ‘ভীতিকর’ থেকে ‘তীব্র’ ক্ষুধাপীড়িত দেশের পর্যায়ে চলে আসে। আরও পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে স্কোর সামান্য একটু কমে হয় ৩০.৩। আর তারপর টানা নয় বছরের ব্যবধানে এবার বাংলাদেশের স্কোর ২৫.৮। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। তার পরও বাংলাদেশ বৈশ্বিক অবস্থানে দুই ধাপ পিছিয়েছে, কারণ অন্যদের উন্নতি ঘটছে আরও দ্রুতগতিতে।

advertisement