advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সন্ত্রাস-অপশক্তি রুখতে বুয়েটে গণশপথ

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০১:১০
advertisement

সকল প্রকার সন্ত্রাস, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দিতে গতকাল বুধবার শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বেলা একটার দিকে বুয়েট মিলনায়তনে আয়োজিত এ শপথকালে বুয়েট উপাচার্য ও প্রাধ্যক্ষ উপস্থিত থাকলেও অংশ নেননি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করার জেরে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস। গণশপথ শেষে এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের আমরা বোঝাচ্ছি। ওরা বুঝছে। ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমে আসছে।
গতকাল বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে শপথের জন্য বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরে মিলনায়তনে এ গণশপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথবাক্য পাঠ করান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিয়া রিজওয়ানা।
শপথবাক্যে বলা হয়Ñ ‘এ মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সকলের কল্যাণ ও নিরাপত্তার নিমিত্তে আমার উপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, নৈতিক ও মানবিক সকল প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আমার জ্ঞাতসারে হওয়া প্রত্যেক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকব।
‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেব। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সমূলে উৎপাটিত করব। এ আঙ্গিনায় আর যেন কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায়। আর কোনো নিরপরাধ যেন অত্যাচারের শিকার না হয়, সবাই মিলে নিশ্চিত করব।’
মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের জেরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শুরু হওয়া আন্দোলন মাঠপর্যায়ে স্থগিত করা হলেও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনরতরা। ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে যাদের নাম আসবে, তাদের সবাইকে বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের একজন আরিফ ইবনে আলী বলেন, গণশপথের মধ্য দিয়ে মাঠের আন্দোলন শেষ হলো। তবে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, সেটিও পর্যবেক্ষণে থাকবে।
প্রসঙ্গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরার ফাহাদকে ডেকে ছাত্রলীগের ‘টর্চার সেল’ হিসেবে পরিচিত ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকা-ের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।
আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতোমধ্যে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যারা এ হত্যাকা-ে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী যাদের এ কা-ের জেরে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েট শিক্ষার্থীরা খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি, বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য। বুয়েটের কোনো শিক্ষার্থী ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, কাজেও এর বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা।

সব ঠিক হয়ে যাবে : বুয়েট ভিসি
বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম গতকাল গণশপথ শেষে গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের আমরা বোঝাচ্ছি। ওদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমে আসছে। তিনি বলেন, মামলার চার্জশিটের পর ক্লাসে ফিরলে দেরি হয়ে যাবে। ওদের শিক্ষাক্রমে সমস্যা হবে। তাই আমরা ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। আশা করি একটা ভালো রেজাল্ট আসবে। আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি।

 

advertisement