advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুখ খুলতে শুরু করেছেন সম্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ১৪:০০
পুরোনো ছবি
advertisement

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট রাজধানীর ক্যাসিনো কারবার নিয়ে পিলে চমকানো তথ্য দিয়েছেন, ফাঁস করেছেন বেশকিছু প্রভাবশালী রাজনীতিকের নাম- যারা তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেতেন। এর মধ্যে যুবলীগের শীর্ষপর্যায়ের এক নেতাও রয়েছেন। তবে তাদের নামধাম এ মুহূর্তে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে সম্রাটের বিরুদ্ধে করা মাদক ও অস্ত্র মামলা তদন্তের ভার র‌্যাবের হাতে ন্যস্ত করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশকে এ আদেশ দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ মামলার নথিপত্র ও সম্রাটকে আনুষ্ঠানিকভাবে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। সম্রাটের সহযোগী আরেক বহিষ্কৃৃত যুবলীগ নেতা এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভারও র‌্যাবে ন্যস্ত করা হচ্ছে।

সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র ও মাদক মামলায় গত মঙ্গলবার ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সংশ্লিষ্ট আদালত। একই সঙ্গে তার সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানেরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

প্রথম দিন গতকাল রমনা থানা পুলিশ সম্রাটকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাজধানীর ক্যাসিনো কারবারের শুরু, বিস্তার, মাসোহারা কারা পেতেন- ইত্যাদি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনই সম্রাট চমক দেওয়ার মতো তথ্য দিয়েছেন। বেশকিছু প্রভাবশালী রাজনীতিকের নামও বলেছেন সম্রাট, যারা তার কাছ থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের বখরা নিতেন। এর মধ্যে যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতাও রয়েছেন। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম গণমাধ্যমে বলবে না বলে জানিয়েছে।
এদিকে গতকাল র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম আমাদের সময়কে বলেন, সম্রাট ও আরমানের মামলার তদন্তভার পেয়েছে র‌্যাব। এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটের রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সম্রাট ও আরমানের একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা তাদের গ্রেপ্তার দেখানোসহ ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ওইদিন শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর ধার্য করা হয়। কিন্তু এর আগেই কারা কর্তৃপক্ষ সম্রাটকে অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করায় সেদিনের শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর ধার্য করেছিলেন আদালত।
১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। নানা গুঞ্জনের পর ৭ আগস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং টর্চারের কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। এরপর রাজধানীর রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে র‌্যাব।

advertisement