advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কিশোরগঞ্জ আদালতে ভাঙচুর বিচারক অবরুদ্ধ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:৫৫
advertisement

কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এ এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে পুলিশ আটকের পর হাতকড়া পরিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখার প্রতিবাদে আদালতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোলায়মানকে আধাঘণ্টা তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে বিচারক মো. সোলায়মানকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা সোয়া ১টার দিকে আদালত চলাকালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইকবাল হোসেন বিপ্লব একটি মামলার নথি দেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীর কাছ থেকে নেন। তিনি আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে নথির কাগজপত্র দেখার সময় মামলার শুনানির ডাক পড়ে। এ সময় আইনজীবী বিপ্লব নথিটি আবার বেঞ্চ সহকারীর কাছে ফেরত দেন। বেঞ্চ সহকারী নথিটি ট্রাইবু্যুনাল ২-এর বিচারক মো. সোলায়মানের কাছে উপস্থাপন করেন। সেই সময় বিচারক আইনজীবী বিপ্লবের কাছে জানতে চান মামলার নথি নিয়ে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন। আইনজীবী বিপ্লব নথিটি বেঞ্চ সহকারীর কাছ থেকে চেয়ে নেওয়ার বিষয়টি আদালতকে জানান। কিন্তু বিচারক আইনজীবী বিপ্লবকে মামলার ‘নথি চোর’ আখ্যা দিয়ে তাকে আটকের নির্দেশ দেন পুলিশকে। পুলিশ আইনজীবী বিপ্লবকে তাৎক্ষণিক আটক করে হাতকড়া পরিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ ঘটনার পর পরই জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল আলমসহ উপস্থিত বেশ কয়েকজন আইনজীবী বিপ্লবকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু বিচারক অনুরোধ না রাখলে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা আদালত বর্জন করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌসের নেতৃত্বে বিচারকের এজলাসে ছুটে গিয়ে বিপ্লবকে ছাড়িয়ে নেন। এ সময় উত্তেজিত আইনজীবীরা এজলাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং বিচারক মো. সোলায়মানকে আধাঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে আদালতে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে বিচারককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরেই আদালত প্রাঙ্গণে দফায় দফায় মিছিল করেন বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা আইনজীবী সমিতি এক জরুরি সভা করে বিপ্লবকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা জানান। সভায় গতকাল রাতের মধ্যে বিচারক মো. সোলায়মানকে চাকরিচ্যুত করে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করতে প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিচারক সোলায়মানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করারও সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবীরা। দাবি না মানলে আইনজীবীরা লাগাতার আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।

কিশোরগঞ্জ বারের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, এজলাসের বেঞ্চ সহকারীর অনুমতিক্রমে একজন আইনজীবী যে কোনো মামলার নথি দেখতেই পারেন। আইনজীবী বিপ্লব তাই করেছেন। কিন্তু বিচারক মো. সোলেয়মান কোন আইনে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে এজলাসের ভেতরে অবৈধভাবে হাতকড়া পরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখলেন বুঝতে পারলাম না। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করব।

বিষয়টি নিয়ে জানতে একাধিকবার বিচারক মো. সোলায়মানকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আইনজীবীদের আলটিমেটামের ব্যাপারে আদালত কর্তৃপক্ষও কোনো বিবৃতি দেয়নি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আদালতজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

advertisement