advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু আগামী সপ্তাহে

আসাদুর রহমান
১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ১০:৫৭
বিজিএমইএ ভবন। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

অবশেষে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর পরিত্যক্ত ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই এটি ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জলাশয়ে অবৈধভাবে নির্মিত ১৬ তলা ভবনটি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে নয়, ভাঙা হবে হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ম্যানুয়ালি। ৬ মাস আগে ছেড়ে যাওয়া ভবনটি ভাঙার জন্য কোনো খরচ দেবে না বিজিএমইএ।

উচ্চ আদালতের রায়ের পর হাতিরঝিলের ‘ক্যান্সার’ তকমা পাওয়া ভবনটি ভাঙার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা কাজ পেলেও পরে পিছু হটেন। এ অবস্থায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি গত মঙ্গলবার অনুমোদন দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রামের ‘ফোর স্টার’ নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র সম্পাদন হবে। চুক্তি সম্পাদনের দিন থেকেই ভাঙার কাজ শুরু করা যাবে, যা শেষ করতে হবে ৬ মাসের মধ্যে।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী ও হাতিরঝিল প্রকল্প পরিচালক এএসএম রায়হানুল ফেরদৌস আমাদের সময়কে বলেন, প্রথম দরদাতা প্রতিষ্ঠানের দর নিয়ে আমরা অনুমোদন দিয়েছিলাম; কিন্তু যখন তাদের কাছে চুক্তিপত্র চাইলাম তখন তারা অপারগতা প্রকাশ করল। পরে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দরদাতা প্রতিষ্ঠান ফোর স্টার গ্রুপকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তারা হয়তো আগামী সপ্তাহে চুক্তিপত্র দাখিল করবে, ওই সপ্তাহেই আমরা কার্যাদেশ দেব। কোন পদ্ধতিতে ভাঙা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যানুয়ালি। হয়তো কিছু যন্ত্রও ব্যবহার করা হবে।

জানা গেছে, রাজউকের মূল্যায়নে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার পর সেখান থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের সামগ্রী পাওয়া যাবে। যে প্রতিষ্ঠান ভবনটি ভাঙবে তারা সেগুলো রাউজকের কাছ থেকে কিনে নেবে। এ সংক্রান্ত দরপত্রে বলা হয়, ভবন ভাঙার জন্য আলাদা কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। যারা ভবন ভাঙবেন তারাই মালামাল কেনার দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ মূল্য উল্লেখ করবে, তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স এক কোটি ৭০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিতে চাইলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তাদের কাজ দেওয়া হয়। পরে চুক্তিপত্র দিতে বললে তারা সরে দাঁড়ায়। তাদের জামানত থেকে ১০ শতাংশ হারে ১৭ লাখ টাকা কেটে রেখে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দরদাতা হিসেবে রয়েছে ফোর স্টার গ্রুপ। তারা দিতে চেয়েছে এক কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রথম দরদাতা সরে যাওয়ায় ফোর স্টার গ্রুপ কাজ পাচ্ছে। সাত দিনের মধ্যে (আগামী সপ্তাহে) তাদের চুক্তিপত্র দিতে বলা হয়েছে। চুক্তিপত্র দেওয়া হলেই কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাতিরঝিল প্রকল্পের ‘ক্যান্সার’ আখ্যায়িত করে এক রায়ে বিজিএমইএ ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে বিজিএমইএকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছ থেকে কয়েক দফায় সময় নিয়েছিল বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। আদালতের দেওয়া সবশেষ সময়সীমা শেষ হয় গত ১২ এপ্রিল। এর পর ১৫ এপ্রিল ভবনটির মালামাল সরিয়ে নিতে একদিন সময় বেঁধে দেয় রাজউক। পরে আরও একদিন সময় বাড়ানো হয়। ভবনে থাকা ১৯টি প্রতিষ্ঠান তাদের মালামাল সরিয়ে নিলে বিজিএমএইএ ভবন বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় রাজউক। এরই মধ্যে ভবনটি ভাঙার এবং ব্যবহারযোগ্য মালামাল কিনতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

advertisement