advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নষ্ট সময়ে তারুণ্যে প্রত্যাশা

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:২৬
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

বাংলা সাহিত্যে অনেক কবি-সাহিত্যিকই তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন। বলেছেন, তরুণ জরাগ্রস্ততায় ভোগে না। এ জরা শুধু দৈহিক নয়, মনস্তাত্ত্বিকও। তরুণ সতেজ। সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী। সাহসী-উদ্ভাবনী চিন্তা থাকে তার মধ্যে। ফলে অসুরকে তাড়িয়ে সুরের প্রতিষ্ঠা করে সে। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে এ দেশের ছাত্র আন্দোলন এবং গণআন্দোলনে তরুণেরই নেতৃত্ব ছিল। কারণ তরুণ ছিল নির্লোভ, নির্ভয়, দেশপ্রেমিক।

তারুণ্যের শক্তিকে খ্রিস্টপূর্ব যুগে চীনে কনফুসিয়াস আর গ্রিসে দার্শনিক সক্রেটিস ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন। তারা তরুণদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার পথ দেখাতে চেয়েছিলেন। বুঝেছিলেন তারুণ্যের শক্তি ছাড়া সুস্থ জীবন আর রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। তাই অন্যায়কারী গ্রিসের রাজা ও অভিজাতরা অনুভব করেন, তারুণ্যের এই উত্থান তাদের অচলায়তন ভেঙে ফেলবে। এ কারণে মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হয়েছিল সক্রেটিসকে।

আজ এতকাল পর কী দেখছি আমরা। আমাদের দেশে তারুণ্যের দাপুটে অংশকে সুবিধাবাদী রাজনীতিকরা নিজেদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্ধকারের গহ্বরে তলিয়ে যাওয়ার পথ দেখাচ্ছে। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থানকে চিহ্নিত করতে পেরেছিল। একই সঙ্গে গৌরবজনক প্রতিবাদী আন্দোলনের চারণভূমি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অবশ্য তখন প্রেক্ষাপটও ছিল আলাদা। স্বাধীন পাকিস্তানে পরাধীন হয়ে পড়েছিল বাঙালি। তাই মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ-ভাবনাকে মনে জায়গা দেননি। দেশাত্মবোধে উদ্দীপ্ত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধিকারের আন্দোলনে। আইয়ুব খান এনএসএফ তৈরি করে এই সুন্দর পরিম-লকে বিষাক্ত করতে চেয়েছিলেন। রক্তক্ষরণ হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সুবিধাবাদের বীজ বপন করে বৈপ্লবিক চেতনাকে নিবীর্য করে দিতে পারেনি।

দুর্ভাগ্য আমাদের, আইয়ুব খানের আরাধ্য কাজ সুচারুভাবে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখল স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষমতাপিয়াসী রাজনৈতিক দলগুলো। স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বৈপ্লবিক আন্দোলনের প্রয়োজন অনেকটা ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে সচেতন মানুষজনের নির্মোহ রাজনৈতিক চেতনা হারিয়ে যাওয়ার কথা নয়। শিক্ষা ও সামাজিক অধিকার, সুস্থ রাজনৈতিক চেতনার বিকাশÑ সব ক্ষেত্রে আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের। একমাত্র নব্বইয়ের গণআন্দোলন ছাড়া স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভুবন তেমন কোনো আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করতে পারেনি।

রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মোহগ্রস্ত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বেড়েছে। দলীয় সুবিধাবাদ প্রতিষ্ঠায় এসব দলের ক্রীড়নকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহমুক্ত ঐক্যবদ্ধ শক্তির সম্ভাবনার জায়গাটিকে ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড করে দেয়। দলীয় রাজনীতির আস্তাবল বানাতে থাকে। তবে মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেন্দ্রকে এভাবে দলিত-মথিত করা কঠিন। মোহগ্রস্ত করে ছাত্রদের একটি ছোট অংশকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্যাম্পাসে তাদের লেজুড় সংগঠন (বর্তমানে সুশব্দ হিসেবে সহযোগী সংগঠন বলতে রাজনীতিকরা স্বস্তিবোধ করেন) পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠনগুলোর ক্ষমতার উত্থান-পতন ঘটতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই মূল দলের ইঙ্গিতে ছাত্র সংগঠনের ছাত্ররা উন্মত্ত আচরণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার কল্যাণ চিন্তার বদলে মূল দলের নির্দেশ পালনেই ব্যস্ত থাকে। এই আসুরিক পরিবেশে নিজেদের গুটিয়ে নেয় মেধাবী মুক্তচিন্তার শিক্ষার্থীরা। সংখ্যায় সিংহভাগ হলেও তারা একাকী হয়ে যায়। বলা যায়, নিবীর্যও হয়ে পড়ে।

মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যকে সুপথে পরিচালনা করার সুযোগ ছিল। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও আশির দশক পর্যন্ত থানা-জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ছিল সক্রিয়। এই সংগঠনগুলো ঘিরে তরুণদের নান্দনিক চিন্তা ও দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলার একটি পথ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে রাজনীতিতে বিবদমান দলের অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যুক্তিবুদ্ধির রাজনীতি ক্ষমতার রাজনীতিতে এসে নিজের গৌরব হারিয়ে ফেলে। গণতন্ত্র চর্চার চেয়ে শক্তির চর্চা বেশি হতে থাকে। এ পথে তারুণ্যের একটি সরব অংশ অশুভ রাজনীতিকদের ক্রীড়নকে পরিণত হতে থাকে।

কয়েক বছর আগেও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রায় সারাদেশে চোরাগোপ্তা বা প্রকাশ্য মিছিল নিয়ে, বিশেষ করে পুলিশের ওপর হামলে পড়েছিল। গাড়ি ভেঙেছে, আগুন দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে অনেকে মনে করছেন, ওই সময় যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। তাই বিচার বিঘিœত করার জন্য তৈরি করতে চেয়েছিল অরাজক অবস্থা। আমরা মনে করি, সুস্থ মেধায় ভাবলে এ দেশের বাঙালি তরুণের এ কাজ করার কথা ছিল না। অর্থ আর অস্ত্রশক্তিতে বলীয়ান করে এবং প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা আড়াল করে ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে তাদের ‘বাঁচলে গাজি মরলে শহীদ’-এর দীক্ষা দিয়ে জঙ্গি ও অমানবিক বানানো হয়েছে। যে তরুণের সুন্দর আর ন্যায়ের পক্ষে থাকার কথা, দেশাত্মবোধে উদ্দীপ্ত হওয়ার কথাÑ তারা ঘোর অন্ধকারে নিপতিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, পাকিস্তানি হানাদারদের বাঙালি হত্যা, সম্পদ ধ্বংসকারী ও নারী ধর্ষণে সহযোগী কতিপয় মানুষকে রক্ষা করতে অধর্ম এবং অমানবিক কাজ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি যুক্তিবুদ্ধিহীন কলুষিত না হলে তারুণ্যের এই পরাজয় সর্বত্র দেখতে হতো না।

ফর্মুলায় আটকে থেকে কেউ কেউ বলে বেড়ান, ভবিষ্যৎ রাজনীতির শূন্যতা পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই থাকা উচিত। একই সঙ্গে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার এবং স্বাধীনতা-পূর্ব উজ্জ্বল ছাত্র রাজনীতিকে যারা উদাহরণ হিসেবে এনে দাঁড় করান, তাদের কী করে বোঝাইÑ ‘ছাত্র রাজনীতি’ আর বর্তমান ধারার লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি এক কথা নয়। যার যার দলীয় আদর্শ ধারণ করা বা তা বাস্তবায়নে দোষের কিছু নয় সত্য। সংকট তখনইÑ যখন দলীয় সমর্থনে রাজনীতি চর্চার বদলে দলীয় লাঠিয়ালে পরিণত হয় তারুণ্য। তারা গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ বুঝতে চায় না। মূল দলের নেতৃত্বের মতো তারাও পরমতসহিষ্ণুতাকে পরিত্যাজ্য ঘোষণা করে। মূল দল যেমন কপটতার আশ্রয় নিয়ে বলতে থাকে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’। সেদিক থেকে এসব দলের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছাত্ররা কপটতা না করে প্রভুদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যক্তিবন্দনাই করে। তাই তারা স্লোগানের ক্রমবিকাশ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে নিজেদের পরিচয় দেয় এভাবে-বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক, শেখ হাসিনার সৈনিক আর তারেক জিয়ার সৈনিক।

এ কারণে লেজুড় রাজনীতিতে যুক্ত তারুণ্য সাধারণ মানুষের তো নয়ই, নিজ রাজনৈতিক দলের আদর্শেরও সৈনিক হতে পারে না। মূল দলের ইচ্ছা পূরণের জন্য ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব বজায় রাখাটা প্রধান কাজ হিসেবে মনে করে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে যুক্ত থেকে তারুণ্যের আদর্শিক ও নৈতিক মনোভূমিকে অনুর্বর করে ফেলে। যারা ভাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি চর্চা করে, তারা ভবিষ্যতের রাজনীতিক হবেন-গণতন্ত্র রক্ষা করবেন, তা হলে আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের স্বাপ্নিক বলব। আমি পাঠকের কাছে একটি প্রশ্ন রাখছি, গত চার দশক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এমন একজনও কি পাওয়া যাবে-যারা অন্তত তাজউদ্দীন আহমদ, রাশেদ খান মেনন, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বা তোফায়েল আহমেদ হতে পেরেছেন? এ সময়ে ছাত্র রাজনীতি করা কেউ কেউ নিজ নিজ দল বা অঙ্গ সংগঠনের কান্ডারি হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চর্চা করেছেন, ওই অভিজ্ঞতায় দুর্নীতিবাজ হয়েছেন। সময়ের ফেরে তাদের অনেকে রাজবন্দি নন, দুর্নীতির দায়ে জেল-জরিমানায় আটকে গেছেন বা গিয়েছিলেন। এখন যদি আমূল সংস্কার ছাড়া সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকারের দোহাইয়ে প্রচলিত ধারার ছাত্র রাজনীতিকেই অনুমোদন করি, তা হলে আকাশের কালো মেঘ আরও জমাট হবে।

নষ্ট ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত না থেকে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভবিষ্যৎ রাজনীতিক হওয়ার দীক্ষা নিতে পারবে না? তা হলে একবার চোখ ফেরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধারার সাংস্কৃতিক সংগঠনে কর্মী ছাত্রছাত্রীরা কাজ করে যাচ্ছে। চর্চার সঙ্গে যুক্ত বলে তুলনামূলক বেশি রাজনৈতিক সচেতনতা থাকার কথা তাদের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনও আছে অনেকের। কিন্তু সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সাধারণত কোনো জাতীয় দলের সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নয়। তাই কোনো স্বার্থবাদিতা বা উন্মত্ত আচরণ খুব কমই তাদের মধ্যে দেখা যায়। তারা চাঁদাবাজি করে না, পকেটের পয়সা বাঁচিয়ে সংগঠন চালাতে চাঁদা দেয়। তারা অন্যদের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে সরকারদলীয় রাজনীতিতে যুক্ত-মত্ত সতীর্থদের হাতে মাঝে মধ্যেই লাঞ্ছিত হয়। তাই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির হাল ধরতে দুর্বৃত্ত রাজনীতির দীক্ষা নেওয়া অনিবার্য হতে পারে না। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আপাতনিরীহ হলেও প্রয়োজনে রাজনৈতিক সচেতনতা প্রকাশে দ্বিধা করে না। দলীয় রাজনীতির তুর্কিরা তো এখন বিরোধীপক্ষ না পেয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সূত্রে নিজেদের ওপরই পেশি ব্যবহার করে যাচ্ছে।

সব কিছুর পরও আমরা প্রত্যাশার জায়গাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। রাজনীতি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট আমরা অনেকেই আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ এমন দাবি করতে পারব না। যত নষ্ট সময়ই যাক, তবুও আমরা মনে করি তরুণ প্রজন্মই সুন্দরের স্বপ্ন বোনে ও নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম লালন করে। তারুণ্যের ইচ্ছা আর শক্তি ছাড়া সভ্যতার চাকা ঘুরিয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে আমরা আমাদের প্রত্যাশার জায়গা থেকে বলব, দায়িত্বশীলতার বোধ ও সংকীর্ণ স্বার্থবাদী চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের বুকে যদি কিছুটা দেশপ্রেম অবশিষ্ট থাকে, তা হলে এর সন্ধান করতে চাই। এর খোঁজ পেলে আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে তারুণ্যকে অন্ধকার থেকে বের করে আনা। দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে সুস্থ চিন্তায় বিকশিত হতে দেওয়া। দেশের সর্বত্র সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করে তোলা। এসব সংগঠনে তরুণ নেতৃত্ব ও তারুণ্যের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা। ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চার পরিবেশ তৈরি করা। এ ছাড়া সুবাতাস প্রবাহিত হওয়ার আর কোনো পথ আছে বলে আমরা মনে করি না।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement