advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আবরারের রক্তে গড়ে ওঠা আন্দোলন সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০২
advertisement

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের রক্তে গড়ে ওঠা আন্দোলন সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক নেতারা। তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে শপথ নিয়েছে, তা বুয়েটের বর্তমান উপাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সম্ভব হবে না। আবরার হত্যার পর কেউ কেউ ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে চান। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতারা। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ না করে এই খুনি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের এক মানববন্ধনে ডাকসুর সাবেক নেতারা এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক নেতাদের উদ্যোগে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন হয়। ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, আমানউল্লাহ আমান, সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, সাবেক এজিএস নাজিমউদ্দিন আলম প্রমুখ।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হলো প্রতিবাদের পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের পতাকা যেমন ছিল, আবরারও প্রতিবাদের পতাকা হয়ে আমাদের কাছে থাকবে। আবরারের রক্ত সব জাতিকে আজ ঐক্যবদ্ধ করছে। এই রক্তে ঐক্যবদ্ধ যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তা সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার, তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমান সংকট উত্তরণে একটি জাতীয় সরকার গঠনের দাবিও তুলে ধরেন রব।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গত বুধবার বুয়েট শিক্ষার্থীরা মিলে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শপথ নিয়েছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। কিন্তু আমি আরও বেশি অভিনন্দন জানাই ওখানকার শিক্ষক সমিতিকে। কারণ তারা এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। বলেছেন, ওই ভিসির (অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম) সঙ্গে শপথ নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। ভিসি আবরারকে রক্ষা করতে কোনো উদ্যোগ নেননি। তার জানাজায়ও অংশ নেননি। তার পরও ভিসি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ নিয়ে তার বাড়িতে গেছেন কবর জিয়ারত করতে। তাকে সঙ্গে নিয়ে কি সন্ত্রাস মোকাবিলা করা যাবে?

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, এই সরকার তাদের প্রভুদের কথায় চলে। গণতন্ত্রের জন্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ৯ বছর আন্দোলন করেছিলেন। সেই গণতন্ত্র আজ বন্দি। এই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে এবং আবরার হত্যার সত্যিকার বিচার করতে হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে।

‘ছাত্ররাজনীতি নয়, ছাত্রলীগের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত’

আসম আবদুর রব বলেন, আজকে কেউ কেউ ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে চান। ছাত্ররাজনীতি না হলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো না, এ দেশের গরিব মানুষের ছেলেরা পড়ালেখা করতে পারত না, গণশিক্ষা হতো না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আবরার হত্যাকা-ে জড়িত ছাত্রলীগের পা-ারা। ছাত্রলীগের ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকে আওয়াজ উঠবার কথা ছিলÑ এইরকম খুনি একটা ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হোক। কিন্তু কৌশলে সরকার এ রকম করলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হোক। যারা যারা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলে, তাদের বলিÑ ওই সময়ে বুয়েটে যদি ছাত্রদল, বামপন্থি ছাত্র সংগঠন থাকত তা হলে আবরারকে ধরে নিয়ে যাওয়ামাত্র প্রতিবাদে মিছিল হতো, সাংবাদিকদের টেলিফোন করত, ক্যামেরা যেত, পুলিশ আসত। আবরার বাঁচত। এগারো বছর ধরে এই নরকের মতো অবস্থা কারা তৈরি করেছে?

‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ হবেই’

২২ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে ঢাকা মহানগরবাসীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঢাকা মহানগরের কোটি কোটি মানুষ আছে, ওই কর্মসূচিতে আসুন। আমরা যদি আপনাদের কাছে যেতে না-ও পারি, যথেষ্ট প্রচার করতে না-ও পারি, আমাদের যদি অনুমতি দেওয়া না হয়, আমাদের যদি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তার পরও আমরা সেই কর্মসূচি পালন করব।

advertisement