advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৩ জঙ্গি ঢাকায় গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০২
advertisement

ভারতে বোমা তৈরি ও অস্ত্র পরিচালনায় প্রশিক্ষিত নব্য জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ। তারা হলেন মো. আব্দুল্লাহ, সফিকুল ইসলাম মোল্লাজী ও মোস্তফা হোসেন আরিফ। গত বুধবার রাতে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসিÑমিডিয়া মো. মাসুদুর রহমান জানান, উত্তরবঙ্গের একটি জেলা থেকে বাসযোগে নব্য জেএমবির কয়েকজন সদস্য সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী পরিকল্পনা করার জন্য ঢাকায় আসছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দারুসসালাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনই পুরনো জেএমবির সদস্য ছিলেন। পরে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি সোহেল মাহফুজের মাধ্যমে তারা নব্য জেএমবির সদস্য হন। তারা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অ্যাপস ও প্রটেকটিভ টেক্সট ব্যবহার করে নব্য জেএমবি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তার মোল্লাজী ও আরিফ নব্য জেএমবির সদস্য শাহিন আলম আল আমিন, জিয়াউর রহমান মহসিন ওরফে বাদল, আরিফ, কবির, জহিরুল ওরফে মামুনুর রশিদ ও হারুনসহ বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে নিয়ে যান। ভারতে গিয়ে তারা ঝাড়খন্ড, কেরালাসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভারতীয় জঙ্গিদের সঙ্গে যৌথভাবে বোমা তৈরি ও অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ নেন। এদের মধ্যে মহসিন ২০১২ সালে বান্দরবানে জেএমবির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত সালমান ওরফে তারেক হত্যা মামলার আসামি। জহিরুল ২০১৫ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কলেজ শিক্ষক কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস হত্যা মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত পলাতক আসামি।

গ্রেপ্তার তিন জঙ্গি ২০১৭ সালের শেষের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর হাসপাতালের পাশে মহানন্দা নদীর পাড়ে নব্য জেএমবির এক সভায় মহসিন ও বদরুলের মাধ্যমে ওই সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের জুনে মামুন, মহসিন ও শাহিন ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে আব্দুল্লাহ, মোল্লাজী ও আরিফ পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে জঙ্গিরা দেশে ফিরে এসে আব্দুল্লাহর মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে ফের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ২০১৭ সালের ওই সভায় উপস্থিত আরও কয়েক জনের নাম-ঠিকানা জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র আরও জানায়, সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার তিনজন অন্য সদস্যদের সঙ্গে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সশস্ত্র পন্থায় বর্তমান সরকারকে উৎখাত, দেশে তথাকথিত ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা, সদস্য সংগ্রহ, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য ঢাকায় এসেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তারা বাংলাদেশে নব্য জেএমবির সব সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের একত্রিত করার চেষ্টা করছিলেন।

advertisement