advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এসএমই খাতে মাত্র ২ শতাংশ অবিবাহিত নারী উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০২
advertisement

সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীরা শিল্পায়ন ও ব্যবসায় অধিক হারে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু একজন নারী এখনো স্বেচ্ছায় উদ্যোক্তা হতে পারছেন না। বিয়ের আগে মাত্র ১.৯ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা হচ্ছেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত ২০১৭’ শীর্ষক গবেষণার ফলে এ তথ্য বের হয়ে এসেছে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন প্রধান অতিথি ছিলেন। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কেএম হাবিব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান, এসএমএই ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও নারী উদ্যোক্তা ইসমত জেরিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ডিভিশনের কর্মকর্তা লীলা রশিদ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা মাসুমা বেগম, পাটপণ্য রপ্তানিকারক কোহিনুর ইয়াসমিন, সাংবাদিক সালাম জোবায়ের, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলশান নাসরিন চৌধুরী, রূপান্তরিত নারী (তৃতীয় লিঙ্গ) আফরোজা বেগম মৌরি মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

গবেষণায় জানা যায়, একজন নারী উদ্যোক্তা হতে সবচেয়ে বড় সমস্যা পুঁজির জোগান। পরিবার থেকে ছেলেকে ব্যবসার জন্য অর্থ দিলেও মেয়েকে দেওয়া হয় না। কেননা পরিবারের ধারণা মেয়ের অর্থ পরিবারে অবদান রাখবে না। তাই বিয়ের পরই উদ্যোক্তা হতে হয় নারীদের। এ ছাড়া পুঁজি জোগানে ক্ষেত্রে নিজের জমানো অর্থ, গয়না বিক্রির অর্থ ও চাকরি থেকে আয়ই মূল উৎস হয়। তবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষণার ফলে জানানো হয়, ২০০৯ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে শিক্ষিত ২০ শতাংশ নারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে তা বেড়ে ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ২০০৯ সালে ৪২ শতাংশ নারীকে পারিবারিকভাবে ব্যবসায় সম্পৃক্ত হতে নিরুৎসাহিত করা হতো। ২০১৭ সালে তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ নারীকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। ২০১৭ সালে এটি ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা ট্যাক্স দিতেন, যা ২০১৭ সালে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা ব্যবসার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করতেন, যা ২০১৭ সালের বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ সবই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে গবেষণার ফলে পাওয়া গেছে।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, ব্যবসাবাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ের বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক অগ্রগতি অব্যাহত রেখে নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি রূপান্তরিত নারীদের (তৃতীয় লিঙ্গ) জন্য ব্যবসাবাণিজ্যের সুযোগ বাড়িয়ে তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে নারীদের ওপর বড় ধরনের গবেষণা চালিয়ে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের পেছনে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং এর প্রতিকারে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং নারীদের বাদ দিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বিবেচনায় অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধান করছে। নারীদের নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের বড় ধরনের গবেষণা চালালে শিল্প মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

advertisement