advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভাইকে ফাঁসাতে মাদকাসক্ত ছেলেকে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০২
advertisement

ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া ও বড় ভাইকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য মাদকাসক্ত ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে হত্যা করে লাশ বিলের কচুরিপানার নিচে রেখেছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা পূর্বপাড়া গ্রামের আলাল উদ্দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্ত্রী হত্যাকা-ের এ তথ্য দেন তিনি। বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। হত্যাকা-ে জড়িত আলাল উদ্দিনের বড় ছেলে মাদকাসক্ত শরিফুল ইসলাম ও নিহতের বড় ভাই আবদুল মোতালেবের ছেলে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে দুপুরে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকা-ে নিহতের স্বামী, ছেলে ও ভাইয়ের ছেলে জড়িত থাকার কথা জানান পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। তিনি বলেন, গত ১৪ অক্টোবর মির্জাপুর উপজেলার আজগানা এলাকার আউলিয়াবাদ এলাকায় বিল থেকে সুফিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পর দিন নিহতের ভাই মেছের আলী মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশের বিভিন্ন সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামী আলাল উদ্দিন, ছেলে শরিফুল ইসলাম ও ভাতিজা স্বপন মিয়াকে কালিয়াকৈর উপজেলার মাটিকাটা থেকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, আলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার বড় ভাই মিনহাজ উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছে। এ ছাড়া তার স্ত্রী বিভিন্ন এনজিও থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যা পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তখন থেকেই আলাল ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার ফন্দি আঁটতে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। যাতে ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, বড় ভাইকেও হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া যাবে। সে পরিকল্পনামতো মাদকাসক্ত বড় ছেলে শরিফুল ও স্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে স্বপনকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ অক্টোরব ভোরে সুফিয়া আক্তারকে বাড়ির পাশে আউলিয়া বিলে নিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে লাশ কচুরিপানার নিচে রাখেন।

পুলিশ সুপার রঞ্জিত কুমার রায় আরও বলেন, হত্যার দুদিনের মধ্যে আমরা রহস্য উদ্ঘাটন ও মূল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে অতিদ্রুত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হবে।

advertisement