advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাংলাদেশে বিনিয়োগে লাভের সুযোগ বেশি

হামিদ উল্লাহ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০২
advertisement

মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে বাংলাদেশ। তবে এখনো সস্তায় শ্রম পাওয়া যায়। মুসলমানপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ ইন্দোনেশিয়ার প্রতি খুবই ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। এসব বিবেচনায় ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা উচিত। এতে তারাই বেশি লাভবান হবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাকার্তায় এক সেমিনারে এভাবেই ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান বক্তারা।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার বিএসডি এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে গতকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ইন্দোনেশিয়, বাংলাদেশ অ্যান্ড নেপাল বিজনেস ফোরাম নেটওয়ার্ক সেশন শীর্ষক সেমিনার। এতে তিন দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন আলোচকরা।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশ বা নেপালের তুলনা চলে না। তবুও ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। উঠে আসে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টিও।

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি করে। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ হাজার ১০৭ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য হচ্ছে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার। আর ইন্দোনেশিয়া থেকে মূলত টেক্সটাইল সামগ্রী ও খনিজ দ্রব্য আমদানি করে বাংলাদেশ।

সেমিনারে বক্তরা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল এবং আর্থসামাজিক বিভিন্ন সূচকে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে। বাংলাদেশ যেহেতু ‘আসিয়ান’-এর প্রবেশদ্বার, তাই বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে এ ভৌগোলিক অবস্থানের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে। গত দুই বছরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বক্তরা বর্তমান সরকারের উদার বিনিয়োগ নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথাও ব্যক্ত করেন।

ইন্দোনেশিয়ায় শিল্পকারখানা গড়ে তোলা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. বোরহান উদ্দীন আমাদের সময়কে বলেন, বিনিয়োগের জন্য ইন্দোনেশিয়া একটি চমৎকার দেশ। তবে বাংলাদেশও গত দুই দশকের চেয়ে এখন অনেক বেশি এগিয়ে আছে। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ২৬ কোটি জনগণের স্থানীয় চাহিদাও অনেক বেশি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিথায়াসমিয়াশ্রি সোমারনো আমাদের সময়কে বলেন, ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিশ্বের ১৬তম বৃহৎ অর্থনীতি এবং জি ২০-এর অন্যতম সদস্য। বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া এশিয়ার দুটি নিকটতম দেশ। দুদেশই উন্নয়নশীল পর্যায়ে রয়েছে। তাই দেশ দুটির পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ইন্দোনেশিয়ার মোট রপ্তানির মাত্র এক দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আর নেপালের রপ্তানি দশমিক শূন্য শূন্য ৪ শতাংশ। তিনি ইন্দোনেশিয়ার ট্যুরিজম, ফার্মাসিউিটিক্যালস, মেরিটাইম, লাইফস্টাইল ও হাসপাতালে বিনিয়োগের সুবিধা আছে বলে জানান। তিনি বলেন, বাইরের দেশের মানুষ মনে করে ইন্দোনেশিয়া মানেই জাকার্তা আর বালি। অথচ সাড়ে ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনেকগুলো ‘বালি দ্বীপ’ গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি জানান, চট্টগ্রামে আগামী ২ নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠেয় উইম্যান চেম্বারের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প মেলায় ইন্দোনেশিয়া পার্টনার কান্ট্রি হবে। ইন্দোনেশিয়ার ৯০ জন বড় বিনিয়োগকারী ওই মেলা পরিদর্শন করবেন। সেমিনারে মডারেটরের ভূমিকা পালন করেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মিনিস্টার অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের (মোফা) পরিচালক ফের দি পিয়াই। আলোচক ছিলেন ইন্দোনেশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান দ্বীপক সামতানি, পিটি ক্রাফটেক্স ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম বোরহান উদ্দিন এবং ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি রিয়াদ আলী। সেমিনারে মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ও নেপালে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিথায়াসমিয়াশ্রি সোমারনো। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সেমিনারে যাননি ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আজমল কবির। দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন কাজী আনারকলি উপস্থিত হলেও তিনি আলোচনায় অংশ নেননি।

advertisement