advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুই ফসলি জমি অধিগ্রহণ নয়

ইউসুফ আরেফিন
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০২
advertisement

কৃষিজমি রক্ষার অংশ হিসেবে দুই বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য অধিগ্রহণ করার ক্ষেত্রে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। কৃষিজমি রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়ন করতেই মন্ত্রণালয় এমন উদ্যোগ হাতে নিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে কৃষি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওই পরিপত্রে বলা হয়েছেÑ অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, যত্রতত্র বসতভিটা নির্মাণ, অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে ধীরে ধীরে কৃষিজমি কমছে। প্রতিবছর অকৃষি খাতে প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর আবাদি জমি চলে যাচ্ছে। অথচ ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যায় খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য কৃষিজমি রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণও জরুরি। কিন্তু বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কৃষিজমি এমনকি দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমিও অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে কৃষিজমি রক্ষা করতে বেশ কিছু অনুশাসন দিয়েছিলেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এ অনুশাসন মানা হচ্ছিল না। ফসলি জমি অধিগ্রহণ হচ্ছিল যেনতেন কাজে।

এ প্রসঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কৃষিজমি রক্ষা করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আমরা বিষয়টি জানিয়ে দিচ্ছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ সফল হবে বলেও মন্তব্য করেন মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একনেকসভার উদ্ধৃতি দিয়ে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, জেলা ও উপজেলায় পৃথক পৃথক ভবনের পরিবর্তে সরকারি অফিসের জন্য একই স্থানে পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত ভবন নির্মাণ করতে হবে। ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ভূমি ব্যবহার কমিটির ১ম সভায় জেলা ও উপজেলায় বহুতল কমপ্লেক্স ভবন বা গুচ্ছাকারে এক বা একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে একই মন্ত্রণালয় বা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস বা আবাসিক স্থান সংক্রলানের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। আর চলতি বছরের ১৩ জুলাই যত্রতত্র দালানকোঠা ও স্থাপনা তৈরি হওয়ায় কৃষিজমি কমে যাওয়ায় একটা আশঙ্কার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে-সেখানে ঘরবাড়ি এবং কলকারখানা হতে থাকলে আবাদি জমি নষ্ট হবে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে যে ১২ দফা

অধিগ্রহণ প্রস্তাবে কৃষিজমি বিশেষভাবে দুই ফসলি বা তিন ফসলি জমি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। তবে একান্ত অপরিহার্য হলে এবং কেবল ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে তার পক্ষে উপযুুক্ত ও গ্রহণযোগ্য যৌক্তিকতা প্রস্তাবে উল্লেখ করতে হবে। সরেজমিন সম্ভাব্যতা যাচাইকালে অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত জমির মধ্যে কৃষিজমি রয়েছে কিনা তা দেখতে হবে এবং থাকলে তা বাদ দিয়ে বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ প্রস্তাব দাখিলের পূর্বেই প্রত্যাশী সংস্থাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষিজমি তথা দুই ফসলি ও তিন ফসলি কৃষিজমি অধিগ্রহণ প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। বিকল্প স্থান নির্বাচনের সুযোগ থাকলে অধিগ্রহণ প্রস্তাবের মধ্যে কৃষিজমি অন্তর্ভুক্ত করে দাখিলকৃত প্রস্তাব বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং বিকল্প স্থান নির্বাচন করার জন্য প্রত্যাশী সংস্থাকে অনুরোধ করতে হবে। অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত ভূমি সর্বনিম্ন হতে হবে। এ ব্যাপারে লে-আউট প্ল্যান যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে অধিগ্রহণযোগ্য জমির পরিমাণ সর্বনিম্ন করতে হবে। জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক পৃথক ভবনের পরিবর্তে সরকারি/ সংস্থার অফিসের জন্য একই স্থানে পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও স্থাপত্য নকশার মাধ্যমে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরতে ন্যূনতম জমিতে ঊর্ধ্বমূখী ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুসরণ করতে হবে। নদী, খাল, পাহাড়, টিলা অধিগ্রহণ করা যাবে না। এ ছাড়া প্রস্তাবিত জমিতে নদী-খাল-বিল-জলাশয়-পুকুর ইত্যাদি থাকলে তার শ্রেণি অক্ষুণœ রাখতে হবে এবং এদের আকৃতি ও প্রকৃতি পরিবর্তন করা হবে না মর্মে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। জেলা প্রশাসক/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব/এল এ) এবং অধিগ্রহণ প্রত্যাশী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক সমন্বিতভাবে সরেজমিন প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করতে হবে এবং জমির চাহিদা ন্যূনতম মর্মে সরেজমিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে। অধিগ্রহণকৃত জমি অব্যবহৃত থাকলে/যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে ক্ষতিপূরণ প্রদান ব্যতীত পুনঃগ্রহণ করা হবে এবং স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭/ স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়েল ১৯৯৭ এবং স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন ২০১৭ বাস্তবায়ন নিয়ে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর নির্দেশনা দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়।

এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, ভূমি আপিল বোর্ড ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান এবং ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পরিপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

advertisement