advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাংলাদেশে এসে অভিভূত ইনফান্তিনো

১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১১
advertisement

ইনফান্তিনো : এশিয়া অঞ্চলে দুই বিলিয়ন মানুষ, এই দেশে ১১৭ মিলিয়ন। বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চল নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আজ (গতকাল) বাফুফেতে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। আমাদের কমন ফিলোসফি হচ্ছে বেশি বেশি খেলতে হবে। বেশি বেশি প্রতিযোগিতার আয়োজন, বেশি বেশি বিনিয়োগ করা। আজ (গতকাল) সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এ নিয়ে আশ^াসও পেয়েছি। তিনি বিনিয়োগের কথা বলেছেন, মিনি স্টেডিয়াম তৈরির কথা জানিয়েছেন। শুধু স্কুল ফুটবল নয়, ফেডারেশন নিয়েও আলাপ হয়েছে। ছেলেমেয়ের সবার জন্যই। গোটা অঞ্চল নিয়েও পরিককল্পনা আগের মতোই। এশিয়ায় ফুটবল নিয়ে মাতামাতি আছে। এটা ভেবেই কিন্তু বিশ^কাপে দল বাড়ানো হয়েছে। এখন চারটা দল বিশ^কাপ খেলতে পারে। সামনে ৪৮ দলের বিশ^কাপে পাবে আরও চারটি দল সুযোগ পাবে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে, পুরুষ ফুটবলে, নারী ফুটবলে, বয়সভিত্তিক ফুটবলে। এবারের নারী বিশ^কাপে আমরা বিস্ময়কর রকমের সাড়া পেয়েছি। এক বিলিয়ন মানুষ কেবল টিভিতেই দেখেছে। এটিই নারী ফুটবলে বিশে^র সবচেয়ে সেরা আসর। নারীরা বিশ^জুড়েই ভালো করছে। বাংলাদেশেও। আমি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে বলেছি নারী ফুটবলে মনোযোগ এবং বিনিয়োগ যেন বেশি বেশি করা হয়। এখনো বিশে^র কিছু দেশে নারী ফুটবলে খুব একটা মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ এ দিকটায় এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

একসময় বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম ফুটবল হলেও এখন বেশ জনপ্রিয় ক্রিকেট। ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফেরাতে ফুটবল ফেডারেশনের কী উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন?

ইনফান্তিনো : ক্রিকেট জনপ্রিয়তম, আমি এতে একমত নই। ক্রিকেট অনেক কঠিন খেলা। ক্রিকেট সবাই বোঝে না। ফুটবল খুবই সহজে বোঝা যায়, খেলা যায়। আপনার কাছে বল থাকলেই খেলতে পারবেন, গোল করতে পারবেন, উল্লাস করতে পারবেন। ফুটবল হƒদয় দিয়ে খেলা হয়। হ্যাঁ, আমি বুঝতে পারছি যে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অনেক সাফল্য রয়েছে। কারণ অল্পসংখ্যক কিছু দেশ ক্রিকেট খেলে। সংখ্যাটা কতÑ ১০ বা ১১। অন্যদিকে ফুটবল খেলে ২১১টি দেশ। ফুটবল কঠিন কিছু নয়। কিন্তু এখানে চ্যালেঞ্জ আছে, আপনাকে প্রতিযোগিতায় টিকতে হবে, জিততে হবে। ২১১টি দেশের মধ্যে একটা দেশই কিন্তু চ্যাম্পিয়ন। এখন যেমন ফ্রান্স। এর মানে এমন না যে বাকি ২১০টি খারাপ খেলে। এর মানে হচ্ছে এই ২১০টি দেশও বিশ^চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়াই করছে। বাংলাদেশে আমি ফুটবলের প্রতি যে প্যাশন দেখেছি, দুই দিন আগের ভারত ম্যাচ ঘিরে যে হইচই দেখলাম, ক্রিকেটে এ ধরনের কিছুর সুযোগই নেই।

বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল উন্নয়নে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার?

ইনফান্তিনো : ফিফায় একমাত্র এশিয়ান কাউন্সিলরও বাংলাদেশের। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই আপনারা বিশ^ফুটবল অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চলে গেছেন। ফিফার প্রতি অভিযোগ, কিছু অঞ্চল অবহেলার শিকার হয়, ফুটবল শুধু ইউরোকেন্দ্রিক। তবে এমন হওয়ার কারণ নেই। আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নানা প্রান্তে গিয়েছি। এখন এখানে আছি। আমরা ফুটবলকে উন্নয়ন করতে চাই, ফেডারেশন, ক্লাবকেই শুধু উন্নয়ন করতে চাই না। আমাদের নতুন প্রতিযোগিতা, নতুন আইডিয়া নিয়ে আসতে হবে। বিশ^কাপ ৩২ থেকে ৪৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এশিয়ার বরাদ্দ ডাবল হয়েছে। নারী বিশ^কাপও ২৪ থেকে ৩২ করা হয়েছে। যুব এবং কিশোরী ফুটবলে দল বাড়ানোর প্রস্তাব করতে যাচ্ছি আমি। আমাদের ফুটবলে অনেক বেশি বিনিয়োগ দরকার। বাংলাদেশের জন্য ইনসেনটিভ হচ্ছে ফেডারেশন এবং সরকার। ব্যবসায়ীদের এখানে বিনিয়োগ দরকার। আপনি যদি খেলার সুযোগ না পান কোনো প্রতিযোগিতায়, তা হলে এখানে পড়ে থাকবে কেন? এ কারণেই কিন্তু মানুষ ক্রিকেটের দিকে যায়। ক্রিকেট মজার বলে নয়। ক্রিকেট ফুটবলের চেয়ে বেশি মজার নয়। এটা অনেক বেশি বিরক্তিকর। আর ফুটবল অনেক বেশি মজার। কিন্তু খেলার সুযোগ না পেলে অন্যদিকে তো যাবেই। আমরা এখন খেলার সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছি, ক্লাবের জন্য টুর্নামেন্ট বাড়ানো হচ্ছে। ক্লাব বিশ^কাপ চালু হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্লাবও বিশ^কাপে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের কাজ হচ্ছে কীভাবে তাদের ক্লাব ওই টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করতে পারে, এ নিয়ে কাজ করা। আমরা ফুটবল অর্গানাইজ করতে নির্বাচিত হয়েছি, মিটিং করতে নয়। সব কিছুই সম্ভব।

বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা, ভবিষ্যতে কী কী পরিকল্পনা নেবেন?

ইনফান্তিনো : আমি তেমন একটা জানতাম না, সত্যি বলতে। ভেবেছিলাম, এটা এমন একটা দেশ যেটা ফিফা প্রেসিডেন্ট যে আসছে, ব্যাপারটাতে ততটা গুরুত্ব দেবে না। দেখলাম বিপরীত ঘটনা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখলাম, ড্র দেখলাম। এরই মধ্যে জামালকে চিনেছি। ডেনমার্ক থেকে এসেছে। জানি না সে আসলে কোন রক্তের, সম্ভবত দুই দেশেরই। এ ছাড়া ঝাঁকড়া চুলের একজনের কথা জানি, যে ইংল্যান্ডের লেস্টার সিটিতে খেলে (হামজা চৌধুরী) আমি বাংলাদেশের এ দুজনকে চিনি। তা ছাড়া আমার পাশে বসে আছেন জীবন্ত কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন। আমরা বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি, বিশেষ করে যুব ফুটবলে। আরও বাড়বে দিনে দিনে। শিশুদের জন্য রোল মডেল তৈরি হলে ওরা আরও উৎসাহিত হবে। ফুটবল হচ্ছে একমাত্র পথ, যেটা এখানে আসার আগে খুব একটা জানতাম না। কিন্তু ফিরে যাচ্ছি ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে।

ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের সময় কাতারের স্টেডিয়াম ফাঁকা দেখলাম। বিশ^কাপেও এমন কিছুর আশঙ্কা করছেন কিনা? ফুটবলে বর্ণবাদ প্রসঙ্গে কী বললেন?

ইনফান্তিনো : কাতারে প্রস্তুতি চলছে। সেখানকার স্টেডিয়ামগুলো সুন্দর। ভেন্যুগুলোর একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার। খেলা হবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে, যা অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ভিন্ন সময়ে। অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে সেপ্টেম্বরে। কিন্তু নভেম্বরে তাপমাত্রা থাকবে অনুকূলে। আমি আশা করি কাতারে সেরা একটি বিশ^কাপই হবে।

বর্ণবাদ ইউরোপের বেশকিছু দেশে আছে। এটা আমাদের রুখতে হবে। ফুটবলে এটা আমরা আশা করি না। অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এটা সম্পর্কে বলতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। ২০১৯ সালেও এটি থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। মানুষকে এটি সম্পর্কে জানাতে হবে। বর্ণবাদকে ফুটবলে বা সমাজে কোনোমতেই স্থান দেওয়া যাবে না। এ কথা ছড়িয়ে দিতে হবে। রেফারিকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা খেলা থামাতে পারে, অপরাধীকে বের করে দিতে পারে।

advertisement