advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লেখকের সঙ্গে এক সন্ধ্যা ওলগা তোকারচুক

ত র জ মা সাজ্জাক হোসেন শিহাব
১৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ০১:১৫
advertisement

সেরা ধারণাগুলো মহিলাটির কাছে সব সময় রাতেই আসত, দিনের তুলনায় রাতে পুরোপুরি অচেনা হয়ে যেত সে। লোকটি বলত, এটা মামুলি ব্যাপার। লোকটি বিষয় বদলে দিত, নিজেকে দিয়ে নতুন বাক্য শুরু করত। লোকটি বলতÑ আমি, আমি মনে করি দিনের সবচেয়ে ভালো সময় হলোÑ সকাল, আমার প্রথম কফির ঠিক পরে, দিনের প্রথমার্ধে।

যখন দুর্ঘটনাক্রমে (আমার ঈশ্বর, কী দুর্ঘটনা!) মহিলাটি পত্রিকায় পড়েছিল যে, সে প্রুশিয়া, অ্যালেনস্টেইনের উদ্দেশে যাবে, লোকটি খুব কাছাকাছি থাকবে, মেয়েটি ঘুমোতে পারেননি। সবকিছু মেয়েটির কাছে ফিরে এলো। হয়তো বা ফিরেও আসেনি, কারণ এটি সব সময় তার সঙ্গেই ছিল, কখনো যায়নি। মহিলাটি উপুর হয়ে শুয়ে ছিল এবং সেসব সম্ভাবনার কথা ভাবছিল, যা তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। মহিলাটি একটি অচেনা শহরের ট্রেন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এবং লোকটি বিপরীত পথ ধরে হাঁটছে, মহিলাটি তাকে লক্ষ করল, লোকটির মুখে বেদনার বিস্ময়-প্রকাশ; লোকটি থেমে যায়, লোকটির বিরামহীন দৃষ্টি পড়ে মহিলাটির টুপির দিকে, লোকটির স্থির দৃষ্টির চাহনি মহিলাটিকে উত্তেজনায় কাঁপিয়ে তুলেছিল। লোকটির শরীর নয়, শুধু ওই চাহনি।

বা অন্যথায় পুরোপুরি : মহিলাটি রোদ্রৌজ্জ্বল রাস্তা দিয়ে হাঁটে (অ্যালেনস্টেইন ঘরানার বাজারটি কেমন ছিল?) এবং লোকটি (আবারও বিপরীত দিক থেকে) একজন পুরুষ এবং একজন মহিলাকে অনুসরণ করে। এবং মহিলাটি দেখে যে, লোকটি তাকে চেনে, কারণ লোকটি বিভ্রান্ত হয়ে যায়, কারণ লোকটি যখন কাউকে ‘এক্সকিউজ মি ...’ বলে তখন সে বিভ্রান্ত হয়ে যায়। কাঁপুনি হাতে লোকটি নিজের ঝকঝকে টুপিটি সরিয়ে দেয় (তার চুল পাতলা হয়ে গেছে, এখনই কি সে বয়স হয়েছে?) মহিলাটি নিজের দুহাত লোকটিকে দেয়, মহিলাটি প্রশান্ত-মনা, সর্বোপরি লোকটির সঙ্গে দেখা করার জন্য মহিলাটি বাজারের চারদিকে কয়েক ঘণ্টা ঘুরেছে। উত্তর-পূর্ব পোল্যান্ডের শহর অ্যালেনস্টেইন কি একটি বড় শহর হতে পারে? সম্ভবত খুব বড়, মে মাসের গ্রীষ্মের ভিড়ে তারা একে অপরকে পেরিয়ে গেছে, সম্ভবত তারা লোকটিকে গাড়িতে করে ট্রেন স্টেশন থেকে সরাসরি হোটেলে নিয়ে যায়, সম্ভবত তাদের সেখানে কোনো বাজার নেই, সম্ভবত বৃষ্টি হবে, সম্ভবত লোকটি আসবে না, শেষ মুহূর্তে তার ট্রিপটি বন্ধ করবে কারণ তার স্ত্রী অসুস্থ। সম্ভবত তিনি প্রকাশনার কাজে জার্মানিতে থাকবেন, সর্বোপরি তিনি এত বড় লেখক যে, সম্ভবত সব শিক্ষিত লোকই তাকে চেনে বা সম্ভবত নাও হতে পারে, হতে পারে কেবল মহিলাটিই তার প্রতিটি লেখা অনুসরণ করে, এমনকি সামান্যতম বিষয়ও, সম্ভবত একমাত্র মহিলাটিই নিশ্চিত যে তার দ্বিখ- উপন্যাসটি ছাপাখানায় পড়ে আছে, বইয়ের দোকানে কেবল মহিলাটিই হাত দিয়ে অবিচ্ছিন্নভাবে বইয়ের কভারটি ব্রাশ করে, তার গ্লাভসের ভেতরে, যখন সে পাশ দিয়ে যায়, মহিলাটি পুস্তক বিক্রেতাকে পুরোপুরি ভিন্ন কিছু জিজ্ঞাসা করে।

সকালে ধারণাটি তার কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছিল। নাস্তা করতে যেতে জোহান তার কোমর জড়িয়ে ধরে এবং তার মুখে চুমু খায়। এক ঘণ্টার মধ্যে গানের শিক্ষক বাচ্চাদের কাছে আসত। যখন সে তার নরম-সিদ্ধ ডিমের খোলস কেটে ফেলল, নিজের আঙুলের দর্শন, একরকম পাতলা এবং শুকনো লাগল, যেন ওগুলো কখনই এমন ছিল না, এক মুহূর্তের জন্য তার মধ্যে আফসোস ফুটে উঠল। কিছু আশা না করেই মহিলাটি বলেছিল যে, সে কিছুদিনের জন্য ডানজিগে (উত্তর পোল্যান্ডের বাল্টিক উপকূলের একটি শহর) তার বাবার কাছে যেতে চায়। তার স্বামী গামছা দিয়ে ঠোঁট ঢেকে রেখেছিল, দেখে মনে হয়নি যে তার স্বামী অবাক হয়েছিল। সে টেবিল থেকে সহজেই সরে এসে হেলান দিয়ে চুরুট জ্বালিয়েছিল। সে চাকরকে জানালা খুলতে বলল। রেলের কামরার ঝনঝনে শব্দ এবং ঘোড়ার টানা ট্রামসের খটখট আওয়াজ রাস্তা থেকে খাবার ঘরে ঢুকে পড়ল। তার পর পরই বাড়ির সামনে পুষ্পের স্নিগ্ধ মখমলের ঘ্রাণটি মেলল।

একটি টুপির বাক্সে একটি বড় খড়ের টুপি, একটি গাঢ় জর্জেট স্কার্ট, স্তনের ওপর দিয়ে ফ্রিলযুক্ত একটি সাদা ব্লাউজ, একটি লেসওয়ালা ছোটছাতা। একটি ব্রিফকেস এবং একটি বিশাল চামড়ার ভ্রমণ ব্যাগ। জুতার বোতাম লাগানো। মখমলের অন্তর্বাসে রাখা একটি সুগন্ধির শিশি। বেশ কয়েক জোড়া গ্লাভস। লাগেজ। ডানজিগের স্টেশনে মহিলাটি অ্যালেনস্টাইনের একটি টিকিট কিনেছিল এবং ক্যাফেতে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিল। বিশ্রামাগারের আয়নায় নিজের চেহারা দেখে মহিলাটি আহত হয়েছিলÑ কারণ সে ভেবেছিল যে, সে আরও কম বয়সী। তার বগিতে বসে সে নিউ ডয়চে রু-সচাউয়ের একটি পুরাতন সংস্করণ পড়ার চেষ্টা করেছিল, যাতে তার একটি গল্প রয়েছে এবং যা সে তার সঙ্গে থাকা ব্রিফকেস থেকে বের করে নিয়েছিল। এক সময় প্রায় সব তার মুখস্থ ছিল; সে এখন খেয়াল করে দেখল যে, সে সব ভুলে গেছে।

একটি ছোট অলৌকিক ঘটনা ঘটে : অ্যালেনস্টাইন এবং ভেনিস একে অপরের পরিপূরক। দশ বছর পর তারা হঠাৎ একই ধারাবাহিকতায় শেষ হয়ে গেছে, লোকটির জীবনের কিছু মূল অংশ। উত্তর এবং দক্ষিণ। দুপুর ও মধ্যরাত। শুকনো এবং ভেজা। অতীত এবং সময়ের অনুপস্থিতি। পেছনে ফিরে দেখা এবং সামনে দেখা। বিভেদের দর্শন। ভদ্রমহিলাটি লোকটিকে প্রথমবার সৈকতে দেখে। ছেলেটি ঝকঝকে পোশাকপরা এবং তার মাথায় একটি ঝলমলে টুপি। মহিলাটি লোকটিকে স্মরণ করে, যদিও মহিলাটি প্রায় সব সময়ই কেবল একবার দেখা লোকদের মনে রাখতে পারে। সৈকতে ছেলেটি নির্লিপ্ত ও প্রফুল্ল ছিল। তার পর মহিলাটি লোকটিকে মুখোশধারী মানুষের মতো দেখল। লোকটি বলল, ‘আমি একজন লেখক’, তবে এটি মেয়েটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। লোকটি ছিল চনমনে। লোকটি মহিলাটির চোখে তাকাতে পারেনি। তাদের জানাশোনা এক ভদ্রলোক, তার চেয়ার থেকে উঠে বলল, লোকটি একজন গাধা। যখন ভদ্রমহিলাটি প্রথমবারের মতো হোটেলটিতে লোকটির বাথরুম দেখে, সবকিছুর পরে, তার ধারণা হয় যে মহিলাটিকে লোকটি চেনে। এমনকি আবছা আবছা নয়, ভাসা ভাসা নয়, যদিও অতি উৎসাহী দেহজ্ঞান মহিলাটিকে লোকটির অন্তরে জায়গা করে দিয়েছে, কিন্তু হোটেলের বাথরুমে নয়। লোকটির তোয়ালে স্নানের জায়গায় নিক্ষেপ করা ছিল, তার শেভিং যন্ত্র, ব্রাশ, জলে ক্ষতিগ্রস্ত হ্যান্ডেলসহ ব্রাশ, কাঠের সাবানবক্স। স্থির সৃষ্টি, মানবদেহের অস্তিত্বের সাক্ষী। লোকটি যখন ঘুমোয় তখন এই জিনিসগুলোর অনুভব করে বা সম্ভবত লোকটি ইতোমধ্যে জেগে আছে এবং মহিলাটির জন্য অপেক্ষা করছে (সকালের নীরবতা, কিছুটা বিব্রত, ভালোবাসার সন্ধ্যার পরে), হঠাৎ মহিলাটি দূরে যাওয়া অনুভব করে। মহিলাটি ঠা-া হওয়া আয়নায় মাথা ঝুঁকতে থাকে এবং কাঁদতে থাকে।

মহিলাটি এই মুহূর্তটি সব সময় স্মরণ করেছিলÑ এটি সম্ভবত মহিলাটির প্রেমের শুরু ছিল। ভালোবাসা কি আসলেই কাউকে জানতে পারা না? এটি কি এই কারণে নয় যে, লোকরা একে অপরের দেহকে আনন্দের জন্য নয়, যত সম্ভব নিকট থেকে নিকটে আসার জন্য নয় কি? শরীরের এই প্রবেশদ্বার, এটি সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার জন্য তাগাদা দেয়, অভ্যন্তরের সন্ধান, এর মধ্যে কী আছে তা অনুসন্ধান করা।

মহিলাটি যা ভেবেছিল, অ্যালেনস্টেইনের স্টেশনটি তার চেয়ে ছোট হবে। অল্প সময়ের মধ্যে মেয়েটি আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলÑ তার দুহাত দিয়ে আলগাভাবে ট্রেনের সিঁড়ির শীতল হাতলটি আঁকড়ে ধরেছিল। কিন্তু ট্যাক্সিক্যাব যখন মহিলাটিকে শহরের সবচেয়ে দামি হোটেলে নিয়ে গেল, তখন হঠাৎ তার মনে হলো, যেন সে বিশ্বজুড়ে একটা ক্ষমতা রাখে। মানুষ, কোনোভাবে কমে গেছে, দ্বিমাত্রিক, যারা কিছুই জানত না, কিছুই অনুভব করত না, শুধু মানুষের মতো অবয়ব ছিল। তাদের খুবই ছোট ছোট দোকান, লাগামহীন মুখ, সেই মুখটি যেটি ভরাট কফির কাপে চুমু দিয়ে অশ্লীল ভঙ্গি করে, তারা আত্মকেন্দ্রিক, ধর্ম নিয়ে তাদের হাস্যকর কথার লড়াই, যেমন টুপি নিয়ে তাদের বাড়াবাড়ি, বোতল ধরে রাখা এবং ছোট ছোট ছাতাগুলো শক্তভাবে ধরে রাখা, তাদের জরাজীর্ণ কার্পেট দিয়ে সজ্জিত বাড়িতে গুরুত্বহীন বিরক্তিকর সন্ধ্যা, বিনা কারণে কথা বলা। তারা পাপেটের মতো।

ক্যাবটিতে চড়ে একজন পুরুষের মতো মহিলাটি গা এলিয়ে সিটে হেলে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন তার মনে হচ্ছিলÑ সে তাদের ভালোবাসে। মহিলাটি তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল, কিন্তু এটি অনুকম্পা ছিল না। এটি আসলে ভালোবাসা ছিল, শিশুদের মতো যারা তাদের লক্ষ্যগুলো না জেনে পিতা-মাতার পরিকল্পনামাফিক পাঠে মনোযোগ দেয়। মহিলাটি ক্যাবটির আরও উঁচুতে বসে অনেক কিছু দেখেছিল। মহিলাটি নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছিল। সে নিয়ম সৃষ্টি করেছে, প্রতি মিনিটে, প্রতি ইঙ্গিতে, প্রতিটি ঘটনায়।

হোটেলটিতে অতিথির রেজিস্টার বইতে নাম নিবন্ধন করে মহিলাটি অসাবধানতাবশত অভ্যর্থনাকারীকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘এটা কি সত্যি যে, বিখ্যাত লেখক টিআই আজ রাতে এই হোটেলেই থাকছেন?’

অভ্যর্থনাকারী মহিলাটির দিকে তাকাল, লোকটির চশমার ঝাপসা লেন্সগুলো দিয়ে তার ভুল উপলব্ধি ধরা পড়ল। এটি স্পষ্ট ছিল যে, এ রকম পরিস্থিতিতে লোকটি তার উত্তেজনা এবং অহঙ্কার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল।

‘এটা সত্যি। তার আগামীকাল সংগীত এবং সাহিত্য সম্পর্কে একটি বক্তব্য দেওয়ার কথা।’ লোকটি বললÑ আগামীকাল বিকালে এবং তার পর হঠাৎ থেমে গেল, আবার শুরু করল, ‘আমি আপনাকে অনুরোধ করছি আপনি এটা কাউকে বলবেন না যে, তিনি আমাদের হোটেলে থাকছেন, যদিও এটা সত্যিই যে, তেমন কোনো ভালো জায়গাও নেই, এটিই সেরা হোটেল। এবং তার জন্য আমরা একটি যন্ত্রসংগীতের আয়োজন রেখেছি। এটি বেশ কয়েকদিন ধরে প্রস্তুত এবং অপেক্ষা করছে।’

লোকটি রোমান সংখ্যা ওয়ানের নিচে একটি চাবি ঝুলিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ‘আমরা ভয়ে আছি এই ভেবে যে, তার পাঠকরা তাকে কোনো শান্তি দেবেন না।’

‘তিনি কি সত্যিই এতটা জনপ্রিয়?’ মহিলাটি জিজ্ঞাসা করল।

‘আমার স্ত্রী তার সব রচনা পড়েছে’, লোকটি উত্তর দিল, এমনভাবে বলল যেন এটিই সবকিছু ব্যাখ্যা করে।

‘বার্লিন থেকে ট্রেন কখন আসবে?’ মহিলাটি জিজ্ঞেস করল। ‘আমি কারও জন্য অপেক্ষা করছি।’

অভ্যর্থনাকারী সন্দেহজনকভাবে তার দিকে তাকাল, কিন্তু মহিলাটিকে সময় দিল।

ঘরটি ছিল সাদামাটা। মূল রাস্তার দিকে দুটি লম্বা কাচের দরজা খোলা। জানালার বাইরের কপাটের কোণে কিছু কবুতর ছিল। মহিলাটি মুখ ধুয়ে একটি রুক্ষ তোয়ালে দিয়ে মুছে নিল। সে তার ব্লাউজ পরিবর্তন করল। সে তার চুল আঁচড়াল এবং তার পর আয়নার সামনে দাঁড়ানোর আগে সাবধানতার সঙ্গে পিন লাগাল, যা কিছুটা উঁচুতে ঝুলছিল : সে কেবল তার চোখ এবং কপাল দেখল। সে আঙুল দিয়ে তার ত্বকে কিছু সুগন্ধি ঘষল। সে ভেবেছিল যে, বাইরে গিয়ে ঘুরে আসার জন্য তার এখনো অনেক সময় আছে। কিছু কেনাকাটা করো। শপিংমলের জানালার প্যানেগুলোতে নিজের ছবি দেখো, অজানা বাজারের বিশালতা দেখো। ছাতার নিচে লেবু পান করো। মহিলাটি তার টুপিটি মাথায় দিয়েছিল, তবে সে দ্রুত দরজা বন্ধ করে শুয়েছিল, সবকিছুতেই তার হাতে তৈরি ছোট ছাতাটি ছিল, তার পেছনে, বেডেও। সিলিংয়ের সূক্ষ্ম ফাটলগুলোতে সে কিছু রহস্যময় বর্ণমালার সংকেত দেখেছে।

তারা সারাদিন ধরে শহরে ঘুরে বেড়ায়। ভেনিস গরমে ভিজছে। খালগুলো গন্ধময়। তারা সর্বদা তাদের গতি ত্বরান্বিত করে, তাদের দেখতে হবে যেন তারা কোথাও চলেছে।

‘ওহ, আমরা সব সময় কেন এই ধরনের ভিড়ে থাকি,‘ তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারা হাসে। তাদের হাঁটার আসল বিষয়টি হলো একসঙ্গে ব্রাশ করার জন্য, তাদের কাঁধ স্পর্শ করার জন্য, বাতাসের জন্য, যা তাদের একে অপরের গায়ের গন্ধ মাখামাখিতে সাহায্য করে। একে অপরের দিকে না তাকিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটা, তারা একে অপরের পর্যবেক্ষণে থাকা। এটা কীভাবে সম্ভব? লোকটি ক্রমাগতভাবে তার পরিবার সম্পর্কে মহিলাটিকে বলছে। এটি তাকে অবাক করে, কারণ এই বিষয়ে মহিলাটির কিছুই বলার নেই। (চলবে)

(জেনিফার ক্রফটের ইংরেজি

অনুবাদ থেকে অনূদিত)

advertisement