advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জালিয়াতির অভিযোগে এমপি বুবলির পরীক্ষা বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০১৯ ২০:০৫ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ২০:১২
নরসিংদীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলি (বাঁয়ে)। প্রক্সি পরীক্ষার্থী এশা (ডানে)
advertisement

নরসিংদীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রীর তামান্না নুসরাত বুবলির বিএ পরীক্ষায় পরপর আটটি বিষয়ে প্রক্সি দিয়েছেন অন্য শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার শেষ পরীক্ষা দিতে গিয়ে হলে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বুবলীকে বিএ পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে জালিয়াতির বিষয়টি অনুসন্ধানে কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমপি ববুলীর এই জালিয়াতির খবরে এলাকায় নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুসন্ধানি প্রতিবেদনের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এই সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে চলতি বিএ পরীক্ষায় অংশ নেন তামান্না নুসরাত বুবলি। কিন্তু নিজে হলে না গিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ান তিনি। তার হয়ে আটজন পরীক্ষায় অংশ নেন। শেষ পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ধরা পড়ে। হাতেনাতে ধরা পড়েন এষা নামের এক তরুণী।

বুবলি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নরসিংদীর সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী। ২০১১ সালের ১ নভেম্বর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলাকারীর গুলিতে নিহত হন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী মহিলা সংরক্ষিত সংসদ সদস্য বুবলী এইচএসসি পাস। তবে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে নিতে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ কোর্সে ভর্তি হন। তবে বিএ পাস করার জন্য তিনি অনিয়মের আশ্রয় নেন।

পরীক্ষা চলাকালীন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ কারণে নরসিংদীতে তার হয়ে বিএ পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রক্সি প্রার্থীরা। এ পর্যন্ত আটজন ছাত্রী এমপির হয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন।

বাউবির বিএ কোর্স এ পর্যন্ত চারটি সেমিস্টার ও ১৩টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও তিনি একটিতেও অংশগ্রহণ করেননি।

টেলিভিশন চ্যানেলটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এমপির এই জালিয়াতির ব্যাপারে সবাই সবকিছু জানলেও ভয়ে কেউ কিছু বলেনি।

প্রতিবেদনের ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার হলে সংসদ সদস্যের রোল নম্বরের সিটে দেখা গেছে অন্য এক তরুণী বসা। সেই পরীক্ষার্থীকে সাংবাদিকরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, আমিই সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলী। কিন্তু তার আইডি কার্ডটি দেখতে চাইলে ওই পরীক্ষার্থী বলেন, আইডি আনতে ভুলে গেছি। প্রতিবেদক তার নাম জানতে চাইলে প্রথমে আসল নাম বলতে চাননি তিনি। পরে অবশ্য নিজেকে এশা বলে পরিচয় দেন তিনি।

আইডি কার্ড ছাড়া কীভাবে একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হলো এ প্রশ্ন করা হয় হল পরিদর্শককে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে বলে আমাদের জানিয়েছে ওই পরীক্ষার্থী। প্রমাণ হিসেবে সে জিডির কপি নিয়ে এসেছে। তাই তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে জালিয়াতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এমপির পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি হলে এসে এশাকে তার সঙ্গে নিয়ে যান।

advertisement