advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গৌহাটিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক সম্মেলন

২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২১
advertisement

আবু আলী

আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে গৌহাটিতে বসছে বাংলাদেশ-ভারত অংশীজনদের মিলনমেলা। আগামী ২২-২৩ অক্টোবর দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। খবর পররাষ্ট্র ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রের। জানা গেছে, এ সম্মেলনে বাংলাদের নজর থাকবে সেভেন সিস্টারে রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতি।

জানা গেছে, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান। এ লক্ষ্যে দীর্ঘ চার বছর পর বিবিআইএন চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালকে নিয়ে একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ার পরিকাঠামো হচ্ছে বিবিআইএন। এ কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলোÑ চার দেশের মধ্যে জলের উৎসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও সড়কে পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলে আঞ্চলিক বাণিজ্য এগিয়ে নেওয়া।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারি পর্যায়ে এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আগামী ২২-২৩ অক্টোবর আসামের রাজধানী গৌহাটিতে ইন্দো-বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডার সম্মেলন হবে। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের উপদেষ্টা নকিব আহমেদ ও পরিচালক ইশান্তর শুভপ-িত দফায় দফায় বাংলাদেশে এসেছেন। তারা বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, নৌপরিবহন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের তরফ থেকে বণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, নৌপরিবহন সচিব আবদুস সামাদ, চিটাগাং বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ, মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোজাম্মেল হক, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমেদ, এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট নিহাদ কবিরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ভারতের সাতটি রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে সার্কভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বড় সুযোগ আছে। বিবিআইএন কার্যকর করা গেলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারত বড় অর্থনীতির দেশ, এ ছাড়া নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে বিবিআইএন কার্যকর করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্টেকহোল্ডার সম্মেলনে সেভেন সিস্টারসখ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ বড় অঙ্কের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেবে।

প্রসঙ্গত আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিবিআইএন ১৯৯৭ সালের ১৪ মে গড়ে ওঠে। তবে ৮ জুন ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার বিবিআইএন মোটর ভেহিকল অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া তৈরি করে এবং ওই বছরের ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পোতে এ খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এ চুক্তি দ্বারা চার দেশের যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহন নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করতে পারবে এবং সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু চুক্তিটি করার ব্যাপারে হঠাৎই বেঁকে বসে ভুটান। পরবর্তী পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় বিবিআইএনের বিষয়টি।

সেই সময় দেশটির সরকারবিরোধী আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা ছিল, বিবিআইএন চুক্তি তাদের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া অন্য তিন দেশের যানবাহনকে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলে তা ভুটানে বেকারত্ব সৃষ্টি করতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিবিআইএন চুক্তির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে পারেনি। তবে গত বছরের শেষ দিকে ভুটানের পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় নির্বাচন। এ ছাড়া নেপালেও নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। চার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিবিআইএন কার্যকর করার এখনই উপযুক্ত সময়।

জানা গেছে, সার্কভুক্ত চার দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল একে অপরের মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্যিক চাহিদা রয়েছে। রয়েছে ভ্রমণের বিষয়ও। কিন্তু দেশ চারটির মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থায় ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বাণিজ্য সম্পাদনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ লাগছে। বিষয়টি মাথায় রেখে চার দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও উন্নয়নে চার দেশের সরকার প্রধানরা ট্রানজিট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর শুরু হয় চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের ৮ জুন বিবিআইএন চুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়। ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারত সরকার চুক্তিটি অনুমোদন করে। ইতোমধ্যে নেপালের সংসদে চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়। শুধু ভুটানের সংসদে সর্বসম্মতভাবে চুক্তিটি গৃহীত হয়নি। ইতোমধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিবিআইএন নোডাল অফিসার্স কমিটির বৈঠক হয়েছে। এতে চার দেশের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশ নেন। ওই বৈঠকে যাত্রীবাহী মোটরযান চলাচলে প্রটোকলের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। তবে প্রটোকলটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যাত্রীবাহী মোটরযান চলাচল প্রটোকল চূড়ান্তের পর তা চার দেশে সরকার কর্তৃক অনুমোদন করতে হবে। এর পর প্রটোকল সই করা হবে। বিবিআইএন চুক্তির অন্য অংশটি ছিল ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী মোটরযান চলাচল। এ অংশের প্রটোকলের খসড়া প্রণয়নে চার দেশ এখনো ঐকমত্য হতে পারেনি। এমনকি সম্ভাব্য রুট নিয়েও চার দেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি বা পণ্যবাহী মোটরযান বছরে কী পরিমাণ চলাচল করবে, মাসুল কী হবে ইত্যাদি বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।

advertisement