advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সমুদ্রসম্পদ আহরণে সরকারের নজর

২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২১
advertisement

আবু আলী

গুনীল অর্থনীতিতে গতি আনতে চায় সরকার। এ জন্য দ্রুত সমুদ্রসম্পদ আহরণের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রসম্পদকে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানিরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ জন্য অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এমন নয় খাত সামনে রেখে ‘ব্লু ইকোনমি’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাগর থেকে অন্তত ৪৫০ প্রজাতির মাছ আহরণে। শিগগিরই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় ব্লু ইকোনমি কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খবর অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের।

সূত্র জানিয়েছে, ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উদ্যোগে একটি জরুরি বৈঠক হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি সেল এই বৈঠকের আয়োজন করে। ওই সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব) মো. খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সমুদ্রসম্পদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ৪৫০ প্রজাতির মাছ আহরণে। বিশেষ করে ইলিশ, টুনা ও  লবস্টার (চিংড়ি) আহরণ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হবে। সাগর থেকে আহরিত লবস্টার, টুনা ও ইলিশ রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে মাছ আহরণের পাশাপাশি সাগরে মৎস্যসম্পদের অমূল্য ভা-ার গড়ে তোলা হবে। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধসহ মাছের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়ে ক্যাম্পেইন চলবে সারাবছর। বর্তমান বাংলাদেশ অংশে ৪৫০ প্রজাতির মাছ রয়েছে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে  আসে। ওই গবেষণায় বলা হয়, ব্লু ইকোনমিতে বাংলাদেশ মাছের খনি পেয়েছে। মৎস্যসম্পদের পাশাপাশি আর যেসব গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে সেগুলো হচ্ছেÑ তেল গ্যাস উত্তোলন, নানামুখী পর্যটনশিল্পের বিকাশ, বন্দর উন্নয়ন ও নতুন বন্দর নির্মাণ, জাহাজশিল্প গড়ে তোলা, জাহাজ ভাঙা ও রিসাইক্লিন করা, সমুদ্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খনিজ সম্পদ আহরণ প্রভৃতি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমানায় সাগরের জলসীমায় পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুট আবিষ্কার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক রুট রয়েছে, তা বাংলাদেশের রাডার ব্যবস্থার কাভারেজের বাইরে অবস্থিত। তবে তিনটির মধ্যে পি-৬৪৬ একটি রুটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই রুটে দৈনিক আনুমানিক গড়ে ৫৫টি এয়ারক্রাফট যাতায়াত করে। পি-৬৪৬ রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর বাংলাদেশের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ অনুযায়ী দৈনিক গড় রাজস্ব (মাঝারি সাইজের এয়ারক্রাফট অনুযায়ী) হিসাব ১৬৫০০ মার্কিন ডলার (৫৫ গুণ ৩০০ মা. ডলার) ও বার্ষির সম্ভাব্য রাজস্ব ৬০,২২,৫০০ মা. ডলার অর্থাৎ ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। অন্য দুটি এয়ার রুট এন-৮৯৫ ও এম-৭৭০এ  যাতায়াতকারী ফ্লাইটের সংখ্যার হিসাব করা সম্ভব হয়নি। এই তিনটির পাশাপাশি আরও দুটি রুটের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই হিসাবে পাঁচটি রুটে ২৫০ কোটি টাকা আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।

ব্লু ইকোনমি সেলের একজন কর্মকর্তা আমাদেও সময়কে বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সমুদ্র অর্থনীতি কাজে লাগাতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে আইনি কাঠামো না থাকা, প্রয়োজনীয় গবেষণার অভাব, সক্ষমতা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ না থাকা এবং মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতাই মূলত দায়ী। অবশ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গবেষণাসহ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফল পেতেই লাগবে আরও ৫ থেকে ১০ বছর।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের ৪৩০ কোটি মানুষের ১৫ শতাংশ প্রোটিনের জোগান দিচ্ছে সামুদ্রিক মাছ ও উদ্ভিদ। ৩০ শতাংশ গ্যাস ও জ্বালানি তেল আসছে সাগর থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্র অর্থনীতি গোটা পৃথিবীকে নতুন করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা দেখিয়েছে। পৃথিবীর অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন থেকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের কর্মকা- হচ্ছে সমুদ্র ঘিরে। সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

advertisement