advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা আনতে সুশাসন আবশ্যক : ঢাকা চেম্বার

২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২১
advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক

আর্থিক খারেত শৃঙ্খলা আনতে সংস্কারের পাশাপাশি সুশাসন আবশ্যক। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনঃসংস্কার ও ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া এবং স্টেকহোল্ডারদের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। প্র্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, আর্থিক খাতের এ উন্নয়নের পরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে এখনো নানাবিধ সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা, ঋণ প্রদানে অনিয়ম ও ঋণ আহরণের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়সমূহ অন্যতম। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, খেলাপি ঋণের উচ্চহার আমাদের আর্থিক খাত ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। তিনি মনে করেন, স্থায়ী আমানতের বিপরীতে মুনাফার উচ্চহারের কারণে ঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না এবং এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে গেছে ও বেশিহারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের এসএমই খাতের উদ্যোক্তাবৃন্দ। এজন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার সংস্কার এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর রিস্ট্রাকচারিং অথরিটি’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মসিউর রহমান আর্থিক খাতের বিশ^াসযোগ্যতা যেন না হারায়, সেদিকে সকলকে যতœবান হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবাইকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগের পরামর্শ প্রদান করেন। এ ছাড়াও তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে অডিট পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অডিট পরিচালনার ওপর জোরারোপ করেন। তিনি বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে ভালো প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত শেয়ার নেই, যার কারণে আমরা অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে তিনি উৎপাদনশীল খাতে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ এবং ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন। তিনি বিদ্যমান নীতিমালার সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নীতিমালার ধারাসমূহের অস্পষ্টতা দূরীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান এবং আরএসএ কনসালটিং পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান নিরুৎসাহিত করতে পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেট চালু করার প্রস্তাব করেন। তিনি খেলাপি ঋণের প্রবণতা কমানোর জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে করপোরেট গভর্নেন্স বাড়ানো, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানো, খেলাপি ঋণে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর জোরারোপ করেন। সোহেল আর কে হোসেন বলেন, আর্থিক খাতের বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলায় দুর্বল ব্যাংকসমূহের একত্রীতকরণ, বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও স্বাধীনতা প্রদান, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন, মূলধন অনুপাতের পর্যাপ্ততা বাড়ানো, অ্যাডভান্স অন ডিপোজিটের (এডি) অনুপাত না ভঙ্গ করা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপর জোর দেন, যা কিনা সকল লিকুইডেশনের জন্যও প্রয়োজনীয়। তিনি খেলাপি ঋণ কমাতে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ স্থাপনের সুপারিশ করেন।

নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ড. মো. কবির আহমেদ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিচালক মো. আবুল কালাম অংশগ্রহণ করেন। মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এমএস সেকিল চৌধুরী, প্রাক্তন সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ, প্রাক্তন পরিচালক এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান এবং মেজর (অব) ইয়াদ আলী ফকির, আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আহসান উল্ল্যাহ, ইউনাইটেড ফিন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইসার তামীজ আমিন, ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সায়েদুর রহমান, এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কান্তি কুমার সাহা, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক মোহাম্মদ আলী, এফসিএ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা আনয়নে ঋণ আদায়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক ইঞ্জিঃ আকবর হাকিম, আশরাফ আহমেদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, ইঞ্জিঃ মো. আল আমিন, শামস মাহমুদ এবং প্রাক্তন সভাপতি আর মাকসুদ খান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

advertisement