advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘরে জংধরা টিনের চাল দরজা-জানালা ভাঙা

মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ চিরিরবন্দর
২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২১
advertisement

গত ১৯ বছরেও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রেলব্রিজ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর সংস্কার হয়নি। ঘরে জংধরা টিনের চাল নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে ঘরগুলোর দরজা-জানালা। এ প্রকল্পে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে ৩০টি পরিবার।

উপজেলা ভূমি কার্যালায় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে সরকারি অর্থায়নে আবদুলপুর ইউনিয়নের চিরিরবন্দর গ্রামের দুই দশমিক ৮৫ একর খাসজমিতে আশ্রায়ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন ৩৭ এসটি ব্যাটালিয়ন ইউনিট এটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় চিরিরবন্দর রেলব্রিজ আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রকল্প এলাকায় মসজিদ, কবরস্থান, পুকুর ও সমবায় সমিতির কার্যালয় করার সুযোগ-সুবিধা ছিল না। শুধু টিনের তৈরি তিনটি ব্যারাক (লম্বা ঘর) তৈরি করা হয়। প্রতিটি ব্যারাকে ১০টি করে ছোট ঘর রয়েছে। ওই সময় ৪ শতাংশ জমিসহ একটি ভূমিহীন পরিবারকে ব্যারাকের একটি করে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পে ১০টি পরিবারের জন্য যৌথভাবে ৪টি শৌচাগার ও দুটি গোসলখানা নির্মাণ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি ব্যারাকের জন্য একটি করে নলকূপ দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৯ বছরে নলকূপ, ঘরসহ অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে।

গত ১৩ অক্টোবর আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ব্যারাক জরাজীর্ণ। ব্যারাকের বেশিরভাগ চালের টিন আলগা হয়ে গেছে। অনেক পরিবার নিজেদের টাকা দিয়ে দুই-একটি করে চালের টিন জোড়াতালি দিয়ে বাস করছে। নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শৌচাগারগুলো নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাসিন্দারা শৌচাগারের ভেঙে যাওয়া দরজা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।

প্রকল্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ও ফজলার রহমান জানান, সরকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করতে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পরও সংস্কার না করায় প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে তারা নানা সমস্যার মধ্যে থাকলেও সরকারিভাবে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

প্রকল্পের ৩ নম্বর ব্যারাকের বাসিন্দা ও চিরিরবন্দর রেলওয়ে ব্রিজ আশ্রয়ণ প্রকল্প সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, প্রতিটি ব্যারাকের চালের টিনে ছিদ্র হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বসে থাকতে হয়। এ ছাড়া বর্ষাকালে প্রকল্প এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে ভূমিহীন ৩০ পরিবারের প্রায় ১৫০ জন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এখানে বাস করছে।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী জানান, শিগরিরই আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

advertisement