advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অর্ধযুগ বন্ধ জ্ঞানের বাতিঘর

বিষ্ণুপদ রায় পীরগঞ্জ
২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২১
advertisement

আগে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠাগার খোলা রাখা হতো। তখন সকালে তেমন পাঠক না এলেও সন্ধ্যায় ভিড় জমত বইপ্রেমীদের। নাটক, গল্প ও কবিতাসহ বিভিন্ন গুণীজনের জীবনী এবং রাজনৈতিক বইগুলোর প্রতি পাঠকদের আকর্ষণ ছিল বেশি। স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা আসত দলবেঁধে। এখন ওই সুযোগ নেই। অর্ধযুগ ধরে বন্ধ জ্ঞানার্জনের এই বাতিঘরের দরজা। আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের নাট্যকার গৌতম দাস বাবলু। তার মতে, অর্ধযুগ ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে পাঠাগারটির আশপাশেই যান না কেউ। দরজা-জানালায় ঘুণ ধরেছে। ভেতরের নষ্ট হচ্ছে হাজারো মূল্যবান বই ও আসবাবপত্র। দেখার কেউ নেই।

পীরগঞ্জ উপজেলা উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলার সরকার বলেন, পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বই পড়ার অভ্যাসটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বই পড়ার মতো তেমন পাঠাগার নেই, পরিবেশও নেই। পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক বলেন, অনেক অনুরোধ করে পাঠাগারটি চালু করা হলেও কেন জানি বন্ধ হয়ে গেল। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।

সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান বলেন, আগের মতো বই পড়ার দিন এখন আর নেই। এক সময় পাঠাগারটি জমজমাট ছিল। সেখান থেকে বই পড়ে জ্ঞানার্জন করা হতো। এখন ওই সুযোগ নেই। তবে অচিরেই এটি চালু করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহরের পাবলিক ক্লাব চত্বরে ১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে পাঠাগারটি স্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবুল হাসনাত মোজাফ্ফর করিম পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন। তখন থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ভালোভাবেই চলে পাঠাগারটি। নতুন নতুন বইও কেনা হয়। এর পর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হলে পাঠাগারটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পৌরসভা সেখানে আকতারুল ইসলাম নামে একজনকে সহকারী লাইব্রিয়ান নিয়োগ দেয়। ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায় পাঠাগারের দরজা। এভাবেই কেটে যায় কয়েক বছর। এ সময় পাঠাগারের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও আলমারি ঘুণে ধরে। নষ্ট হয় অনেক বই। এর পর পাঠচক্র নামে একটি সংগঠন পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে মাঝখানে পাঠাগারটি আবারও চালু করার ব্যবস্থা করে। সংস্কার কাজও করা হয়। পৌরসভার এক কর্মচারীকে প্রেষণে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বেশিদিন টেকেননি। কর্মচারী সংকটের অজুহাতে কয়েক মাসের মাথায় তাকে আবারও পৌরসভায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় পাঠাগারের দরজায়। ওই থেকে বন্ধ জ্ঞানার্জনের বাতিঘরটি। পাঠাগারের বারান্দা ও এর আশপাশে ঝালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। স্তূপ করে রাখা হয়েছে লোহা-লক্কড়।

advertisement