advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গোপন সম্পদের হিসাব চেয়ে ব্যাংকগুলোকে নোটিশ

হারুন-অর-রশিদ
২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০৮:৩৩
advertisement

নিজস্ব সম্পদের বাইরে গোপনে জমি-ভবন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ভোগ করছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে এই সম্পদের বিবরণ নেই। এই সম্পদ থেকে অর্জিত আয় কীভাবে কে ভোগ করছে, তার তথ্যও জানা যাচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নন-ব্যাংকিং সম্পদ সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে বাধ্য নয় ব্যাংকগুলো।

এই সম্পদের অপব্যবহার রোধে নেই কোনো আইনি কাঠামো। তাই ব্যাংকগুলোর কাছে কী পরিমাণ নন-ব্যাংকিং সম্পদ আছে তা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নোটিশ করা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

আইন অনুসারে, প্রতিটি ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশ স্থায়ী সম্পদ রাখতে পারে। এ সম্পদ ভোগদখল করার আইনগত অধিকার রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন সময় ঋণগ্রহীতাদের বন্ধকী সম্পদ নিলামে তুলে ব্যাংক নিজেই কিনে নেয়। উপযুক্ত দরদাতা পাওয়া না গেলে ব্যাংক জামানত রাখা সম্পদ কিনতে পারে। পরবর্তী সময়ে এগুলো স্থায়ী সম্পদ হিসেবে দেখাতে হবে নতুবা তা বিক্রি করে দিতে হবে।

কিন্তু কোনো ব্যাংকের আগে মূলধনের ২৫ শতাংশ স্থায়ী সম্পদ থাকলে সেই ব্যাংক ওই সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে না। তাকে অবশ্যই বিক্রি করে সেই টাকা ব্যাংকের আয় দেখাতে হবে। বিক্রির জন্য ব্যাংকগুলো সাত বছর সময় পায়। এর মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে আরও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সময় নিতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ ব্যাংক গোপনেই এ সম্পদ ভোগদখল করে। যেহেতু কোনো রিপোর্টে এই তথ্য ব্যাংকগুলো পরিবেশন করে না, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানার সুযোগও পায় না। মাঝেমধ্যে দু-একটি ব্যাংক সম্পদ বিক্রির জন্য আবেদন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। সেটি করা হয় নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ২-৪ বছর পর।

সম্প্রতি ছয় গ্রাহকের কাছ থেকে কেনা জমি নির্ধারিত সময়ে বিক্রি করতে না পেরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে সিটি ব্যাংক। এর মধ্যে দুই গ্রাহকের সম্পদ ১২ বছর ধরে ব্যাংক কোনো অনুমোদন ছাড়াই ভোগদখল করছে। অন্য সম্পদগুলো সাত বছর অতিক্রম করেছে।

ওই সম্পদগুলোর ক্ষেত্রে ১২ বছর হতে যে সময় বাকি, সেই সময় বিবেচনা করে তিন-চার বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর বছরের অধিক সময় ধরে দখল করা সম্পদ আগামী তিন মাসের মধ্যে বিক্রি করে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ ব্যাংকের কাছে এ ধরনের সম্পদ আছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এ সম্পদগুলো গোপন রেখেছে। এটি গুরুতর অপরাধ। ব্যাংকের যাবতীয় সম্পদ মূলত জনগণের অর্থ। জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা ব্যাংকের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো সম্পদের তথ্য গোপন করে তা ভোগদখল করা আমানতের খিয়ানত করা। এটি ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ।

কোনো ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তাই আমানতকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কী পরিমাণ নন-ব্যাংকিং সম্পদ ব্যাংকগুলো ভোগ করছে তার তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর বিচার-বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইনে নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়মনীতির উল্লেখ নেই। এই সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, অপব্যবহার করলে তার শাস্তি কী-এ সম্পর্কিত কোনো গাইডলাইন নেই। তাই ‘নন-ব্যাংকিং পলিসি’ শীর্ষক একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

এই নীতিমালা আন্তর্জাতিকমানের করার জন্য প্রতিবেশী দেশসহ অন্য দেশের বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

advertisement