advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিক্ষোভে উত্তাল রাবি ক্যাম্পাস : শিক্ষার্থীকে ছিনতাইকারীদের মারধর

রাবি প্রতিনিধি
২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২৩
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হওয়ায় গতকাল তার সহপাঠীরা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন -আমাদের সময়
advertisement

ছিনতাইকারীর হাতে মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর পরই ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর লাঞ্ছিত হন। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ছিনতাইকারীদের মারধরে আহত শিক্ষার্থী ফিরোজ বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি এখন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাত পৌনে ৮টার দিকে নোটপত্র ফটোকপি করার জন্য বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়াম মার্কেটে যাচ্ছিলেন ফিরোজ। পথিমধ্যে কয়েক যুবক তাদের পথরোধ করে। তারা ফিরোজের বান্ধবীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের মাঠের দিকে হাঁটতে শুরু করে। ফিরোজ তাদের পিছু ধাওয়া করেন। একটু সামনে যেতেই ছিনতাইকারীরা ফিরোজকে ধরে মারধর করতে শুরু করে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। তার চিৎকারে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরোজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফিরোজকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী আবির জানান, চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরোজকে দেখতে পান। পরে তিনি রিকশায় করে রাবির চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ফিরোজকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবীর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে এসআরকে রাজ ও কিশোর কুমার নামের দুই শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীরের গায়ে হাত তোলেন।

এসআরকে রাজ রাবি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। অন্যদিকে কিশোর ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

হুমায়ুন কবীরকে লাঞ্ছিত করায় ডিবি পুলিশ কিশোরকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়।

প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর নামের একজনকে তুলে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে সে ফিরে এসেছে। আর আমরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। তারা এ বিষয়ে তৎপর।

এদিকে ফিরোজ আনামের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।

একই দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন বদরগঞ্জ উপজেলা সমিতি। কর্মসূচি থেকে তারা ফিরোজের চিকিৎসাভার বহনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় স্থানীয় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে নগরীর মতিহার থানা পুলিশ। তারা হলেন- নগরীর তালাইমারি একালাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন, শিরোইল এলাকার রাকিব হোসেনের ছেলে রিফাত হোসেন এবং মির্জাপুর এলাকার খোরশেদ হোসেনের ছেলে পারভেজ। আহত ফিরোজের দায়ের করা মামলায় গত শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

advertisement