advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাদুল্যাপুরে ইমামের খুনি কে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:২৩
advertisement

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার গোবিন্দ রায় দেবোত্তর গ্রামে গতকাল শনিবার আমগাছ থেকে এক ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (৪৭) নামে ওই ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলার দুর্গাপুর গাবেরদিঘি জামে মসজিদের পেশ ইমাম এবং উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, ধারের টাকা পরিশোধ করার পরও সুদ না দেওয়ায় এলাকার এক দাদন ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীরা আবুল কালামকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়।

সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, জুমার নামাজ পড়ানোর উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। শনিবার ভোরে এলাকাবাসী গোবিন্দ রায় দেবোত্তর গ্রামে একটি আমগাছের ডালের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

আবুল কালামের স্ত্রী লাবণী বেগমের অভিযোগ, পলাশবাড়ী উপজেলার উদয়সাগর এলাকার দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের সঙ্গে তার স্বামীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। প্রায় আট মাস আগে অভাবে পড়ে শাহারুলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেন তিনি। কিছুদিন আগে সেই টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন, ওই টাকার সুদ দিতে হবে। গত বুধবার শাহারুল তার সহযোগী শরিফুল ও মিলনকে নিয়ে ইমামের বাড়ি আসেন এবং সুদের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে এতে অপারগতা প্রকাশ করায় দাদন ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।

এর মধ্যে শুক্রবার জুমার নামাজ পড়াতে গিয়ে আবুল কালাম আর ফেরেননি। এমনকি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, মসজিদে যাওয়ার পথে ওই দাদন ব্যবসায়ীরা তাকে তুলে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি ওই রাতেই পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ম-লকে জানানো হয়।

এ বিষয়ে ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ম-লের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে পেরে রাতেই সাম্ভব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া হয়। কিন্তু ইমাম আবুল কালাম ও দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের কোনো সন্ধান পাইনি তখন।’ ওসি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ইমামের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’ তবে ইমামের স্ত্রী লাবণী বেগমের দাবি, ওই দাদন ব্যবসায়ীরাই তার স্বামীকে মেরে লাশ আমগাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। এ বিষয়ে দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

advertisement