advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যে ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর ২০১৯ ১৭:৫৮ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৯ ২২:০৭
সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বিসিবির একাডেমি মাঠে জড়ো হয়েছেন খেলোয়াড়রা। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

আসন্ন ভারত সফরের আগেই বিস্ফোরণ বাংলাদেশ ক্রিকেটে। বেতন-ভাতাসহ নানা অসংগতি নিয়ে বোর্ডের ওপর অসন্তোষ দেখিয়েছেন ক্রিকেটাররা। দাবি না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আজ সোমবার ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হয়ে এ ঘোষণা দেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারিশ্রমিক বাড়ানো, ক্রিকেটারদের প্রতি বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোসহ মোট ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা।

সেই ১১ দফা দাবি আজ সাংবাদিকদের পড়ে শোনান ক্রিকেটাররা

১. আমাদের প্লেয়ারদের উন্নয়নের যে অ্যাসোসিয়েশন আছে (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-কোয়াব) আমরা কখনো দেখিনি উনারা আমাদের পক্ষে কথা বলেছেন। অতএব কোয়াবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি যারা আছেন তাদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আমাদের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি কে হবেন সেটা আমরা প্লেয়াররা নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক করব।

২. গত বেশ কয়েক বছর ধরে আপনারা জানেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অবস্থাটা কী। যেভাবে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে তাতে সব প্লেয়ারই অসন্তোষ প্রকাশ করছে। পারিশ্রমিকের একটা মানদণ্ড বেধে দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক সীমাবদ্ধতা এখানে আছে। আমরা যেভাবে আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম এবং প্লেয়াররা যেভাবে ক্লাব অফিসিয়ালদের সঙ্গে ডিল করত সেট এখন আর নেই। আমাদের দাবি হচ্ছে, আগে যেভাবে প্রিমিয়ার লিগটা চলত সেভাবে যেন আমরা পাই।

৩. আমাদের তৃতীয় দাবি বিপিএল নিয়ে। আপনারা জানেন, এবারের বিপিএল অন্য নিয়মে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেটা মূল দাবি, সেটা হলো বিপিএল যেন আগের নিয়মে চলে আসে এবং আমাদের স্থানীয় প্লেয়ারদের ন্যায্য মূল্যটা যেন বিদেশি প্লেয়ারদের সঙ্গে থাকে। আমরা দেখি যে, বিপিএলে বিদেশি প্লেয়াররা আসে এবং তাদের অনেক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়রা সেটা পায় না। বিসিবিকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। আপনারা যদি খেয়াল করে দেখন বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে যে যে প্লেয়ার তারা নিলামেই নিশ্চিত করে যে কোন গ্রেডে থাকবে। আমাদেরও সেই সম্মানটা দেওয়া উচিত।

৪. আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্লেয়ারদের বেতন ১ লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমরা এই দাবিটা অবশ্যই জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্লেয়ারদের বেতন অনেক কম। সেটা ন্যূনতম ৫০ ভাগ বাড়াতে হবে। অনুশীলন সুবিধা বাড়াতে হবে। জিম, ইনডোর, মাঠ সব কিছুর সুবিধা বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেনার নিয়োগ দিতে হবে। আমরা চাই এটা আসছে মৌসুমের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই না প্রতিটি অনুশীলনই ঢাকাতে হোক। ঢাকার বাইরে বরিশাল তাদের হোম ভেন্যুতে, খুলনা তাদের হোম ভেন্যুতে অনুশীলন করবে তাইলেই ক্রিকেটের প্রসার বৃদ্ধি পাবে।

আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই বল দিয়ে খেলা হয় না। ফলে আমাদের নতুন করে বলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এই জিনিসটা যেন আমাদের না করতে হয়।

ডেইলি অ্যালাওন্স বাবদ আমাদের ১৫শ টাকা দেওয়া হয়। আমার মনে হয় না এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত। যে ফিটনেস লেভেল বিসিবি প্লেয়ারদের থেকে দাবি করে মনে হয় না সেটা ১৫শ টাকায় সম্ভব। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে এবং ভালো হোটেলে থাকতে হবে। সেটা বিবেচনা করে যে টাকা দিলে ভালো হয় বিসিবি সেটা যেন করে।

ভ্রমণ : এটা বড় একটি ইস্যু। ভ্রমণ বাবদ যে টাকা দেওয়া হয় সেটা পর্যাপ্ত না। আমাদের ২৫শ টাকা দেওয়া হচ্ছে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ভ্রমণ বাবদ। আপনারা বলতে পারেন ২৫শ টাকায় বাস ছাড়া অন্য কোনোভাবে সে পৌঁছাতে পারে? অতএব বিসিবি থেকে যেন বিমান ভাড়া দেওয়া হয় সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

হোটেলে জিম এবং সুইমিং পুল অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ চার দিনের ম্যাচ শেষে প্রতিটি প্লেয়ারের অনেক কষ্ট হয়। তো এখানে অবশ্যই রিকভারির জায়গা থাকতে হবে। টু স্টার বা থ্রি স্টার হোটেলে প্লেয়ারদের থাকা সম্ভব নয়।

বাস : আপনারা দেখেন আমরা কি বানে চলা ফেরা করি। এটা প্লেয়ারদের জন্য একবারেই আরামদায়ক নয়। এতএব একটা এসি বাস অবশ্যই যেন থাকে।

৬. জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাপী যদি আপনারা চিন্তা করেন আমাদের চুক্তিভুক্ত প্লেয়ারদের সংখ্যা কম। চুক্তিভুক্ত প্লেয়ারদের সংখ্যা ৩০ জন করা উচিত এবং করতে হবে। শুধু তাই নয়, আমাদের বেতন বাড়াতে হবে। তিন বছর যাবত আমাদের বেতন বাড়নো হয় না। অতএব বেতনও বাড়াতে হবে।

৭. আমাদের গ্রাউন্ডস ম্যান, কোচ মাস শেষে অনেক কম টাকা বেতন পায়। বিদেশি প্লেয়াররা যে বেতন পায় সে তুলনায় আমাদের স্থানীয়দের বেতন খুব কম পায়। আমাদের আম্পায়ার, ফিজিও ও ট্রেনারদেরও একই অবস্থা। অতএব তাদের বেতনও বাড়ানো উচিত।

৮. ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা দুই ধরনের লঙ্গার ভার্সন খেলি বিসিএল ও এনসিএল। কিন্তু ওয়ানডেতে আমরা একটা মাত্র ভার্সন খেলি। এই সংখ্যাটি আরও বাড়ানো উচিত। টি-টোয়েন্টিতে আমরা বিপিএল নামক মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি লিগ খেলি। বিপিএলে আরও ভালো করতে  অন্তত আরও একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলা উচিত। আগে জাতীয় লিগে আমরা একটি ওয়ানডে খেলতাম, যা এখন আমরা পাই না। সেটা বাড়ানো হোক।

৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য একটি নির্ধারিত ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। এটা হলে আমরা আগে থেকে আমরা থেকে প্রস্তুতি নিতে পারি।

১০. প্রিমিয়ার লিগে যে বকেয়া সেটা যেন ক্লিয়ার করা হয়। প্রতিবছর যে সময়টা দেওয়া থাকে তার মধ্যে যেন ক্লিয়ার করা হয়।

১১. ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে একটি নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে যে, দুজনের বেশি খেলতে পারবে না। সেই জায়গায় আমাদের জাতীয় দলের বাইরে যদি ফ্রি থাকি এবং আমাদের যদি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা কয়েকটি ম্যাচ বেশি খেলতে পারব।

advertisement
Evall
advertisement