advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কিশোরগঞ্জে মোবারক হত্যা : ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
২১ অক্টোবর ২০১৯ ২০:৩৬ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৯ ২০:৩৬
প্রতীকী ছবি
advertisement

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের চাঞ্চল্যকর মোবারক হোসেন ভূঁইয়া (৪৫) হত্যা মামলায় একই পরিবারের ১০ জনসহ মোট ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩। মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার আরও দুই আসামিকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. মনির কামাল এ রায় দেন।

২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোবারক হোসেন ভূঁইয়া প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন। নিহত মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বাজিতপুর উপজেলার গোথালিয়া ভূঁইয়াবাড়ীর মৃত ইশাদ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ঢাকা জজ কোর্টে আইনজীবীর কেরানি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামি হলেন, মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মহুব, মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ওরফে বাদল ভূঁইয়া, আফজাল ভূঁইয়া, এমদাদুল হক ওরফে সিকরিত ভূঁইয়া, নয়ন ভূঁইয়া, ভুলন ভূঁইয়া ওরফে ভুলু, রুহুল আমিন, শিপন মিয়া, সুলতানা আক্তার, দেলোয়ার হোসেন, বিধান সন্যাসী ও নিলুফা আক্তার।

তাদের মধ্যে এক পরিবারেরই ১০জন সদস্য রয়েছেন। ছয় ভাই, এক ভাইয়ের ছেলে, এক ভাইয়ের স্ত্রী, এক বোন ও এক ভগ্নিপতি এ মামলার আসামি।

তারা হলেন, গোথালিয়া ভূঁইয়াবাড়ীর মৃত হাজী সাইদুর রহমান ভূঁইয়া ছয় ছেলে মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মহুব, মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ওরফে বাদল ভূঁইয়া, আফজাল ভূঁইয়া, এমদাদুল হক ওরফে সিকরিত ভূঁইয়া, নয়ন ভূঁইয়া ও ভুলন ভূঁইয়া ওরফে ভুলু, এক মেয়ে উপজেলার মইতপুরের কাজী জজ মিয়ার স্ত্রী নিলুফা আক্তার, আরেক মেয়ের জামাই নবুরিয়া গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন, এক নাতি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মহুবের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলিপ এবং এক পুত্রবধু সিকরিত ভূঁইয়ার স্ত্রী সুলতানা আক্তার।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামির মধ্যে শিপন মিয়া একই গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ওরফে রাজা মিয়ার ছেলে এবং পরেশ সন্যাসীর ছেলে বিধান সন্যাসী।

এ ছাড়া তাসলিমা আক্তার ও শামীম ওরফে ফয়সাল বিন রুহুলকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং জয়নাল আবেদীন ওরফে ফালুকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। আর মামলার ১৬ অভিযুক্তের মধ্যে সিকরিত ভূঁইয়ার ছেলে নুরুজ্জামান কিশোর হওয়ায় তার বিচার কিশোর আদালতের আওতাধীন রয়েছে।

আসামিদের মধ্যে সুলতানা, দেলোয়ার, বিধান, নিলুফা, তাসলিমা আক্তার ও শামীম ওরফে ফয়সাল বিন রুহুল পলাতক। বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মাহাবুবুর রহমান রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদী অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন ও প্রতিবন্ধী শিশু পাঠশালা নামে প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি ও ভিকটিম মোবারক হোসেন ভূঁইয়া ছিলেন নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। আসামিরা দীর্ঘদিন থেকে ওই প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের বিরোধিতা করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সংস্কারমূলক কাজ করতে গেলে আসামিরা কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামিরা প্রতিষ্ঠানটি ভাঙচুর করতে যান। এতে বাধা দিলে পরিকল্পিতভাবে মোবারক হোসেন ভূঁইয়াকে তারা হত্যা করেন।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর মোবারক হোসেনের ছোট ভাই মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মকবুল হোসেন মোল্লা ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচারকালে ট্রাইব্যুনাল ৩১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আসামিদের মধ্যে ১১ জন সাফাই সাক্ষী দেন।

advertisement